২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেরেনার ‘ক্যালেন্ডার স্লাম’ জয়ের হাতছানি

  • মাহমুদা সুবর্ণা

সেরেনা মানে বিস্ময়। যেন অসবাধারণ সব কীর্তিরই সমার্থক। একের পর এক রেকর্ড গড়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। গত মাসেই উইম্বলডনের ষষ্ঠ শিরোপা জিতেছেন তিনি। সেই সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো ‘সেরেনা সøাম’ জয়ের রেকর্ড গড়েছেন। চলতি মাসেই শুরু হবে ইউএস ওপেন। মৌসুমের শেষ এই গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জিততে পারলে ‘ক্যালেন্ডার সøাম’ জয়ের অবিস্মরণীয় মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। আর সেরেনা উইলিয়ামসও হাঁটছেন ঠিক সেই পথে।

এ সপ্তাহেই শুরু হবে স্ট্যানফোর্ড টুর্নামেন্ট। ডব্লিউটিএ হার্ডকোর্ট টুর্নামেন্টের মহিলা এককে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেরেনা। কিন্তু ব্ল্যাঙ্ক অব ওয়েস্ট ক্ল্যাসিকের এই ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না তিনি। মূলত চোটের কারণেই ডব্লিউটিএর এই ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টে কোর্টে নামার আগে স্ট্যানফোর্ডে খেলাটা জরুরী ছিল সেরেনার। কিন্তু চোট আর তা হতে দিল না। এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, কনুইর ইনজুরি বেশ ভালভাবেই ভোগাচ্ছে তাকে। এই চোটের কারণে গত মাসেই সুইডিশ ওপেন থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন সেরেনা উইলিয়ামস। ধারণা করেছিলেন দ্রুতই সুস্থ হয়ে কোর্টে ফিরবেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমেরিকান তারকার। কনুইর চোট এখনও সেরে উঠতে পারেননি। সুইডিশ ওপেনের পর ব্ল্যাঙ্ক অব দ্য ওয়েস্ট ক্ল্যাসিক থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনের আগে মাত্র একটি ইভেন্ট পাবেন তিনি। তা হলো টরোন্টো ওপেন। তাই স্ট্যানফোর্ডের আয়োজকরা সেরেনার দ্রুতই রোগমুক্তি কামনা করেন। সেরেনার বর্তমান বয়স তেত্রিশ। তবে বয়সের ফ্রেমে নিজেকে বেঁধে রাখতে নারাজ এই আমেরিকান। মৌসুমের প্রথম তিন মেজর টুর্নামেন্টেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। তাই ইউএস ওপেন জিততে মরিয়া। মৌসুমের শেষ মেজর এই গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের আগে ফিট হয়ে কোর্টে অনেক বেশি সময় দিচ্ছেন তিনি। কোর্টের প্রস্তুতির সঙ্গে জিমেও সময় দিচ্ছেন সেরেনা। জিমে ওয়ার্ক-আউটের কিছু ছবি দিয়ে সম্প্রতি তিনি ক্যাপশান দিয়েছেন, ‘প্রস্তুত হচ্ছি।’ ইউএস ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেরেনা। কনুইর ইনজুরি যদি বড় কোন বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তাহলে ক্যালেন্ডার সøাম জেতাটা সেরেনার এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। এখন পর্যন্ত অনন্য এ রেকর্ডটির মালিক হয়েছেন মাত্র তিনজন। স্বদেশী মৌরিন কোনোলি ১৯৫৩ সালে। অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্ট জিতেন ১৯৭০ সালে। আর জার্মানির স্টেফি গ্রাফ ১৯৮৮ সালে একই বছরে সবকটি গ্র্যান্ড সøাম জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। শুধু ক্যালেন্ডার সøামই নয়, ইউএস ওপেন জিতলে গ্রাফের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২টি গ্র্যান্ড সøাম জয়েরও রেকর্ড গড়বেন তিনি। ২৪টি গ্র্যান্ড