২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তরুণ ফ্যান্টাসি লেখক ॥ এ্যামেলিয়া এটওয়াটার-রোডেস

  • আরিফুর সবুজ

‘ইন দ্য ফরেস্টস অফ দ্য নাইট’ বইটি প্রকাশের পর বেশ হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। মিলিয়নেরও বেশি কপি বই প্রকাশের অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। ভ্যাম্পায়ার নিয়ে লেখা এই বইটি তরুণ পাঠকদের পছন্দের শীর্ষে চলে আসে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই বইটি যখন প্রকাশ হয় তখন এর লেখকের বয়স ছিল মাত্র পনেরো বছর। বইটি লিখেছেন মাত্র তেরো বছর বয়সে। বলছি তরুণ খ্যাতিমান লেখক এ্যামেলিয়া এটওয়াটার-রোডেস সম্পর্কে। একত্রিশ বছর বয়সে তিনি অবস্থান করছেন খ্যাতির শীর্ষে। অবশ্য লেখালেখির হাতে খড়ির পর থেকেই তিনি তরুণদের কাছে ফ্যান্টাসি লেখক হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করা এই লেখক স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকেই লেখক হতে চেয়েছিলেন। এজন্য লেখালেখিও শুরু করে দিয়েছিলেন। বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ভ্যাম্পায়ার কাহিনী।

প্রথম বই প্রকাশ করতে গিয়ে রোডেসকে কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি। কম্পিউটার ভাইরাসে তাঁর পা-ুলিপি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু তিনি দমে যাননি। গলদঘর্ম হয়েও আবার নতুন করে লেখা শুরু করেন। বইটি তার চৌদ্দতম জন্মদিনে প্রকাশিত না হলেও ঠিকই এক বছর পর অর্থাৎ ১৯৯৯ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয় এবং আমেরিকার কিশোর-কিশোরীর হৃদয় জয় করে নেয়। আমেরিকার চৌহদ্দি ছাড়িয়ে ইউরোপেও ছড়িয়ে যায় পনেরো বছরের কিশোরী লেখক এ্যামেলিয়া এটওয়াটার-রোডেসের নাম। তাঁর এই বইটি সমালোচকদেরও প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে পাবলিশার্স উইকলিতে বইটির ব্যাপক প্রশংসা করা হয়। প্রশংসা বাক্য ও সুনাম অর্জন তাঁকে উৎসাহিত করেন পাঠককে আরও নতুন নতুন বই উপহার দেয়ার। এরই ফলশ্রুতিতে পাঠককে অনেক উপন্যাস উপহার দিয়েছেন এই তরুণ ঔপন্যাসিক। আর তাঁর প্রতিটি উপন্যাসই পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়।

