২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার দুটি রিট আবেদন খারিজ

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার দুটি রিট আবেদন খারিজ
  • দুই মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দুটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। খালেদা জিয়ার রিট আবেদন খারিজ এবং বিচারিক কার্যক্রমের ওপর আগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে বুধবার আদালতের রায়ে বলা হয়, গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম বিচারিক আদালতে চলবে। একইসঙ্গে এই রায় পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি মোঃ নূরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের সমন্বয়ে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য ১৭ জুন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখা হয় । অর্থাৎ যে কোন দিন রায় ঘোষণা করা হবে। অবশেষে বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার রুল শুনানিতে ১৯ এপ্রিল থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পক্ষে রুলের শুনানি ও যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল ও ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। দুদকের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন মোঃ খুরশিদ আলম খান।

রায় ঘোষণার পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জনকণ্ঠকে বলেন, ‘গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা নিয়ে খালেদা জিয়ার করা দুটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে রুল জারি করেছিল। উক্ত রুলের ওপর উভয়পক্ষের শুনানি করে বিষয়টি রায়ের জন্য ছিল আজ। দুদকের আইন এবং মামলা চ্যালেঞ্জ করে বেগম খালেদা জিয়ার করা দুটি রিট আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। তবে তার জামিন বহাল থাকবে। রায় প্রকাশ পাওয়ার দিন থেকে দুই মাসের মধ্যে ওনাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা দুদকের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছি কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে দুদক তার বিষয়ে ইনকোয়ারি করতে পারে। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপীল করবো। আশা করি এর প্রতিকার পাব।”

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সাবেক চার দলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী। মামলা হওয়ার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরী ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন। মামলাটি জরুরী ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকো। এর তিন দিন পর ওই খালেদা ও কোকোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেয় হাইকোর্ট। মামলাটি জরুরী ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা কেন ‘বেআইনী ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে নাÑ তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। তবে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ পরে আপীল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়। দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার আবেদনে হাইকোর্ট আবারও মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।

দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর দুদক মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয়। গত ১৯ এপ্রিল রুলের শুনানি শুরুর পর ১৭ জুন বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে আদালত। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামীও এ মামলার আসামি।