২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন নাগরিক বরণ

কোন চুক্তি পাস করা যতটা না কঠিন, বাস্তবায়ন করা তার চেয়ে বেশি কঠিন। প্রায় সাত দশক ধরে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর এক লহমায় সমাধান সম্ভবও নয়। বিরাজিত সমস্যার ভেতর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান যেমন জরুরী, তেমনি মৌলিক অধিকার অর্জনের ক্ষেত্র তৈরিও জরুরী। তাই দেখা যায়, ৪১ বছর আগে সম্পাদিত চুক্তি কার্যকর করতেও চারদশক পার হয়ে গেল। আর এই সময়টায় আশায় বসতি গেড়ে প্রতীক্ষার দরোজা মেলে ছিল অর্ধ লাখ মানুষ। কবে ভোর হবে, নতুন সূর্যোদয়ের রাঙা প্রভাতের মতো জীবন থেকে সরে যাবে দেশহীন, রাষ্ট্রহীন নাগরিক অধিকারহীন শুধু নয়, পৃথিবীর জনসংখ্যার পরিসংখ্যান থেকে বাদ থাকা মানুষের আবরণ। ফিরে পাবে দেশ, রাষ্ট্র, নাগরিকত্ব- সর্বোপরি স্বাধীন মানুষের অধিকারসহ নিজ দেশ। নিজ বাসভমে দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী পরদেশী হয়ে থাকার গ্লানি মোচন অবশেষে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস প্রচেষ্টায় ৬৮ বছর ধরে বন্দী বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের নতুন জীবন দান করেছেন। ১৯৭৪ সালে সম্পাদিত মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি এই অঞ্চলে এক দীর্ঘ বদ্ধজীবনে মানবেতরভাবে বেঁচে থাকা মানুষগুলোকে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার দিক নির্দেশনা দিয়েছিল। অবশেষে তা নতুন আলোকবর্তিকা প্রজ্বলিত করেছে ১ আগস্ট থেকে। বাংলাদেশের ভূখ-ে অবস্থানরত ১১১টি ছিটমহল বিলুপ্ত হয়ে বাংলাদেশ ভূখ-ে মিলে যাওয়ার পর নতুন নাগরিকদের দেশবাসী বরণ করে নিয়েছেন সাদরে।

এখন প্রয়োজন ভূখ-ের অন্যান্য মানুষের মতো সকল অধিকার প্রদান। এতে জমির মালিকানা নির্ধারণই অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ। এর সমাধান করা না গেলে সমস্যা থেকেই যাবে। আর যদি তা হয়, তবে অন্য সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে। তারা এখন জমি বিক্রি করতে পারবে এবং তা ত্রিশে নবেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু এদের অনেকেরই ঘরবাড়ি ও জমিজমার দখল নেই। কেউ কেউ সাদা কাগজের মাধ্যমেও জমিজমা কিনেছেন। অনেকের আবার জমির রেকর্ড, দলিল, খতিয়ান ইত্যাদি নেই। ইতোমধ্যে জমির মালিকানা নিয়ে হাঙ্গামা, মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। যা কাম্য নয়। এমনিতেই বিলুপ্ত ছিটমহলে পাকা রাস্তা নেই। বিদ্যুত নেই, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ডাকঘর, পুলিশ ফাঁড়ি ও ইউনিয়ন পরিষদও নেই, মূল ভূখ-ের সঙ্গে চলাচলের সুব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরী। যতদূর সম্ভব এই ‘নব্য স্বাধীন’ নাগরিকদের দেশের মূল ধারার সঙ্গে মিশে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি গড়ে তুলতে দেয়া গুরুত্ব বহন করে। ওদের কখনও ভোটাধিকার ছিল না। নেই পরিচয়পত্র, নির্বাচিত প্রতিনিধিও। তাদের ভিটের মৌলিক অবস্থান এমন যে, ওরা ব্রাত্যজন।

প্রায় নিরক্ষর এই মানুষদের জীবনে কোন স্পার্টাকাস আসেনি। তবে শেখ হাসিনা এসেছেন। উদ্ধার করেছেন বন্দীদশা থেকে। এখন তারা মুক্ত মানুষ, স্বাধীন দেশের নাগরিক। চলতি বাজেটে তাদের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা দিয়ে প্রস্তুতি কাজ শুরু হয়েছে। শুধু সরকারীই উদ্যোগেই নয় দেশের নতুন নাগরিকদের প্রতি বিত্তবানসহ সকল সহানুভূতি, সহমর্মিতার হাত বাড়ানো উচিত।