২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজার উন্নয়নে ২৫ কোটি ডলার দেবে এডিবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের পুঁজিবাজার ও বীমা খাতের উন্নয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশকে এবার ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেবে। উন্নয়নের ২৬টি শর্তপূরণ সাপেক্ষে চলতি ও আগামী অর্থবছরে সরকার এ ঋণ সহায়তা পাবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বলেন, এডিবি এবার ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (সিএমডিপি) প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে। তবে অর্থ বাজেট সহায়তার চরিত্র অনুযায়ী সরকার নিজের মতো করে যে কোন উন্নয়ন কর্মকা বা বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করতে পারবে।

ইআরডির এডিবি ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ ও ১০ আগস্ট বাজেট সহায়তা নিয়ে এডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের সমঝোতা বৈঠক রয়েছে। বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর এডিবির ম্যানিলার সদর দফতরের বোর্ড সভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এরপর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এডিবির চুক্তি সই হবে। সব মিলিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশী মুদ্রায় এডিবির ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে ১০ কোটি ডলার নমনীয় ঋণ হিসাবে দেবে এডিবি। পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ ২৫ বছরে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সুদ দিতে হবে ২ শতাংশ হারে।

বাজেট সহায়তার বাকি ১৫ কোটি ডলার আসবে কঠিন শর্তের ঋণ হিসেবে। ঋণের বিপরীতে লন্ডন আন্তঃব্যাংক সুদ হারের (লাইবর) সঙ্গে দশমিক ৬ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সব মিলিয়ে সুদের হার দাঁড়ায় ৩ শতাংশের বেশি। মাত্র তিন বছরের রেয়াতকালসহ ১৫ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

এডিবি এই ২৫ কোটি ডলার দেবে দুই কিস্তিতে। প্রথম দফায় ৮টি শর্তপূরণ সাপেক্ষে ৮ কোটি ডলার ছাড় করবে সংস্থাটি। ঋণচুক্তির ১৮ মাসের মধ্যে ওই শর্তগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পেতে সরকারকে ১৮টি শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি করতে হবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। তারপরই দাতা সংস্থাটি বাকি ১৭ কোটি ডলার ছাড় দেবে।

এর আগে পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচীতে (দ্বিতীয় পর্যায়ে) ৩০ কোটি ডলার সহায়ত দেয় এডিবি। ১৫ কোটি করে দুই দফায় ৩০ কোটি ডলার ছাড় করে সংস্থাটি। এজন্য পুঁজিবাজার বিষয়ক মোট ২৮টি শর্ত বাস্তবায়ন করতে হয় সরকারকে। সম্প্রতি এ কর্মসূচীর কাজ শেষ হয়েছে। ইআরডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এডিবির বেঁ?ধে দেয়া শর্তের মধ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ক আইন-কানুন সংশোধনের বেশকিছু প্রস্তাব রয়েছে।

এরমধ্যে রয়েছে- পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সিকিউরিটি এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জনবল বৃদ্ধিসহ সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালীকরণ এবং এসইসির সব কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করা। শর্তের মধ্যে আরও রয়েছে বীমা খাতের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন। বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ’র জনবল কাঠামো ও মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন-কানুন হালনাগাদেরও প্রস্তাব রয়েছে এডিবির শর্তে। এসব সংস্কারমূলক কাজ বাস্তবায়নে প্রশিণসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে এডিবি। এজন্য অতিরিক্ত সাত লাখ ডলার অনুদান সহায়তা দেবে সংস্থাটি।