১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদে খাদ্য সহায়তা পায়নি রাঙ্গাবালীর দুস্থ পরিবার

  • ৪৫ টন চালের হদিস নেই

স্টাফ রিপোর্টার, গলাচিপা ॥ ঈদ-উল-ফিতর পেরিয়ে গেছে ২০ দিন আগে। কিন্তু আজও পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের সাড়ে চার হাজার গরিব পরিবার সরকারের দেয়া খাদ্য সহায়তা পায়নি। দরিদ্র মানুষ যাতে আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারে এ জন্য পরিবার পিছু ১০ কেজি হারে মোট ৪৫ মেট্রিক টন চাল ওই ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ঈদের অন্তত ১০ দিন আগে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম মুন্সী উপজেলা ত্রাণ দফতর থেকে যথাসময়ে বরাদ্দপত্র গ্রহণ করেন এবং কাগজপত্রে খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলনও করেছেন। কিন্তু বাস্তবে এক চালও বিতরণ করেননি। বর্তমানে ওই চাল কোথায় এবং কি অবস্থায় আছে, তাও কেউ বলতে পারছেন না। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ জানান, চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বারবার তাগাদা দেয়ার পরও তা বিতরণ করেননি। এর মধ্য দিয়ে তিনি সরকারের দেয়া খাদ্য সহায়তা থেকে এলাকার মানুষকে বঞ্চিত করেছেন। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানান হয়েছে। জানা গেছে, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মুন্সী বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। যে কারণে ওই চাল বিতরণ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানা যায়নি।

এদিকে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি ও ভিজিএফের অন্য দুটি বরাদ্দের চাল আত্মসাতের অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদী হয়ে গত ১৬ জুলাই রাঙ্গাবালী থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিশেষ ভিজিএফ (মৎস্য) ও ভিজিডির ৯৩ দশমিক ৬১ মেট্রিক টন চাল ওই ইউনিয়নে বরাদ্দ দেয়া হলে এলাকার জনগণ বরাদ্দ চালের একটি অংশ কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ তোলে। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন বরাদ্দ চাল মেপে যাছাই করে। এতে সোয়া তিন টন চালের কোন হিসাব পাওয়া যায়নি। এছাড়া মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম মে মাসের ভিজিডির চাল আদৌ উত্তোলন করেননি। অথচ জুন মাসের ভিজিডি উত্তোলন করে তা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় বিধিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মোঃ আলিমউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।