১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন পাটে কৃষকের হাসি

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ গত কয়েক বছর প্রতিকূল আবহাওয়া কারণে রাজশাহী অঞ্চলে পাটচাষে প্রায় বিমুখ হয়েছিলেন চাষী। তবে এবার নতুন আশায় সোনালি আঁশখ্যাত পাটচাষে নেমে বাম্পার ফলন পেয়েছে এ অঞ্চলের চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে রাজশাহী জেলার সর্বত্র পাটের বাজারে তেজিভাব বিরাজ করছে। ভাল উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্য থাকায় প্রতি বিঘার পাটে এবার ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লাভ করছেন পাটচাষিরা। পাটের দাম ভাল থাকায় রাজশাহী জেলার চাষিরা এবার দারুণ খুশি।

জেলার বড় বড় মোকামে এরই মধ্যে নতুন পাট আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী, কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলার হাটবাজারে প্রতি মণ তোষা জাতের পাট এক হাজার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত মওসুমে তোষা পাট প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে ৯০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে। ২০১৩ সালে পাটের দাম আরও কম ছিল। জেলার মাঠে মাঠে এখন পাট কাটা, জাগ দেয়া এবং পাট শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক পরিবার।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে পাটের। আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে।

চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৫১৭ হেক্টর। কৃষকরা জানান, প্রতিবিঘা জমিতে পাট চাষ করতে উৎপাদন খরচ হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিপরীতে ভাল দামে পাট বিক্রি করে কৃষকরা প্রতিবিঘা থেকে আয় করছেন ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা। এতে বিঘাতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লাভ থাকছে। বুধবার নওহাটা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পাট কেনাবেচার ধুম। পাট ব্যবসায়ী কোরবান আলী বলেন, এবার পাটের বাজার ভাল আছে।

এতে কৃষকরা খুশি। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হযরত আলী বলেন, পাটের ভাল দাম ও ফলন ভাল হয়েছে। চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। আগামীতেও পাটচাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সোনালি আঁশের অতীত ফিরে আসতে শুরু করেছে।

কলাপাড়ায় লবণসহিষ্ণু আবাদে সফলতা

নিজস্ব সংবাদদাতা কলাপাড়া থেকে জানান, কলাপাড়ায় কৃষক পর্যায়ে পতিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে লবণসহিষ্ণু জাতের পাট আবাদে সফলতা এসেছে। সেইসঙ্গে কলাপাড়ায় ব্যাপকভাবে পাট চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষককে আর্থিক লাভবানের সুযোগের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে সোনালি আঁশ পাট আবাদে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে সরকারীভাবে মাঠ পর্যায়ের এ কার্যক্রম শুরু হয় এপ্রিল মাসে। প্লট হিসেবে পাইলট আকারে পাটের আবাদের জন্য সেচ, নিড়ানি, চাষাবাদসহ সব সুবিধা দেয়া হয়।

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এর পাট ও পাটজাত ফসলে কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও হস্তান্তর প্রকল্পের গবেষণা পরীক্ষণ উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত সহিষ্ণু পাটের মাঠ মূল্যায়ন পরীক্ষণ কার্যক্রম হিসেবে মাঠ পর্যায়ে পাটের আবাদে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়। মঙ্গলবার দিনভর এসব পাইলট প্রকল্প পরিদর্শন করেন পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন।