১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আবারও কমল স্বর্ণের দাম

  • প্রতিভরি ৪১,৭৫৭ টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিক দরপতনের মুখে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। ভরিপ্রতি ১ হাজার ২২৫ টাকা কমানো হলেও বিশ্ববাজারের সঙ্গে এখনও দামের ফারাক প্রায় ৭ হাজার টাকা। গত ২২ দিন ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। দরপতনের মুখে দেশের বাজারে বুধবার সোনার নতুন দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভরিপ্রতি ১২২৫ টাকা কমানোর ফলে দেশের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ৪১ হাজার ৭৫৭ টাকা। আজ বৃহস্পতিবার থেকে এ মূল্য কার্যকর করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বাজুস সূত্রে জানা যায়, নতুন দাম অনুযায়ী প্রতিভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ভাল মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট প্রতিগ্রাম স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৫৮০ টাকা হলে প্রতিভরি ৪১ হাজার ৭৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে কমানো হয়েছে ১ হাজার ২২৫ টাকা। ২১ ক্যারেট প্রতিগ্রাম স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৪০০ টাকা হলে প্রতিভরি ৩৯ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতিগ্রাম স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৮৩০ টাকা হলে প্রতিভরি ৩৩ হাজার ৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিগ্রাম স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৮৭৫ টাকা হলে প্রতি ভরি ২১ হাজার ৮৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। রুপার দাম প্রতি ভরি ৮০ টাকা হলে প্রতিভরি ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার দাম ৯৩৩ টাকা।

জানা যায়, গত বছর দেশের বাজারে ১৪ বারের মতো স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ সময়ে এ ধাতব পদার্থের (স্বর্ণ) দাম কমানো হয়েছে। তবে নতুন বছরে এসে গত ২১ জানুয়ারি একবার দাম বাড়ানো হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম দরপতনের বৃত্তে আটকে যায়। এরপর দেশের বাজারে ১০ মার্চ, ২২ জুলাই ও সর্বশেষ বুধবার সোনার দাম কমানো হয়। এশিয়ার নগদ টাকার বাজারে (স্পট) বুধবার সোনার আউন্স প্রতি দাম ১১শ’ ডলারের নিচে নেমে আসে। ২০১০ সালের ২৬ মার্চের পর বুধবার সোনার ন্যূনতম দাম ১ হাজার ৮৬ ডলারের ঘরে এসে দাঁড়ায়। এদিকে বিশ্ববাজার থেকে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ার পেছনে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি’র নেতাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশের ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ কিনতে পারছে না। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে সংগৃহীত স্বর্ণের দ্বারাই দেশীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। ফলে দেশে চাহিদার বিপরীতে প্রয়োজনীয় জোগান হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক খান বলেন, সাধারণত বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশেও সোনার দাম ঠিক করা হয়।