২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মহাসড়কে বেপরোয়া পরিবহনের মালিক-শ্রমিকরা

মহাসড়কে বেপরোয়া পরিবহনের মালিক-শ্রমিকরা
  • সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অগ্নিসংযোগ অবরোধসহ নানা কর্মসূচী পালন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধের প্রতিবাদে বেপরোয়া পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে অনেকটা গায়ের জোড়ে মঙ্গলবারও বিভিন্ন মহাসড়কে এসব পরিবহন চলেছে। সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন, রাস্তায় গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ নানা কর্মসূচী পালিত হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। অথচ এসব পরিবহনকেই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিকে এক আগস্ট থেকে এসব পরিবহন চলাচল বন্ধ করায় বিভিন্ন স্থানের মহাসড়কে গণপরিবহন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বেড়েছে জনদুর্ভোগ।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, যে কোন মূল্যে এসব পরিবহন বন্ধ করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটিসহ অটোরিক্সা বন্ধের বিকল্প নেই। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এসব পরিবহন বন্ধ করার কথা জানান কর্মকর্তারা।

এদিকে বিকল্প ব্যবস্থা করেই কেবল মহাসড়কে তিন চাকার যান বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী অটোরিকশা (সিএনজি) মোটরবাইক শ্রমিক নেতারা। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে’ মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান। শ্রমিক নেতারা বলেন, গত ৪ দিন ধরে মহাসড়কে তিনচাকার যানবাহন বন্ধ রয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক-মালিক অসহায় হয়ে পড়েছেন। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী সিএনজি শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন নান্নু মুন্সী। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোঃ হারুনুর রশিদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমান উদ্দিন, ঢাকা মহানগর সভাপতি মোঃ ফখরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুখ প্রমুখ। এছাড়া সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পোস্তগোলা দ্বিতীয় ব্রিজসহ কেরানীগঞ্জের একাধিক স্থানে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ করে।

দক্ষিণ চট্টগ্রাম অচলের হুমকি ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা পটিয়া থেকে জানান, চট্টগ্রাম অটো রিকশা-অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে যোগ দিয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়ালখালী ও কর্ণফুলী এলাকার দুই সহস্রাধিক সিএনজি চালক ও শ্রমিক। তাদের মিছিলটি পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এলাকা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহাসড়কের মইজ্যারটেক পর্যন্ত যায়। মিছিলে যোগদান না করে গাড়ি চালানোর কারণে উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ফকিরনিহাট এলাকায় একটি সিএনজি (চট্টমেট্রো চ-৫৩৫৮) ট্যাক্সি ভাংচুর করা হয়। ওই সিএনজি চালক আবুল কাসেমকে (৪০) মারধরও করা হয়। সকালে পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। চট্টগ্রাম অটো রিক্সা-অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সভাপতি মোঃ রবিউল মওলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল গফুর, শাহ আলম হাওলাদার, হারুনুর রশিদ, মোঃ সোলেমান, মোঃ জসিম উদ্দিন, মোঃ রফিক, আজিজুল হক, মোঃ ওমর ফারুক, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশ প্রত্যাহার করা হলে আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি ও ১৩ আগস্ট ধর্মঘট পালন করা হবে। এতেও যদি পুনরায় সিএনজি চলাচলের ঘোষণা করা না হয় বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহা সড়কসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম অচল করে দেয়া হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় দুই মামলা ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে জানান, সিএনজি ও অটোরিকশা শ্রমিক ও মালিকদের মহাসড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর ও সরকারী কাজে বাধা প্রদান এবং যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ও ফতুল্লায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে এ দু’টি মামলা দায়ের করেন। দু’টি মামলায় গ্রেফতারকৃত ৮ জনসহ ৩৭ জন নাম উল্লেখ করে ও আরও অজ্ঞাত প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। জানা গেছে, সোমবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, সানারপাড়, শিমরাইল এলাকায় রাস্তায় বড় বড় পাথর ও গাড়ির চাকা পাংচার করে সিএনজি ও অটো রিকশা চালক ও মালিকরা মহাসড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে। এ সময় তারা যানবাহন ভাংচুর করে। পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে এক এসআই ও এক পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই অখিল রঞ্জন সরকার বাদী হয়ে সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় গ্রেফতারকৃত মাসুদ, হবির, বাবুল মোল্লা ও রতনসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে।

মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ-মানববন্ধন ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা মৌলভীবাজার থেকে জানান, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি দিয়েছে সিএনজি-অটো রিকশা চালক ও মালিকরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিএনজি অটো রিকশা মালিক ও চালকরা জেলার বিভিন্ন সড়কে মানববন্ধন পালন করেন। পরে তারা দুপুর সোয়া ১২টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সম্মুখ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় জেলার সব সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে প্রায় চার ঘণ্টা সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।

ফরিদপুরে মহাসড়কে বিক্ষোভ ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা ফরিদপুর থেকে জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মালিগ্রাম বাজার, ভাঙ্গা পৌরসভার বিশ্বরোড মোড় ও হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ নামক স্থানে অটো, নসিমন মালিক ও চালকরা মহাসড়কে বিক্ষোভ করে। তারা মহাসড়কে অটো ও নসিমন চালানোর দাবি করে। মালিগ্রাম বাজারে মহাসড়কে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে কোন বিক্ষোভই দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি পুলিশ। ফরিদপুরের মধুখালীতে তিন চাকার যান্ত্রিক গাড়ি চলাচলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে অটোবাইক চালক শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর নিকট দেয়ার জন্য এ স্মারকলিপিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্র্তা মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহর হাতে তুলে দেয়া হয়। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে মধুখালী উপজেলার রেল স্টেশনে মহাসড়কে তিন চাকার যান্ত্রিক গাড়ি চলাচলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক নেতা মোঃ মিলন ম-লের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরোর সদস্য মনোজ সাহা, সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া, উপজেলা সিপিবির সভাপতি আব্দুল মালেক সিকদার, অটো শ্রমিক মোঃ হাবিবুর রহমান, কামরুজ্জামান, আব্দুল লতিফ প্রমুখ।

সিরাজগঞ্জে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ ॥ সংবাদদাতা শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ থেকে জানান, জাতীয় মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটো রিকশা ও অটো টেম্পো চালুর দাবিতে মঙ্গলবার শাহজাদপুরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা মালিক সমবায় সমিতি ও সিরাজগঞ্জ জেলা অটো রিকশা, অটো টেম্পো ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের বিসিক বাসস্ট্যান্ডে এসব কর্মসূচী পালন করা হয়। সকাল ১০টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সিএনজি চালিত অটো রিকশা ও অটো টেম্পোর শত শত মালিক শ্রমিক মিছিল নিয়ে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের দিলরুবা বাসস্ট্যান্ডে সমবেত হয়। পরে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড থেকে বিসিক বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিসিক বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন চলাকালে অবিলম্বে সরকারী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটো রিকশা ও অটো টেম্পো চালুর দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মালিক সমিতির সভাপতি ইলিমগীর মাসুদ জেম, সাধারণ সম্পাদক পান্না লোদী, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোমিন, মাসুদ রানা, জমিন আলী, রওশন মোল্লা, সেলিম খান প্রমুখ। ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব কর্মসূচী চলাকালে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ভাঙ্গায় সড়ক অবরোধ ॥ সংবাদদাতা ভাঙ্গা, ফরিদপুর থেকে জানান, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসভার সামনে ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কে অটো চালক, মাহিন্দ্র চালকসহ ৩ শতাধিক শ্রমিক বিক্ষোভ মিছিল অতঃপর রাস্তা অবরোধ করে। এ সময় পুলিশ এসে তাদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করে। মঙ্গলবার তিনটি স্থানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন ও রাস্তা অবরোধ করে। শ্রমিকরা উপজেলা পরিষদে একত্রিত হয়ে মিছিল করলে উপজেলা চেয়ারম্যান তাদের শান্ত করেন।