১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেরপুরে স্কুলছাত্র অপহরণ ॥ গ্রেফতার ৩ জন ৫ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর ॥ শেরপুরে অপহরণের ৪ দিন পরও উদ্ধার হয়নি স্কুলছাত্র আরাফাত ইসলাম ওরফে রাহাত (৮)। তবে ওই ঘটনায় জড়িত ২ দুর্বৃৃত্ত মঙ্গলবার গ্রেফতার হয়েছে। এরা হচ্ছে সদর উপজেলার বয়ড়াপরাণপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে আবদুল লতিফ (২২), একই গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে রবিন মিয়া (২০) ও নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র ইমরান (২২)। বুধবার দুপুরে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর পরপরই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেরপুর সদর থানায় নিয়ে যায়। অন্যদিকে অপহরণের ৪ দিন পরও স্কুলছাত্র রাহাত উদ্ধার না হওয়ায় তার পরিবারের লোকজন মানসিকভাবে একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন মা রিনা বেগম।

পুলিশ ও আরাফাতের পারিবারিক সূত্র জানায়, শেরপুর শহরের বিপ্লব-লোপা মেমোরিয়াল স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত ইসলাম রাহাত রবিবার দুপুরে স্কুল থেকে শিববাড়ি এলাকার বাসায় ফিরে। এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে সে পুরাতন গরুহাটিস্থ ‘সরকার ফার্ণিচার মার্ট’ এ তার বাবা শহিদুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু পথে কয়েক যুবক স্থানীয় শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক সংলগ্ন শিশুপার্ক থেকে চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই মুঠোফোনে এক যুবক আরাফাতের বাবা শহিদুলকে জানান, তাঁর ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে এবং ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি শহীদুল পুলিশকে জানান। এরপর মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহৃত আরাফাতকে উদ্ধারে মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ সদর উপজেলার মুন্সীরচর এলাকায় উৎ পাতে। ওইসময় বিস্তৃত পাটের ক্ষেতের পাশে থাকা একটি জাংলায় মুক্তিপণের টাকা রাখা হলে দুর্বৃত্ত রবিন অপহৃত আরাফাতকে না নিয়ে এসে ওই টাকা নিয়ে দৌড়ে পাশ্ববর্তী একটি নির্জন বাড়িতে ঢুকে পড়ে। ছদ্মবেশে থাকা পুলিশের দল তার পিছু পিছু দৌড়ে ওই বাড়ি থেকেই তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ওই ঘটনায় অপহৃত শিশু আরাফাতের আপন খালু আব্দুল লতিফ ও জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ফুলকারচর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের পুত্র আসলাম বাবু (২২)সহ কয়েকজন জড়িত বলে তথ্য প্রকাশ করে। তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক পুলিশ শেরপুর ও জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে প্রধান আসামী আব্দুল লতিফ ও সহযোগি ইমরানকে গ্রেফতার করেন। তবে এখনও গ্রেফতার হয়নি আসলাম বাবু। সেই সাথে উদ্ধার হয়নি অপহৃত আরাফাত। ধারণা করা হচ্ছে, অপহৃত আরাফাতকে নিয়েই আসলাম বাবু আত্মগোপনে রয়েছে।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল করিম জানান, ওই ঘটনায় মুক্তিপণ দাবি ও অপহরণের অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। ওই মামলায় প্রধান আসামী লতিফসহ ইতোমধ্যে ৩জন গ্রেফতার হলেও একজন এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারসহ অপহৃত আরাফাতকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।