১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন’

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সোয়ান গার্মেন্টের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

রাজধানীর শাহবাগে সোমবার ‘গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’ আয়োজিত সংহতি সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে এই সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এম এম আকাশ, শ্রমিক নেতা জসিম উদ্দিন মণ্ডল, কে এম রুহুল আমিন, সিপিবি নেতা হায়দার আকবর খান রনো, গণফোরাম নেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবু সাঈদ।

যদিও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ইতোমধ্যে বলেছেন, সোয়ান গ্রুপের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কী করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন তারা।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেক এলাকার সোয়ান গার্মেন্টস ও সোয়ান জিনস সোয়ান গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চীনা নাগরিক মিং ইউন হন গত এপ্রিলে আত্মহত্যা করেন। তারপর থেকে দুই কারখানার ১ হাজার ৩০০ শ্রমিক বেতন পান না। বেতন-ভাতা না পেয়ে শ্রমিকেরা ১২ জুলাই থেকে প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি শুরু করেন।

মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় ব্যাংকের সম্পদ বিক্রি করেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম।

বিজিএমইএ ও ইসলামী ব্যাংক সূত্র জানায়, সোয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিং ইউন হন ১৯৮৫ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক। চীনের নাগরিক ইউন হনের দ্বিতীয় স্ত্রী ইং লি গ্রুপের পরিচালক। গত এপ্রিল এমডি আত্মহত্যা করলে কোম্পানিটির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ইউন হনের প্রথম স্ত্রী (তালাকপ্রাপ্ত) পেট্রিসিয়া হন দেশে এসে মালিকানা দাবি করেন। তবে আদালত থেকে তিনি এখন পর্যন্ত বৈধ মালিকানার ছাড়পত্র বা সাকসেশন সনদ পাননি। পেট্রিসিয়া ইসলামী ব্যাংকে ঋণ পেতে যোগাযোগ করলেও তাঁকে সাকসেশন সনদ নিয়ে তারপর ঋণের জন্য আবেদন করতে বলা বলা হয়েছে।

এরপর সোয়ান শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহম্মদকে আহ্বায়ক করে শ্রম মন্ত্রণালয় নয় সদস্যের কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে নূন্যতম একমাসের বেতন দেওয়ার ইসলামী ব্যাংককে বলা হয়।

মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহম্মদ জনকণ্ঠকে বলেন, জবাবে ইসলামী ব্যাংক বলেছে ওই কারখানার প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত কোন ধরনের ঋণ হিসেব দেওয়া সম্ভব নয়। তবে, তারা সিএসআর হিসেবে ১ মাসের বেতন দেওয়ার অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যা প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তবে, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন রয়েছে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিএসআর বিদ্যমান নীতিমালায় বেতন-ভাতা সিএসআর হিসেবে দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পেলে এই টাকা দেওয়া সম্ভব হবে জানান কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহম্মদ।

সোমবারের সমাবেশে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, শ্রমিকদেরর টানা আন্দোলনের কারণে সোয়ান গার্মেন্টের তাদের ন্যায্য দাবির আংশিক হলেও পূরণের ঘোষণা এসেছে। সারা দেশের শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন অব্যাহত রাখলে সরকার সব দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে।

এমএম আকাশ বলেন, সোয়ান গার্মেন্টে যে ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে আইন অনুযায়ী এক্ষেত্রে শ্রমিকরা তিন মাসের বেতন পাওয়ার কথা।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বিপদকালীন সময়ে অর্থ বরাদ্দের জন্য সরকার রফতানির ওপর কর ধরে। সেই করের টাকা থেকে সরকার চাইলে শ্রমিকদের টাকা দিয়ে দিতে পারে।

রুহুল আমিন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা না গেলে, যা যা করা দরকার তা-ই করা হবে।’ আর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান প্রবীণ শ্রমিক নেতা জসিম মণ্ডল।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, ‘ইসলামী ব্যাংক সোয়ানের সব সম্পদ কুক্ষিগত করার চক্রান্ত করছে’।