ডেমোন ইন মাই ভিউ (২০০০) বইটি প্রকাশিত হলে এটিও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়। তরুণ প্রজন্মের কাছে বইটি খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করে। রোডেস কনকর্ড কার্লিসল হাইস্কুল পাস করেন ২০০১ সালে। এই হাইস্কুল ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালীনও তাঁর লেখালেখি থেমে ছিল না। তিনি এই সময় বের করেন ‘শ্যার্টাড মিরর’ (২০০১) বইটি। যথারীতি এই বইটিও সমালোচক ও পাঠক সমাদৃত হয়। এর পরের বছর তিনি রচনা করেন ‘মিডনাইট প্রিডেটর’ (২০০২) নামক আরও একটি উপন্যাস। চারটি উপন্যাসের পর তিনি ভিন্নধর্মী রচনার কথা চিন্তা শুরু করেছিলেন। ভ্যাম্পায়ের কাহিনী আগের উপন্যাসগুলোতে প্রাধান্য পেলেও পরবর্তী কেইসা’রা সিরিজে তিনি ভ্যাম্পায়ারের পরিবর্তে শেইপসিফটারদের জগতকে প্রাধান্য দেন। এই সিরিজের প্রতিটি উপন্যাস উত্তম পুরুষ রচিত। এই সিরিজের প্রথম বই ‘হোকসং’ (২০০৩)। কাহিনীর পটপরিবর্তনের কারণে পাঠক সমাজে বইটি সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়। এই বইটি স্কুল লাইব্রেরী জার্নালের শ্রেষ্ঠ বই হিসেবে নির্বাচিত হয়। এছাড়াও ভয়েস অব ইয়ুথ এ্যাডভোকেটস কর্তৃক বেস্ট সায়েন্স ফিকশন হিসেবেই বইটি নির্বাচিত হয়। এই বইটি ড্যানিকা শ্যারড্যা নামক এক তরুণী রাজকন্যা তথা এ্যাভিয়ান কোর্টের হোক শেইপসিফটারের নিজ কাহিনী বর্ণনার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেছে। এই বইটির পর রোডেস এই সিরিজের আরও চারটি বই রচনা করেন। বইগুলো হলোÑ স্ন্যাকচার্ম (২০০৪), ফালকন ড্যান্স (২০০৫), উলফক্রাই (২০০৬), ওয়েভার্নহেইল (২০০৭)। এই প্রতিটি বইই পাঠক ও সমালোচক কর্তৃক প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়। এই সময়টাতে তিনি ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ম্যাসাচুসেটস বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও লেখাপড়া করেন।

কেইসারা সিরিজ রচনা শেষ করার পরের বছর অর্থাৎ ২০০৮ সালে তিনি রচনা করেন পারসিসটেন্স অব মেমোরি। এটি ছিল তাঁর দশম রচনা। এই বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। আর এর পরের বছর তাঁর প্রথম চারটি উপন্যাসসমগ্র ডেন অব শ্যাডোস নাম দিয়ে প্রকাশিত হয়। এই বছরেই তিনি তাঁর ব্লগে ম্যানডি ম্যাকক্রেনস্কির সঙ্গে সম্পর্কের কথা লেখেন। এরপর ২০১০ সালে রোডেস আর ম্যানডি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনের চরম রোমাঞ্চকর সময়গুলোতেও রোডেসের লেখালেখি থেমে থাকেনি। তিনি বিয়ের বছরই প্রকাশ করেন টোকেন অব ডার্কনেস (২০১০)। এই বইটিও যথারীতি পাঠক ও সমালোচক সমাদৃত হয়। এরপরের বছরগুলোতেও তিনি পাঠককে একটি করে বই উপহার দিয়েছেন। অল জাস্ট গ্লাস (২০১১), পয়জন ট্রি (২০১২), প্রমিসেস টু কিপ (২০১৩)Ñ এই কয়টি বই এ্যামেলিয়া এটওয়েটার-রোডেস বিবাহ পরবর্তী বছরগুলোতে রচনা করেন। আর এই বইগুলোও ব্যাপক কাটতি তথা সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। এখন ম্যায়ভেরা ট্রিলজি রচনার কাজে হাত দিয়েছেন। এই সিরিজের তিনটি বই যথাক্রমে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে প্রকাশিত হবে।

তরুণ এই লেখককে লেখালেখিতে অনুপ্রাণিত করেছেন তাঁরই স্কুলের ইংরেজীর শিক্ষক। লিখতে গিয়ে এ্যামেলিয়া এটওয়েটার-রোডেস অর্জন করেন বিপুল পরিমাণ খ্যাতি। তরুণ পাঠকদের হৃদয় তিনি জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁকে নিয়ে এন্টারটেনমেন্ট উইকলি, ইউএস টুডে, দ্য নিউইর্য়কার, দ্য রোজই ও’ডোনেল শো, সিবিএস দিস মর্নিং এ ফিচার লেখা হয়েছে। তাঁর অনেক উপন্যাসই এএলএ র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা স্থান দখল করে নিতে সক্ষম হয়।