২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘রফতানিতে বহুমুদ্রা হার চালুর প্রস্তাব’

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ডলারের বিপরীতে টাকার দর বৃদ্ধি এবং ইউরোসহ বিভিন্ন মুদ্রার দরপতনের কারণে রফতানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক ও মুদ্রা বিশেষজ্ঞরা। তাদের এক গবেষণায় উঠে আসে শুধু গত অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানিকারদের ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩৮ কোটি ডলার। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। তবে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে রফতানিতে ‘বহু মুদ্রা হার’ প্রচলনের প্রস্তাব করেছেন তারা। যা বাস্তবায়ন হলে ক্ষতির বিপরীতে প্রায় ৩৫ কোটি ডলার লাভ হবে রফতানিকারকদের।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি বিজিএমইএ মিলনায়তনে মঙ্গলবার রাতে ‘মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক সেমিনারে এমন প্রস্তাব উঠে আসে। বিজিএমইএ ও ডেনমার্কভিত্তিক গ্লোবাল কারেন্সি ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. আখতারুজ্জামান, সাবেক ডেপুটি গভর্নর এম আবুল কাশেম, মুদ্রা বিশেষজ্ঞ জেসপার সফট, বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম, অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশিদ প্রমূখ।

ড. আখতারুজ্জামান বলেন, রফতানিতে বহু মুদ্রা হার চালুর প্রস্তাব এসেছে। এটা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। আমরা এব্যাপারে মাল্টি স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করবো।

বহুমুদ্রা হার চালুর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি গত অর্থ বছরের আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিয়ম হারের বেশ কিছু দেশের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসময় ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর কমেছে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ভিয়েতনামের মুদ্রার দর কমেছে ১ দশমিক ৩০ ও পাকিস্তানের ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। এসুবিধা কাজে লাগিয়ে এসব দেশের রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করেছে। একই সময়ে মুদ্রার দর অনুকূলে না থাকায় বাংলাদেশের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা থেকে আয় কমেছে প্রায় ২০০ কোটি ডলার। এসব বিবেচনায় ডলারের বিপরীতে টাকার দর সমন্বয় জরুরি। পাশাপাশি রফতানিতে বহুমুদ্রা হার চালুর বিষয়টাও ভাবতে হবে।

মূল উপস্থানায় জেসপার সফট বলেন, শুধু গত অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানিকারদের ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩৮ কোটি ডলার। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। তবে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে রফতানিতে ‘বহুমুদ্রা হার’ প্রচলনের প্রস্তাব করেন তিনি।

এই মুদ্রা বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের মোট রফতানির ৯৯ শতাংশ হয় ডলারের মাধ্যমে। তাই নিজেদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশকে ‘বহুমুদ্রা হার’ নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যীক অংশীদারদের মুদ্রার সঙ্গে মিল রেখে এ নীতি গ্রহণ করা হলে রফতানি আয় বাড়বে। বাড়তি অর্থ দিয়ে কমপ্লায়েন্স প্রতিপালন সহজ হবে।