২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারত থেকে বৈধ পথে গরু আমদানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে

  • বিকল্প বাজার খোঁজা হচ্ছে ॥ কোরবানির আগেই মিয়ানমার ভুটান ও নেপাল থেকে গরু আনা হবে

এম শাহজাহান ॥ ভারত থেকে বৈধপথে গরু আমদানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। অনুসন্ধান চলছে গরুর বিকল্প বাজার ও এ লক্ষ্যে মিয়ানমার, ভুটান ও নেপাল থেকে পশু আমদানি করা হবে। আমিষের প্রধান উৎস গোস্তের সরবরাহ নিশ্চিত ও ভোক্তাদের জন্য তা সহজলভ্য করার চেষ্টা গ্রহণ করা হচ্ছে। মুসলমানরা যেন আর্থিক সামর্থ্যরে মধ্যেই আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় পশু কোরবানিতে শরিক হতে পারেন থাকছে সেই চেষ্টাও। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে করণীয় ও কৌশল নির্ধারণে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভারত সীমান্তের ৩১ করিডর দিয়ে গরু আমদানি পুনরায় চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গরু বাণিজ্য নিয়ে যাতে বিজিপি ও বিএসএফের মধ্যে গোলাগুলি না ঘটে সে বিষয়েও সতর্ক থাকবে বাংলাদেশ। এছাড়া বর্ডার হাটগুলোতে গরু বেচাবিক্রি হতে পারে কি না সে বিষয়ে কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির বর্তমান সরকারের কঠোর নীতিমালার জন্য দেশটি থেকে গরু আমদানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার আশঙ্কা করছে, আগামী কোরবানি ঈদের সময় অভ্যন্তরীণ বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় করা না গেলে শেষ পর্যন্ত গরু নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে পারেন ভোক্তারা। এছাড়া গরুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ হওয়ার পর গত রমজানেই বাড়তি দামে ক্রেতাদের মাংস কিনতে হয়েছে। এখনও সেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। রাজধানীতে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৩৮০-৪২০ টাকা পর্যন্ত। এই বাস্তবতায় ভারত থেকে বৈধভাবে গরু আমদানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে করণীয় ও কৌশল নির্ধারণ করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে বৈধভাবে গরু আমদানির বিষয়ে প্রস্তাব দেয়া হবে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) নাজনীন বেগম জনকণ্ঠকে বলেন, ভারত থেকে গরু আমদানির বিষয়ে আগামী সপ্তাহে বৈঠক করা হবে। বৈধভাবেই যাতে দেশটি থেকে গরু ও অন্যান্য গবাদি পশু আমদানি হতে পারে সে বিষয়ে কৌশল নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের গরুর মাংসের দাম কিছুটা বেড়েছে। কোরবানির সময় এ সঙ্কট আরও বাড়তে পারে। এ কারণে গরু আমদানির বিষয়ে কি করা যায় সেটা নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতের বিকল্প বাজার অনুসন্ধান করা হচ্ছে, বিশেষ করে ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু আমদানি হতে পারে কি না সেটাও ভেবে দেখা হচ্ছে। আশা করছি, শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসবে।

এদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব মতে, দেশে এখন গরুর সংখ্যা ২ কোটি ৮৬ লাখ। এর মধ্যে ১ কোটি ৭৫ লাখ গাভী। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও মাংস ব্যবসায়ীদের হিসেবে, দেশে বছরে ১ কোটি ৩০ লাখের মতো গরু ও মহিষ জবাই হয়। এর মধ্যে ৮০ লাখ গরু। দুই ঈদে প্রায় ৬০-৬৫ লাখ গরুর চাহিদা রয়েছে। অন্য একটি হিসাব বলছে সারাবছরে যে পরিমাণ গরু জবাই হয় তার অর্ধেক প্রয়োজন হয় কোরবানির সময়। এ কারণে কোরবানির সময় গরু আমদানির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।