২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দশ হাজার রান ক্লাবে দিলশান

  • সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ

একটা সময় ছিল যখন ক্রিকেটে এক হাজার রান করাটাই একটা মস্ত বড় ব্যাপার ছিল। সেটা টেস্টেই হোক আর ওয়ানডে ক্রিকেটেই হোক। তখন সেটা যিনি করতে পারতেন তাকে নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যেত। যদিও না পারার যথেষ্ট কারণও ছিল। তখনকার দিনে কম ম্যাচ খেলা হতো। একজন ক্রিকেটার বছরে একটা কী দু’টো সিরিজ বা টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পেতেন। ফলে একজন ব্যাটসম্যানের বেশি ম্যাচ খেলার বা বেশি রান করার সুযোগও ছিল অনেকটাই কম। দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে ক্রিকেটের চালচ্চিত্র। এখন আর আগের দিন নেই। এক সময় ক্রিকেট খেলা হতো শুধু শীতকালে। এখন ক্রিকেট খেলার কোন কাল বা কোন সময় নেই। এখন বছরজুড়েই ক্রিকেট দলের ব্যস্ত সময় কাটে। আজকাল যেমন অনেক বেশি ম্যাচ খেলা হয় তেমনি ব্যাটসম্যানেরও অনেক বেশি রান করার সুযোগ থাকে। যিনি সে সুযোগের যথাযথ সদ্ব্যবহার করতে পারেন তিনি চলে আসে পাদপ্রদ্বীপের নিচে। হয়ে যান ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ। সদ্য শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান একদিনের ক্রিকেট সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ড্যাসিং ওপেনার তিলকারতেœ ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে দশ হাজারি রান ক্লাবের গর্বিত সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে দশ হাজার রান পূরণ করতে দিলশানের প্রয়োজন ছিল ৫৫ রানের। এ ম্যাচে তিনি রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগেই খেলেন ৬২ রানের এক চোক জুড়ানো ইনিংস। যদিও তার আগেই ৫৫ রান করে দশ হাজারি রান ক্লাবে ঢুকে পড়ে একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসের অংশ হয়ে যান।

টেস্ট বা একদিনের ক্রিকেট বা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটÑ যাই হোক; একজন ব্যাটসম্যানের দশ হাজার রান করাটা কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়। একদিনের ক্রিকেটের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডস, রিচি রিচার্ডসন, অস্ট্রেলিয়ার এলান বর্ডার, এডাম গিলক্রিস্ট, মার্ক ও স্টিভ ওয়াহ, পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ, সাঈদ আনোয়ার, রমিজ রাজা, সেলিম মালিক, ভারতের সুনীল গাভাস্কার, আজহারউদ্দিন, এমএস ধোনি, বীরেন্দ্র শেবাগ, ইংল্যান্ডের গ্রাহাম গুচ, ডেভিড গাওয়ার, নিউজিল্যান্ডের মার্টিন ক্রো, স্টিফেন ফ্লেমিং, জিম্বাবুয়ের এ্যান্ডি ও গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, ডেভিড হাওটনরাও কম দিন ধরে ক্রিকেট মাঠ দাপিয়ে বেড়াননি। তারাও কিন্তু এই ক্লাবে ঢুকতে পারেননি। তার মানে এই ক্লাবে ঢোকাটা যে অত সহজ নয় সেটা সহজেই অনুমেয়। একদিনের ক্রিকেটের ৪৫ বছরের ইতিহাসে যে ১১ জন ব্যাটসম্যান দশ হাজারি রান ক্লাবের গর্বিত সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তার মধ্যে শ্রীলঙ্কা রয়েছে শীর্ষে। শ্রীলঙ্কার ৪ জন, ভারতের ৩ জন, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের একজন করে ব্যাসম্যান দশ হাজারি ক্লাবে ঢোকার অনন্য স্বাদ পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। ক্রিকেটের জনক খোদ ইংল্যান্ডসহ নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের কোন ব্যাটসম্যান এখন পর্যন্ত এ গৌরব অর্জন করতে পারেনি। তাদের কাছে এটা এখনও স্বপ্নই রয়ে গেছে।

ভারতের ক্রিকেট লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকর ২০১২ সালে একদিনের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগে সর্বাধিক রান, ম্যাচ, ইনিংস, শত, অর্ধশতসহ অসংখ্য রেকর্ড নিজের থলিতে পুরে ‘গুড বাই’ জানান। তার সে রেকর্ড সহসা কেউ ভাঙতে পারবে বলে মনে হয় না। তারপরও খেলাটা ক্রিকেট বলে কথা। যেখানে মনে হয় না বলে কোন কথা নেই। আজ যে রেকর্ড ভাঙ্গাটা অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে কাল সেটাই হয়ে যেতে পারে পুরনো রেকর্ড। এই রেকর্ড ভাঙ্গা-গড়ার খেলা চলে বলেই ক্রিকেট আজ দর্শকপ্রিয়তায় সবার ওপরে।