২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামায়াত কর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদানে ক্ষোভ

  • ১৪ দলের বৈঠক

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটে থাকা শরিক দলের নেতারা। তাঁদের আশঙ্কা, ভোলপাল্টিয়ে একাত্তরের ঘাতকচক্র সরকারী দলে ঢুকে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে পারে। একইসঙ্গে তাঁরা মহাসড়কে থ্রি-হুইলার যানচলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। জামায়াত-শিবিরের যোগদানের বিষয়ে আওয়ামী লীগের তরফে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, জামায়াত-শিবিরের কাউকে দলে না নেয়ার সিদ্ধান্ত আগেই রয়েছে। যদি কোথাও যোগদান করে থাকে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোন আন্তর্জাতিক চাপ নেই। বিএনপি কেন এই মুহূর্তে নির্বাচন চাইছে, সেটি খালেদা জিয়াই ভাল বলতে পারবেন। নির্বাচন অবশ্যই হবে, তা সংবিধান অনুসারে নির্ধারিত মেয়াদপূর্তির পর ২০১৯ সালে। সেই নির্বাচনও হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই। তাই আপনারা (সাংবাদিক) একশ’ ভাগ নিশ্চিত থাকুন, দেশে কোন মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে না।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, স্থলসীমান্ত চুক্তির আওতায় ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও উষ্ণতা পেয়েছে। আশা করি, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তিস্তার পানি বণ্টনসহ ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত অন্য সব সমস্যারও সমাধান হবে। ১৪ দলের বৈঠক থেকে ছিটমহল বিনিময় সফলভাবে শেষ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

বৈঠকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৪ দলের উদ্যোগে তিন দিনের কর্মসূচী নেয়া হয়। গৃহীত কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- ১২ আগস্ট দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ১৩ আগস্ট বিকেল ৩টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা এবং ১৫ আগস্ট সকালে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। এ সময় জেলা-উপজেলা পর্যায়েও ১৪ দলের পক্ষে জাতীয় শোক দিবস উদযাপনের আহ্ববান জানানো হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গণহারে আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বক্তব্যের সূত্রপাত করেন কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডাঃ ওয়াজেদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এই যোগদান সতর্কতার সঙ্গে বন্ধ করা দরকার। কেননা একাত্তরের ঘাতকচক্র সরকারী দলে ঢুকে নতুন ষড়যন্ত্র করতে পারে। শরিক দলের অন্য নেতারাও এ বক্তব্যে সমর্থন করেন।

শরিক দলের নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জামায়াত-শিবিরকে দলে না নেয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় সঠিক খবর আসে না। এরপরও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে পদক্ষেপ নেয়া হবে। ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক অভিযোগ করেন, কোথাও এখন আর ঘুষ ছাড়া চাকরিও হয় না। এটা শক্তহাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাৎ হোসেনসহ কয়েকজন নেতা দেশের মহাসড়কগুলোতে থ্রি-হুইলার যানচলাচল বন্ধের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বলেন, লাখ লাখ লোক এর সঙ্গে জড়িত। কাজেই এই যানচলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিকল্প চিন্তা করা দরকার। দেশের বন্যাকবলিত সব এলাকার সবাই যেন ত্রাণসামগ্রী পায়- তার পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বানও জানান শরিক দলের নেতারা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, বৈঠকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতায় ১৪ দল নেতারা সন্তোষ জানিয়েছেন। ১৪ দল বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। তিনি জানান, বৈঠকে মহাসড়কগুলোতে থ্রি-হুইলার যানচলাচল বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ১৪ দল মনে করে, সরকার এসব যানবাহনের চালক-শ্রমিকদের সমস্যার কথা বিবেচনায় এনে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে।

জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে ১৪ দল নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, এম এ আউয়াল, জাকির হোসেন, এস কে সিকদার, নুরুর রহমান সেলিম, রেজাউর রশিদ খান, কামরুল আহসান, অসীত বরণ রায়, মাহমুদুর রহমান বাবু, ইসমাইল হোসেন, আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আবদুল মান্নান খান, আফজাল হোসেন, ডাঃ বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মৃণাল কান্তি দাস, সুজিত রায় নন্দী, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ।