২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একজন শিক্ষার্থীর অনুভূতি

  • সুমাইয়া মিফরা আখতার

বাবা মায়ের পরই মর্যাদার দিক থেকে শিক্ষকের স্থান, ভালবাসার দিক থেকেও। জীবনের অধিকাংশ সময় কাটে স্কুল শিক্ষকদের স্নেহের ছায়ায়। জনে জনে কথা উঠছে স্কুল শিক্ষকরা আর আগের মতো পড়ান না আর আগের মতো ছাত্রছাত্রীদের ভালবাসেন না। কোন কোন শিক্ষকের ক্ষেত্রে হয়ত কথাটি ঠিক, কিন্তু সবার ক্ষেত্রে নয়। আমরা আমাদের দিনাজপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের কথাই বলতে পারি। এই তো ক’দিন আগে যখন জাহ্নবি ম্যাম স্কুল থেকে বদলি হয়ে চলে গেলেন আমরা সেদিন কেঁদেছিলাম এবং আমাদের থেকেও বেশি কেঁদেছিলেন ম্যাম নিজে। একজন শিক্ষক যদি আন্তরিকভাবে নাই পড়াবেন আর আমাদের নাই ভালবাসবেন তাহলে তাঁর বিদায়ে আমরাইবা কেন কাঁদব। কিন্তু আমরা কেঁদেছি এবং তিনিও কেঁদেছেন। তার মানে অনেক শিক্ষকই আছেন যাঁরা তাঁর ছাত্রছাত্রীদের ভালবাসেন সন্তানের মতো। আর আমাদের মতো এখনও অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা শিক্ষককে আগেকার দিনের মতোই সম্মান করেন। কিন্তু আমাদের কষ্ট হয় যখন শুনি শিক্ষকদের বেতন খুব কম। যখন শুনি শিক্ষকরা যে বেতন পান তা দিয়ে তাঁদের সংসার চলে না। তাহলে এই সমাজের কাছে আমাদের ছোট্ট মনের প্রশ্ন, ওই সব শিক্ষকরা কেন তবে প্রাইভেট পড়াবেন না? তাদের তো বেঁচে থাকতে হবে। যদি শিক্ষকদের বেতন আশানুরূপ হতো তাহলে আমাদের স্কুলের শিক্ষকদের মতো অন্য স্কুলের শিক্ষকরাও তাদের ছাত্রছাত্রীদের ভালবাসত এবং ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ করিয়ে নিত। আমাদের স্কুলের শিক্ষকরা ভাল ফ্যামিলি থেকে এসেছেন এবং বলতে গেলে অভাব নেই তাদের। তাই তারা তাদের পুরো ভালবাসা শিক্ষাদানেই নিয়োজিত করতে পেরেছেন যা হয়ত দেশের অন্য অনেক স্কুলের শিক্ষকরা পারছেন না। তাই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা হয়ত দিন দিন ক্ষতির মুখে পড়ছে আর শিক্ষা হয়ত খোদ শিক্ষকের হাত ধরেই পণ্যে পরিণত হচ্ছে। এ থেকে বাঁচতে হলে দুটো রাস্তা খোলা আছে : ১. শিক্ষকের বেতন বাড়াতে হবে এবং তাদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে; ২. আর্থিকভাবে সচ্ছলদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে হবে যেন তাঁরা শিক্ষাদানের লক্ষ্যেই কাজ করতে পারে, অর্থ উপার্জনের জন্য নয়। যথাযথ সম্মান আর উপযুক্ত সম্মানীর অভাবে আজকে শিক্ষকতা নামের এই মহান পেশায় অপেক্ষাকৃত মেধাবীরা আসতে আগ্রহী হচ্ছে না। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে তো আর ওই সামান্য সম্মানী দিয়ে হবে না। তাই সরকারের উচিত এই মহান পেশায় নিয়োজিতদের প্রতি আরও বেশি ভালবাসা দেখানো এবং তাঁদের বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা। আমি ক্লাস টেনে পড়ি কিন্তু তার পরও আমি জানি আমাদের পড়াশোনার জন্য বাবা মাকে কত খরচ করতে হয়। একজন স্কুলশিক্ষক তাঁর ওই সামান্য অর্থে তাহলে তার সন্তানদের কিভাবে লালন পালন করবেন এটা কি কখনও নীতিনির্ধারকরা ভেবে দেখেছেন? এখন সময় এসেছে সেটা ভেবে দেখার। আমরা আশা করব শিক্ষকতার এই মহান পেশায় নিয়োজিতরা তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা ও সম্মানী পাবেন এবং বাকিরাও তাদের সম্মান দিবেন। তবেই দেশ ও জাতি পাবে আদর্শবান শিক্ষক যাঁরা স্নেহের ছায়ায় লালন করবে আগামীর প্রজন্ম।

দিনাজপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয় থেকে

নির্বাচিত সংবাদ