সøাম নিয়ে তখন সামনে থাকবেন শুধু অস্ট্রেলিয়ান তারকা মার্গারেট কোর্ট। ব্যক্তিগত সাম্প্রতিক নৈপুণ্যও ভাল কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে সেরেনাকে। মেজর টুর্নামেন্টে টানা ২৮টি ম্যাচে জয় নিয়ে ইউএস ওপেন খেলতে নামবেন তিনি। সেরেনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন রাশিয়ার মারিয়া শারাপোভা, সিমোনা হ্যালেপ, পেত্রা কেভিতোভা, ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা কিংবা ইউজেনি বাউচার্ডের মতো তরুণ প্রতিভাবান তারকারা। তবে ইউএস ওপেনের আগে কাঁধের ইনজুরিতে ভোগছেন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাও। যে কারণে ডব্লিউটিএ ওয়াশিংটন টুর্নামেন্ট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। বেলারুশ সুন্দরী আজারেঙ্কার সময়টা মোটেই ভাল যাচ্ছে না। তবে দু’বারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপাজয়ী ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাও হাল ছাড়ছেন না। চোট কাটিয়ে কোর্টে ফেরার জন্য নিরন্তর লড়াই করছেন তিনি। চোট সমস্যায় ভুগছেন কানাডার ইউজেনি বাউচার্ডও। যে কারণে সিটি ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। গত মৌসুমে ইর্ষণীয় পারফর্মেন্স উপহার দিয়েছেন বাউচার্ড। পুরো বছরজুড়েই টেনিস কোর্টে তার নজরকাড়া পারফর্মেন্স মুগ্ধ করেছে টেনিস ভক্তদের। কানাডার প্রথম মহিলা হিসেবে উইম্বলডনের ফাইনালে উঠার মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, শেষ পর্যন্ত চেক প্রজাতন্ত্রের টেনিস তারকা পেত্রা কেভিতোভার কাছে হার মানতে হয় বাউচার্ডকে। যে কারণে রানার-আপের ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাউচার্ডকে। উইম্বলডনের ফাইনালে ওঠা ছাড়াও গত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ান ও ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালে উঠে পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী এই টেনিস তারকা। কানাডিয়ান এই প্রতিভাবান তারকার গত মৌসুমের পারফর্মেন্সে মুগ্ধ হয়ে টেনিসবোদ্ধারা ধরে টেন টেনিসের ভবিষ্যত বিস্ময় হিসেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই তারকার। গত মৌসুমের অসাধারণ পারফর্মেন্স আর চলতি মৌসুমে ধরে রাখতে পারেননি। পারফর্মেন্সের এই নিষ্প্রভতার কারণে টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশ থেকে ছিটকে যান তিনি। বর্তমানে টেনিস র‌্যাঙ্কিয়ে বাউচার্ডের অবস্থান ২৬। যা খুবই হতাশাজনক। তবে ব্যর্থতায় নুইয়ে পড়তে চান না তিনি। বরং নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন নিজেকে মেলে ধরার। যে কারণে সিটি ওপেনে খেলতে না পারলেও আসন্ন ইউএস ওপেনেই স্বরূপে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন ইউজেনি বাউচার্ড। ইউএস ওপেনের পুরুষ এককে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মারিন চিলিস। তবে সেরার তকমাটা মাখানো থাকবে নোভাক জোকোভিচের গায়েই। কেননা চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলছেন তিনি। গত মাসে উইম্বলডন জিতেছেন। পারফর্মেন্সের এই ধারাবাহিকতা শেষ মেজর টুর্নামেন্টেও প্রদর্শন করতে চান তিনি। জোকোভিচের পর রজার ফেদেরারও দুুঃসময় কাটিয়ে উঠেছেন। হামবুর্গ ওপেন জিতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাফায়েল নাদালও।