১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পেঁয়াজের ঝাঁজ

বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম এবং তা এক লাফে দ্বিগুণ হয়েছে। এমনিতে মসলা জাতীয় এ সবজিটি ছাড়া বাঙালীর রসনার তৃপ্তি অকল্পনীয়। খাবারের স্বাদ বাড়াতে মুখরোচক এ পণ্যটির কদর বিশ্বজুড়েই। অতিবৃষ্টি ও মৌসুমী বায়ু প্রতিকূলে থাকায় গত এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। তদুপরি রফতানি মূল্য দ্বিগুণ করেছে পেঁয়াজের প্রধান উৎস ভারত। দাম বাড়ার এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারেও বেড়ে গেছে এর দাম। এতে আমদানিকারক, পাইকার ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের এখন পোয়াবারো। রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চট্টগ্রামের বাজারেও একই অবস্থা। অপরদিকে দুই বছরের মধ্যে ভারতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে পেঁয়াজের দাম। সরবরাহের ঘাটতির কারণে দেশটির পাইকারি বাজারে চলতি মাসে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশ। ভারতের খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতিকেজি ৪০ রুপী। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভারত নিজেই ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করছে। বাংলাদেশের পেঁয়াজ আমদানির বড় অংশ আসে ভারত হতে। ফলে পেঁয়াজের সরবরাহে সঙ্কট দেখা দিয়েছে বাংলাদেশেও। এতে বেড়ে গেছে পণ্যটির দাম। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পেঁয়াজ সিন্ডিকেট চক্রের তৎপরতা বাড়তে পারে। এই ক্ষেত্রে দাম নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসায়ীদের সর্তক করার পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া রবি মৌসুমে পেঁয়াজের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে এর প্রভাবও অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়তে পারে। এ আশঙ্কায় জুলাই মাসের শুরুতে ভারত রফতানি মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। রফতানি মূল্য প্রতিটনে বাড়ানো হয়েছে ১৭৫ ডলার। ন্যূনতম রফতানি মূল্য আগে ছিল ২৫০ ডলার বা ১৫ হাজার রুপী; তা বাড়িয়ে করা হয় ৪২৫ ডলার বা ২৭ হাজার ২৭ রুপী। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে টনপ্রতি ১৪৫ ডলার থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ ডলারে। ধারণা করা হচ্ছে, এ অবস্থা সাময়িক। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ প্রক্রিয়া শক্তিশালী হওয়ার সুবাদে বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে আসতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল না হলে দেশীয় বাজারে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে। ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ দুটি দেশে টানা বর্ষেেণর কারণে পেঁয়াজের প্রথম মৌসুম চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানেও একই অবস্থা। আর এ কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্থির। তাই সরকার পেঁয়াজের নতুন বাজার খোঁজা ও আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে। ভারতের বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার থেকে আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০১২ সালেও পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে মিয়ানমার থেকে আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়। তখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অর্থাৎ আমদানি-রফতানি বিষয়ে যথাযথ নিয়ম-পদ্ধতি ছিল না। নগদ অর্থে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছিল।

মানভেদে দেশে এখন প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭৫ টাকায়। রমজান ও কোরবানির ঈদের সময় বাড়তি আরও ১ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা তৈরি হয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মজুদ রয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার টন। আরও চার লাখ টন আমদানি প্রক্রিয়াধীন। তবে পেঁয়াজ সিন্ডিকেট চক্রের তৎপরতায় দাম অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। দাম নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসায়ীদের সর্তক না করা গেলে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পেঁয়াজের দাম নাগালের বাইরে চলে যাবে। এসব ব্যবসায়ীকে নজরদারিতে এনে মূল্য স্বাভাবিক রাখাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। পেঁয়াজের ঝাঁজ আরও বাড়ুক দামের উর্ধগতিতে এমনটা কারোই কাম্য নয়। তাই এখনই লাগাম টেনে ধরা উচিত দাম বাড়ানোর পাগলা ঘোড়ার।