১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘হেই যে গেলো আর আইলো না’

  • বরগুনার জেলেপল্লীতে আহাজারি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বরগুনা, ৫ আগস্ট ॥ মোর স্বামী, মাইয়া (মেয়ে) জামাই হেই যে গেলো আর আইলো না। এহন মানের বাড়ি কাম কাইজ কইরা সংসার চালাই, হেও দু’বেলা দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে পারি না মাইয়া-পোলার মুখে। লেহাপড়ার খরচটাও যোগার হরতে পারি না। হেরপরেও এহনো অপেক্ষায় আছি, যদি হে ফিরে আসে। এভাবেই বরগুনার মাঝের চর জেলে পল্লীর স্বামীহারা জাহানারা বেগম জানালেন তার কষ্টের কথা।

দু’বছর হয়ে গেলো বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকার করতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বামী শুকুর মিয়া। তাকে হারিয়ে ছেলেমেয়ে ও বৃদ্ধ শ্বশুরকে নিয়ে অসহায় দিনাতিপাত করছেন তিনি। ছেলেমেয়ের পড়ালেখা তো দূরের কথা, তাদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। শুধু জাহানারা বেগমের স্বামী শুকুরই না, একই ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছে এ পল্লীর ছয় জেলে। কেউ হারিয়েছে সন্তান, কেউ হারিয়েছে স্বামীকে, আবার কেউ হারিয়েছে পিতাকে।

উপকূলের জেলে পল্লীগুলোতে কত জেলে মারা গেছেন কিংবা নিখোঁজ রয়েছেন এর সঠিক কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রতিবছর শুধু ইলিশের মৌসুমে ২শ’ থেকে ৩শ’ জেলে নিখোঁজ হন বলে দাবি জেলে ট্রলার মালিক ও মৎস্যজীবীদের।

সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ জেলে পরিবারের খোঁজ রাখে না কেউ। না ট্রলার মালিক, না মহাজন, না সরকার। আর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারালে নিখোঁজ জেলে পরিবারগুলো সমাজ থেকেও হয়ে যায় বিচ্যুত। ধার দেনা তো দূরের কথা, ঠিক মতো কাজও দিতে চায় না তাদের। উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা ষাটোর্ধ আলতাফ জমাদ্দার। অনেকটাই দিকশূন্য তিনি কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। এমনকি কেউ ধারও দিতে চাইছে না তাকে। কেননা তাকে ধার দিলে যদি তিনি মারা যায় তখন কে পরিশোধ করবে ধারের টাকা। তাই তাকে না খেয়ে থাকতে হয়। তিনি বলেন, খোদায় নিবো নিবো আমারে নিতো, মোর পোয়ারে নিছে ক্যা? নাতি-নাতনিগো মুখের দিকে তাকাইত পারি না, পারি না দুগ্গা খাওন দিতে। ও আল্লাহ তুমি এমন ক্যা? মোর পোয়ারে ফিরাইয়া মোরে লইয়া যাও। আর সইতে পারি না এই যন্ত্রণা।

মাঝেরচর জেলে পল্লীর পাথরঘাটা অংশের ইরানী বেগমও হারিয়েছেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে। বেঁচে আছেন না মরে গেছেন সঠিক করে বলতে পারেন না তিনি। শুধু অপেক্ষায় আছেন যদি ফিরে আসে কোনদিন।

গজারিয়ায় মেয়েকে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ গজারিয়া উপজেলার ইমামপুরের ষোলআনী গ্রামে নিজে মেয়েকে হত্যার অভিযোগে বাবা আবুল হোসেনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ষোলআনী গ্রামের পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় একটি কঙ্কাল উদ্ধার হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয় কঙ্কালটি আবুল হোসেনের কন্যা সুমাইয়া আক্তারের (১৫)। পুলিশ বাদী গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ তদন্তের পর হত্যাকারী হিসেবে মেয়েটির নিজ পিতাকে পুলিশ শনাক্ত করে।

নির্বাচিত সংবাদ