২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দাতাদের ঋণ পেতে গ্রীসের বাধা নেই

  • সিফাত চৌধুরী

গ্রীস এখনও রয়ে গেছে ইউরোজোনে। তবে নিজের দেউলিয়াত্ব ঠেকাতে ঋণজর্জর এই দেশটির আগামী তিন বছরে আরও ৮৬০০ কোটি ইউরো ঋণ প্রয়োজন। এই ঋণচুক্তি নিয়ে দাতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হওয়ার কথা এবং তা আগস্টের মাঝ বরাবর স্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ঋণ পেতে গ্রীস মস্ত বাধা পার হয়েছে।

এদিকে দাতারা যেমন চেয়েছে, সেভাবে তৃতীয় অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা গ্রীক পার্লামেন্টে অনুমোদিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটি সঙ্কট থেকে পরিত্রাণে তৃতীয় দফা ঋণ লাভের পথে আরও অনেকটা এগিয়ে গেছে। ২৩ জুলাই পার্লামেন্টে ২২৯-৬৪ ভোটে পরিকল্পনাটি পাস হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাস স্বীকার করেছেন, পরিকল্পনায় অনেক কঠোর সব ব্যবস্থা আছে যা গ্রীক অর্থনীতির ওপর আঘাত হানবে।

পরিকল্পনার ওপর ভোটাভুটি চলার সময় এথেন্সের রাজপথে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ হয়। মলোটভ ককটেল ফাটে, চারদিকে হুড়োহুড়ি, ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। প্রস্তাবিত ব্যয় সঙ্কোচ ব্যবস্থার প্রতিবাদে গ্রীকরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিল। কিন্তু একপর্যায়ে তা মারমুখী রূপ ধারণ করে।

অর্থনীতির এমনিতেই বেহাল অবস্থা। তার ওপর পার্লামেন্টে অনুমোদিত পরিকল্পনার নতুন ব্যয় সঙ্কোচ পদক্ষেপগুলো কার্যকর করা হলে গ্রীকদের অবস্থা আরও নাজুক আকার ধারণ করবে। এদিকে দেশটিতে বেকারত্বের হার সাড়ে ২৭ শতাংশে অর্থাৎ নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যার ফলে তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ এখন বেকার। নতুন ব্যয় সঙ্কোচ ব্যবস্থার ফলে মন্দা আরও বাড়বে, জিডিপি হ্রাস পাবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন কমবে। শ্রমিকদের মজুরিও হ্রাস পাবে এবং তাদের কাজের পরিবেশের অবনতি ঘটবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে এবং তাদের অধিকার খর্ব হবে।

তৃতীয় উদ্ধার পরিকল্পনায় দাতাদের সমর্থন পাওয়া যাক আর নাই যাক এ বছর গ্রীস আরও গভীরতর মন্দায় নিমজ্জিত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ আগে পূর্বাভাষ দিয়েছিল, এ বছর দেশটির জিডিপি ১ শতাংশ বাড়বে। কিন্তু অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থার পর সেই পূর্বাভাস থেকে সরে এসে সংস্থাটি এখন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, চলতি বছর গ্রীসের অর্থনীতি ২ শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশ সঙ্কুচিত হবে। এই সঙ্কোচনের তোড়ে গত বছর যে ০.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, সেটাও মুছে যাবে। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে যে রফতানি, পর্যটন খাত, বিনিয়োগ ও ভোগ্যপণ্যের পেছনে ব্যয়ের ক্ষেত্রে যে ক্ষতি ঘটে গেছে, তাতে অর্থনীতির এই নিম্নগতি ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এদিকে গত জুন মাসের শেষ দিকে মূলধনের ওপর নিয়ন্ত্রণ চালু হওয়ার পর থেকে এথেন্সের শেয়ারবাজার সেই যে বন্ধ হয়ে পড়েছে, এখনও খোলেনি। চলতি সপ্তাহেও বাজার না খোলারই সম্ভাবনা রয়েছে। ওদিকে তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গ্রীসের ব্যাংকগুলো ২৩ জুলাই আবার খুলেছে। ফলে স্বাভাবিকতার পথে আরও এক দফা এগিয়েছে গ্রীস। আর্থিক ক্ষেত্রে আরোপিত বিধি নিষেধ শিথিল হওযায় ব্যাংকে ফের লেনদেন শুরু হয়। তবে মূলধনের ওপর এখনও নিয়ন্ত্রণ আছে যার ফলে আমানতকারীরা তাদের এ্যাকাউন্ট থেকে সপ্তাহে ৪২০ ইউরোর বেশি তুলতে কিংবা দেশের বাইরে অর্থ পাঠাতে পারবে না।

একই দিনে গ্রীস ইউরোপীয় কমিশনের কাছ থেকে ৭২০ কোটি ডলার ঋণ পায়, যার প্রায় পুরোটাই আগের ঋণ পরিশোধের পেছনে ব্যয় হয়ে যায়। প্রাপ্ত অর্থের এক বড় অংশ ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে চলে যায়। আইএমএফের বকেয়া পাওনাও মেটানো হয়। আইএমএফ নিশ্চিত করেছে যে, গ্রীস তাদের সব বকেয়া পরিশোধ করেছে।

ওদিকে পার্লামেন্টে অর্থনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে যারা ভোট দিয়েছে, তাদের সিংহভাগই শাসকদল সাইরিজা পার্টির সদস্য। সোজা কথায় এদের বিরুদ্ধ ভোট প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিজ সিপ্রাসের নিজের বাম দলের মধ্যে বিদ্রোহের অভিপ্রকাশ। দলের এই বিদ্রোহী অংশের উদ্দেশ্যে বলতে গিয়ে সিপ্রাস বলেন, এ মাসের প্রথমদিনে দাতাদের সঙ্গে আলোচনা প্রায় ভেস্তে যাওয়ার পর গ্রীসকে বাঁচিয়ে রাখার মাসুল হিসেবে এই সংস্কার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, আমরা এমন এক সমঝোতা বেছে নিয়েছি, যেখানে আমরা বিশ্বাস করি না এমন এক কর্মসূচী বাস্তবায়িত করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। আমরা এটা বাস্তবায়িত করতে বাধ্য হচ্ছি, কারণ এর বিকল্প যে পথটা খোলা আছে তা আরও কঠিন।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট ও অন্যান্য