২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষকদের একাল সেকাল

আফিকী ঈশিতা

আমি যখন প্রথম প্রাথমিক স্কুলে যাই তখন স্কুলে শিক্ষক ছিল মাত্র দু’জন। কিন্তু গোটা স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা থাকত ভয়ে। শিক্ষকরা পড়ানোর সময় পড়াতেন খুব আন্তরিকতার সঙ্গে। প্রাথমিক স্কুলে থাকার সময় প্রাইভেট মাস্টারের কথা চিন্তাই করতেন না আমাদের মা-বাবা। কোন শিক্ষকও প্রাইভেট পড়ানোর চেষ্টা করতেন না। একজন শিক্ষকের সম্মান ছিল সবার উপরে। তবে সেকালে শিক্ষকদের মধ্যে শারীরিক শাস্তি দানের প্রবণতা ছিল বেশি। এই একটা বিষয় বাদ দেয়া ছাড়া আর কোন দোষ সেকালের শিক্ষদের ভেতর আমি পাই না। আর একালের শিক্ষকদের কথা বলতে গেলে অনেক শিক্ষক আছেন যাঁরা শিক্ষাটাকে ব্যবসা হিসেবেই নিয়েছেন। তাতে করে সবার কথা ঢালাওভাবে বলা যাবে না। একালের কিছু শিক্ষক স্কুলে ভাল করে না পড়িয়ে ক্লাসে বলে দেন তাঁদের কাছে প্রাইভেট পড়তে। তাঁরা কোচিং করান, সাজেশন দেন, কিছু শিক্ষক ছাত্রদের ভাল ফলাফল করানোর জন্য প্রশ্ন পর্যন্ত ফাঁস করে থাকেন। শুধু ফলাফল বললে ভুল হবে প্রশ্ন নিয়েও ব্যবসা চলে শিক্ষকদের মধ্যে। কিন্তু সেকালের শিক্ষকদের ঘাড়ে এসব বদনাম দেয়া যাবে না। শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে পড়ে আপনা আপনি। কিন্তু কেন এই কাজ করছেন একালের শিক্ষকরা? এখন যে জীবন ব্যবস্থা তাতে করে যে টাকা পারিশ্রমিক তাঁরা পান তা দিয়ে চলা কষ্টকর। পড়াশোনার প্রচুর প্রতিযোগিতা। সবাই ছুটে যেতে চায় প্রথম সারিতে। সেই সুবাদে শিক্ষকরা চালাচ্ছেন জমজমাট ব্যবসা। সেকালের শিক্ষকরা এই অবস্থার মধ্যে থাকলে কি করতেন তা আমার জানা নেই। একালের শিক্ষকদের অসাধু আচরণের ফলে শিশুদের চোখে অপরাধী হিসেবেই থেকে যাচ্ছে। তাই শিশুদের মন থেকে শ্রদ্ধাটা হয়তবা সেভাবে আসে না। আর এভাবে ফাঁকফোকর দিয়ে ভাল ফলাফল করা। শুধু পাঠ্যবইয়ের পিছনে লেগে থেকে শিশুরা সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলছে। তাতে করে ভবিষ্যত কতটা সুন্দর হবে তা ধোঁয়াশার মধ্যে পড়ে আছে। সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই চিন্তাধারাকে সাধুবাদ জানিয়ে সকলের সহযোগিতা করা দরকার। শিক্ষক, অভিভাবক শিক্ষাত্রীরা সকলে সৎ পথে চলার চেষ্টা করা দরকার। ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদ-’, আর মেরুদ- যদি হয় নড়বড়ে, তবে সমাজ দেশ সব অবনতির দিকে যাবে।

ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে