২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খাস জমি দখল

  • বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদ

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ৪ আগস্ট ॥ জলবায়ু ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতায় গাইবান্ধার পল্লী অঞ্চলের বড় বিল জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এখন বিলগুলোর অধিকাংশ এলাকা আবাদি জমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত বিলের জমিগুলোও প্রভাবশালীদের দ্বারা বেদখল হয়ে যাচ্ছে।

ফলে প্রাকৃতিক উৎসনির্ভর দেশীয় মৎস্য সম্পদ, এসব জলাশয়নির্ভর উদ্ভিদ এবং পরিবেশও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এ কারণে বিল-জলাশয়ের অনেক প্রজাতির দেশীয় মাছও ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যাও বা আছে তাও সংখ্যায় কম এবং বিলুপ্তপ্রায়। এছাড়া এসব বিল ও জলাশয়নির্ভর জলজ পাখিরাও খাদ্য সঙ্কটের কবলে পড়েছে। এছাড়া পানি স্বল্পতার কারণে এসব বিল জলাশয়নির্ভর রবি ফসলের সেচও মারাত্মকভাবে বিঘিœত হওয়ায় ফসলও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঘাঘট, করতোয়া, আলাই, কাঁটাখালী, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা নদী বেষ্টিত গাইবান্ধায় বড় বড় গভীর বিল ও খালের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। জেলার উল্লেখযোগ্য বড় বড় বিল ও খালগুলো হলো সদর উপজেলার খোলাহাটির ঝিনিয়া বিল, হাতিয়ার বিল, চাপাদহের টাকিয়া বিল ও কুপতলার নলিগলির বিল। সাদুল্যাপুর উপজেলার ভাতগ্রামের রুহিয়া, পগাইল, পাকুরিয়া, বনগ্রামের পাটানোছা, ফরিদপুরের কয়ার বিল। পলাশবাড়ীর মনোহরপুরের আজরার, সদর ইউনিয়নের শিলদহ, মহদীপুরের কুসুমদহ, হোসেনপুরের বহির ভাঙ্গা, কিশোরগাড়ির রাঙ্গামাটি বিল। সুন্দরগঞ্জের নলেয়া, বামনডাঙ্গার চাকুলিয়া, সরোবর, গান্দারা, কুমড়িয়া, ছাপড়হাটীর মরুয়াদহ, শান্তিরামের কুরশা এবং ধোপাডাঙ্গার কাশদহ বিল। সাঘাটার তেলিয়ান, কালপানি, চকচকিয়া, বিল বস্তা, চতল ও তেনছিড়ার বিল। গোবিন্দগঞ্জের কারদহ, সাতপলা, নুরুলা, পগোইল ও সাতদামুয়া কাতলা বিল। এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলা উদাখালীর শিংরিয়া, কাঠুর এবং গজারিয়ার কুচনির বিল।

জেলার এসব খাল বিলে অতীতে সারা বছর গভীর পানি থাকত। ফলে এগুলো ছিল দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ও সংরক্ষণাগার। এছাড়া প্রাকৃতিক উৎসনির্ভর বিল জলাশয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে মৎস্যজীবীরা। তদুপরি জলজ উদ্ভিদ কলমি, শাপলা, শালুক, পদ্মফুল, পদ্মখোঁচা, শোলা, নলখগরা, কচুরি পানা, পানি ফল, শপ পাটি তৈরির বিশেষ জাতের উদ্ভিদসহ নানা প্রয়োজনীয় উদ্ভিদ এসব বিলে জন্মাত প্রচুর পরিমাণে। যা পল্লী গাঁয়ের মানুষের খাদ্য এবং নানা দরকারি তৈরির উপকরণ এবং পশু খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। এর পাশাপাশি শুকনো মৌসুমে রবি ফসল উৎপাদনে জমিতে সেচের পানির যোগান আসত এসব বিলের পানি থেকেই। সর্বোপরি বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পানি শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। এতে নানা জাতের বর্ণালী ফুল ফুটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে করে তুলত দৃষ্টিনন্দন।