১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘরোয়া ফুটবলে নিষিদ্ধ ফরাশগঞ্জ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ একেই হয় তো বলে, ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া।’ এমনিতেই মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলে ১১ দলের মধ্যে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে, তার ওপর এ রকম শাস্তির খ—গ! যাদের ওপর এই শাস্তির সিদ্ধান্ত, তারা হলো পুরনো ঢাকার ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গত ৩ আগস্ট শেখ রাসেলের বিপক্ষে ম্যাচ অসমাপ্ত রেখে মাঠ থেকে উঠে যাওয়ায় এই মৌসুম এবং আগামী মৌসুমের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ থেকে নিষিদ্ধ হয়েছে ফরাশগঞ্জ ক্লাব। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে তাদের আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা এবং বাফুফে থেকে অনুদান হিসেবে নেয়া ১৩ লাখ টাকা ফেরতও দিতে নির্দেশ দিয়েছে লীগ ডিসিপ্লিনারি কমিটি। শেখ রাসেলকে ২-০ গোলে বিজয়ীও ঘোষণা করা হয় ওই ম্যাচে।

‘ম্যাচ কমিশনারের রিপোর্টের ভিত্তিতে, লীগের বাইলজ এবং রুলস এ্যান্ড রেগুলেশনের ভিত্তিতেই বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটি শাস্তি প্রদান করেছে ফরাশগঞ্জকে।’ বুধবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে দুই মৌসুম সাসপেন্ড হওয়াতে ফরাশগঞ্জ তৃতীয় মৌসুম থেকে সরাসরি প্রিমিয়ার লীগে খেলবে, নাকি অবনমিত হয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লীগে খেলবে?’ তাছাড়া আসন্ন স্বাধীনতা কাপ ও সুপার কাপে তারা খেলতে পারবে কি না? এ বিষয় দুটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে পেশাদার লীগ কমিটির পরবর্তী সভায়।’

বাফুফে সূত্রে আরও জানা গেছে, ৩ আগস্টের ওই ম্যাচে ফরাশগঞ্জের দুই কমকর্তাকে ‘গোলযোগ সৃষ্টিকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের ইতোমধ্যেই কারণ দর্শানো পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। শীঘ্রই তাদের বাফুফেকে কারণ দর্শানোর কথা।

বুধবার বাফুফে ভবনে আসা ফরাশগঞ্জের ফুটবল কমিটির সম্পাদক মানস বোস বাবুরাম বলেন, ‘আমাদের ক্লাবকে শাস্তির বিষয়টি ইতোমধ্যেই জেনেছি। আমরা শো-কজের জবাব নিয়ম অনুযায়ীই দেব। আজ আমরা বাফুফেকে আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি। আমরা মনে করি, ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত নয়। পেশাদার লীগ কমিটি আছে। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।’

বাবুরাম আরও বলেন, ‘সে দিনের ওই ম্যাচে আমাদের বিপক্ষে ওই পেনাল্টিটা যথাযথ ছিল না। ওটা ছিল অফসাইড। তারপরও খেলার স্বার্থে আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। তারপরের ঘটনা সবারই জানা।’ মজার বিষয় হচ্ছে, যে ‘রিফিউজ টু প্লে’-এর কারণে এত বড় শাস্তি পেল ফরাশগঞ্জ, সেই বাফুফের বাইলজের আট নম্বর ধারাটি জানেনই না বাবুরাম, ‘এই নিয়ম সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা ছিল না!’

উল্লেখ্য, ফরাশগঞ্জ-রাসেল ম্যাচটি প্রথমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল গত ৩১ জুলাই বিকেল সোয়া ৪টায়। কিন্তু ওই দিন ‘জেএফএ অনুর্ধ ১৪ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর দুটি সেমিফাইনাল ম্যাচের কারণে রাসেল-ফরাশগঞ্জের ম্যাচটি পিছিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় করা হয়। ম্যাচ শুরুর ৪ মিনিটের মধ্যেই ভারি বর্ষণের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ম্যাচট বডিলি শিফট করে পরের দিনে গড়ায়। কিন্তু পরের দিনও (১ আগস্ট) বৃষ্টি ও কাদায় মাঠ খেলার অনুপযোগী হওয়ার কারণে আরেক দফা পিছিয়ে ৩ আগস্ট গড়ায়। আর সেদিনই হয় তুলকালাম লঙ্কাকা-। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ঠিকমতোই শুরু হয়েছিল। এদিন বৃষ্টি না হওয়াতে মাঠও ছিল মোটামুটি ভাল। তারপরও ১৪ মিনিটের বেশি খেলা না হয়ে খেলা বন্ধ হয়ে যায়!

ম্যাচের ১৪ মিনিটে পেনাল্টি পায় রাসেল। মিডফিল্ডার জ জুলস ইকাঙ্গা পেনাল্টি শট নেন। বল জালেও ঢুকে ছিল। কিন্তু বল গোললাইন অতিক্রম করার আগেই বক্সে ঢুকে পড়েন ফরাশগঞ্জ ও রাসেলের খেলোয়াড়রা! নিয়ম অনুযায়ী গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ঠিক সে সময়ই রাসেলের নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড কিংসলে চিগুজি ফরাশগঞ্জের ডিফেন্ডার মাহফুজ বাবুকে সরাতে গেলে (অথবা ঘুষি মেরে) তিনি বক্সের মধ্যেই পড়ে যান। রেফারি হলুদ কার্ড দেখান কিংসলেকে। কিন্তু রেফারির এই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি হয়নি ফরাশগঞ্জ। ক্লাবের চেয়ারম্যান সেলিম খানের দাবিÑ যেহেতু তার খেলোয়াড় বক্সের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায়, তাকে আঘাত করেছেন কিংসলে, তাই রেফারির উচিত ছিল তাকে লাল কার্ড দেখানো। রেফারি যদি লাল কার্ড না দেন তবে যেন তার খেলোয়াড়রা মাঠে না ফিরে যায় এমন নির্দেশও তিনি দেন ফরাশগঞ্জের খেলোয়াড়দের। এরপর প্রায় ১৫ মিনিটেরও বেশি সময় বন্ধ থাকে ম্যাচ। রেফারি ফরাশগঞ্জের খেলোয়াড়দের মাঠে ডাকলেও তারা খেলতে না রাজি হওয়ায় ‘রিফিউজ টু প্লে’-এর নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচটি শেষ ঘোষণা করে বাফুফে ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে ম্যাচের রিপোর্ট জমা দেন ম্যাচ কমিশনার শেখ বদরউদ্দিন। এখন দেখার বিষয়, ফরাশগঞ্জের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কি ঘটে।