২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকায় মমতার নির্দেশনায় উদয় শঙ্করের নৃত্যধারা

ঢাকায় মমতার নির্দেশনায় উদয় শঙ্করের নৃত্যধারা
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশ্বখ্যাত ভারতীয় নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর। কিংবদন্তি এই নৃত্যাচার্য শাস্ত্রীয় নৃত্য আঙ্গিকের প্রথা ভেঙে সৃষ্টি করেছিলেন সৃজনশীল স্বতন্ত্র নৃত্যধারা। সেই ভুবনমোহিনী নাচের মুদ্রায় বিমোহিত করেছিলেন সারাবিশ্বের নৃত্যানুরাগীদের। তারই সুযোগ্য মেয়ে ভারতের প্রখ্যাত নৃত্য ও অভিনয়শিল্পী মমতা শংকর। উদয় শংকরের সেই সৃজনশীল নৃত্যধারাটি ছড়িয়ে দিতে তিনি এখন অবস্থান করছেন ঢাকায়। নৃত্য সংগঠন সাধনার নিমন্ত্রণে গুণী এই নৃত্যশিল্পী মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন। এদিন থেকেই তিনি দেশের ১৫ জন নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফারকে উদয় শংকরের নাচের করণকৌশল শেখানো শুরু করেন। সাধনা আয়োজিত পাঁচ দিনের কর্মশালা শেষ হবে ৮ আগস্ট। আর ওইদিন সন্ধ্যায় কর্মশালার শিক্ষার্থীরা জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে নৃত্য পরিবেশন করবেন। উন্মুক্ত নৃত্যানুষ্ঠানটিতে প্রশিক্ষণার্থী ছাড়াও অংশ নেবেন মমতা শংকর ডান্স কোম্পানির সদস্যরা।

মঙ্গলবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির মহড়া কক্ষে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে কর্মশালার সূচনা হয়। মমতা শংকরের সঙ্গে প্রদীপ প্রজ্ব¡লন করেন তার স্বামী চন্দ্রদ্বয় ঘোষ ও সাধনার সাধারণ সম্পাদক লুবনা মরিয়ম। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, উদয় শংকরের নৃত্যধারাটিকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। তিনি শাস্ত্রীয় নৃত্যের বাইরে সৃষ্টি করেছিলেন সৃজনশীল নাচের সহজাত এক স্বতন্ত্র ধারা। খুব কঠিন বিষয়কেও সহজভাবে মেলে ধরাই এ নৃত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। শরীরের সঙ্গে মন ও আত্মার সংযোগে পরিস্ফুটিত হয় এ নৃত্যধারাটি।

আগস্টের একরাত আবৃত্তি সংকলনের প্রকাশনা ॥ পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের হত্যাকা-ের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস আগস্টের এক রাত। সেলিনা হোসেন রচিত দীর্ঘ মর্মস্পর্শী উপন্যাসটি পরিণত হয়েছে ১৫ই আগস্টের প্রামাণ্য দলিলে। এই উপন্যাসের ভেতর সংকলিত হয়েছে জাতির জনকের হত্যাকা-ের বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য। আর এ উপন্যাসটিকে উপজীব্য করে গত বছর নির্মিত হয় আবৃত্তি সংগঠন মুক্তবাকের আবৃত্তি প্রযোজনা আগস্টের একরাত। দেড় ঘণ্টার ওই প্রযোজনাটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন বাচিকশিল্পী ইকবাল খোরশেদ। সেই আবৃত্তি প্রযোজনাটি এ বছর প্রকাশিত হলো আবৃত্তি সংকলন হিসেবে। মুক্তবাক প্রযোজিত আগস্টের একরাত অডিও অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন করা হয় মঙ্গলবার। শ্রাবণ সন্ধ্যায় সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের ভিআইপি সেমিনার কক্ষে এ্যালবামটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আবৃত্তি সংকলনটির প্রকাশনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতাপাঠ।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন মুক্তবাকের প্রধান নির্বাহী ইকবাল খোরশেদ।

প্রকাশনা পর্ব শেষে শুরু হয় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন কবির রচিত কবিতাপাঠের আবৃত্তিসন্ধ্যা। কবিতার দোলায়িত ছন্দে জাতির জনককে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে কবিতাপাঠ করেন আশরাফুল ইসলাম, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলায়েত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, শাহদাৎ হোসেন নিপু, মাসকুর এ সাত্তার কল্লোল, মাহিদুল ইসলাম, মাসুদুজ্জামান, ঝর্না সরকার, শহীদুল ইসলাম নাজু ও তামান্না তিথি। মুক্তবাকের পক্ষে আবৃত্তিতে অংশ নেন আশরাফ আলী সরকার, ইরাম মাহফুজা, মোঃ আসাদুজ্জামান, আবুল ফয়সাল মাহমুদ ও সাদিয়া আফরিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফাতেমা তুজ জোহরা।

ছায়ানটে সেতার ও তবলার বাদন ॥ সুরের বন্ধনে তারা এক মোহনায় মিলে গেলেন দুই দেশের দুই শিল্পী। ভারতের তবলাবাদক মনির হোসেন আর বাংলাদেশের সেতারবাদক এবাদুল হক সৈকত। আগে থেকে ছিল না তাদের মধ্যে কোন পরিচয় বা ঘটেনি ভাব বিনিময়। কিন্তু সুরের স্রোত ধরে তারা মিলিত হলেন এক আয়োজনে। সুযোগ করে দিয়েছে একই মঞ্চে যুগলবন্দী বাদনের। মঙ্গলবকার সন্ধ্যায় ধানম-ির ছায়ানট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই দেশের দুই শিল্পী মিলিত হয়েছিলেন একই সুরের ধারায়।

সঙ্গীত সংগঠন অরুণ রঞ্জনির আয়োজনে প্রায় দুই ঘণ্টা সঙ্গীত আয়োজনে অংশ নেন দুই শিল্পী। তাদের নতুন পরিচয়ের কথপোকথনের মাধ্যম যেন হয়ে উঠেছিল সেতার ও তবলা। দুজনের পাল্টাপাল্টি আলাপে শ্রোতারাও মুগ্ধ হন।

নাট্যশালায় মঞ্চস্থ অহেতুক কিচ্ছা ॥ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হলো প্রান্তিক থিয়েটারের প্রযোজনা অহেতুক কিচ্ছু। নাটকটির রচনার পাশাপাশি নির্দেশনা কামরুজ্জামান লিটন। এক প্রভাবশালী ব্যক্তির খামখেয়ালি আচরণে নিগৃহীত মানবতার গল্প উঠে এসেছেন নাটকের কাহিনীতে। ব্যঙ্গাত্মক হাসির নাটকটিতে কাহিনীর সূত্র ধরে উপস্থাপিত হয়েছে সমাজের নানা অসঙ্গতির চিত্র।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মালা তালুকদার, এম শাহরিয়ার বকুল, শেখ নুরুন নবী, মোমিনুল ইসলাম, মাকসুদা পারভীন, মারজিয়ানা বিথী, শিমু আহমেদ, মহিউদ্দিন মোহন প্রমুখ।

নির্বাচিত সংবাদ