২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে ॥ সোনিয়া

  • ২৫ এমপিকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে কংগ্রেসের অবস্থান ধর্মঘট

দলের ২৫ জন এমপিকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার অবস্থান ধর্মঘট করেছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। পার্লামেন্টের অচলাবস্থা কাটাতে সোমবার কংগ্রেসের ২৫ জন এমপিকে পাঁচ দিনের জন্য বহিষ্কার করেন লোকসভার স্পীকার সুমিত্রা মহাজন। পার্লামেন্ট ভবনের সামনে গান্ধী মূর্তির কাছে সকাল সোয়া ১০টা থেকে ধর্মঘট শুরু করে কংগ্রেস নেতৃত্ব। কালো কাপড় বেঁধে কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, সহসভাপতি রাহুল গান্ধী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংসহ রাজ্য ও লোকসভা- দুই কক্ষের এমপিরাই এ ধর্মঘটে যোগ দেন। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মনমোহন বলেন, এ সরকার জানেই না কিভাবে সংসদ চালাতে হয়। কংগ্রেসের ২৫ জন এমপিকে সাসপেন্ড করার অর্থ বিজেপি আর কোন আলোচনাতেই রাজি নয়। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে হত্যা করার অভিযোগ তুলে সোনিয়া সাংবাদিকদের বলেন, গণতন্ত্রকে খুন করা হলো। সংসদ চালানোটা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু আমার মতে এখানে সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। যেভাবে কংগ্রেস এমপিদের সাসপেন্ড করা হলো তা গণতন্ত্রের বিরোধী। ললিত মোদি থেকে ‘ব্যপম‘ দুর্নীতি নিয়ে মোদি সরকারকে একের পর এক আক্রমণ করেছেন দলের সহসভাপতি রাহুল। তিনি বলেছেন, হাজার হাজার মানুষের জীবন নষ্ট করেছে ব্যপম কেলেঙ্কারি। সুষমা স্বরাজ আইন ভেঙ্গেছেন। তার উপযুক্ত প্রমাণ আছে। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। মোদির বিরুদ্ধে চড়া সুর তুলে রাহুলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী অভ্যাস করে ফেলেছেন নিজের মনের কথা জাহির করতে। উনার উচিত হিন্দুস্তানের মনের কথা শোনা। আমরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছি না। গোটা দেশ চাইছে। আমরা এতটুকু চাপ কমাব না। চাইলে আমাদের সংসদের বাইরে ছুড়ে ফেলুন। জমি বিল নিয়েও সরকারের ভূমিকাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাহুল। এ বিষয়ে সরকারের মুখোমুখি কংগ্রেস দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, জমি মামলায় কংগ্রেস সামনে দাঁড়িয়ে পড়ায় সরকার প্রচুর চিৎকার করেছে। পরে মুখ ঘুরিয়ে পালিয়েছে। দুর্নীতির বিষয়েও আমরা ওদের এভাবে পালাতে বাধ্য করব।

আরজেডি, এনসিপি ও এসপি কংগ্রেসের এই বিক্ষোভকে সমর্থন করলেও পাশে দাঁড়াচ্ছে না এক সময়ের জোটসঙ্গী তৃণমূল। তৃণমূল এমপি সুদীপ ব্যানার্জী মঙ্গলবার এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আজ কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচীতে তৃণমূল অংশগ্রহণ করবে না। বর্ষা অধিবেশনের শুরু থেকেই ললিত মোদির ঘটনায় সুষমা স্বরাজ ও বসুন্ধরা রাজের ইস্তফার দাবিতে পার্লামেন্টে সরব কংগ্রেস। কখনও লোকসভার মধ্যে সেøাগান দিয়ে, কখনও প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা।

সোমবার পার্লামেন্টের ভেতরে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য ২৫ জন কংগ্রেস এমপিকে বহিষ্কার করেন স্পীকার সুমিত্রা। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাম ও তৃণমূলসহ নয়টি বিরোধী দলের এমপিরা। লোকসভা স্পীকারের বক্তব্য, সংসদে শৃঙ্খলা আনতে ৩৭৪(এ) ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।