২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতীয় ঋণের পরিমাণ ৬ কোটি ডলার বাড়ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ভারতের দেয়া ঋণের লাইন অব ক্রেডিট সংশোধন করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশকে দেয়া দেশটির প্রথম পর্যায়ের ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। বুধবার ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে এ সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশনের এশিয়া উইং সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, ভারতের দেয়া প্রথম পর্যায়ের ঋণের পরিমাণে ৬২ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ মুদ্রা বাড়ছে। ফলে মোট ঋণ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৮৬২ মিলিয়ন ডলার। ওই ঋণ সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশের রেলওয়ে, যোগাযোগ, অবকাঠামোসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ‘খুলনা-মংলা এবং কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলওয়ে প্রকল্প’ বাস্তবায়ন অন্যতম।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে খরচ বেশি হওয়ায় আরৗ অতিরিক্ত ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ মুদ্রার প্রয়োজন হচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এক সঙ্গে আলাপ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্তি ওই মুদ্রা খরচের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশকে দেয়া ভারতের প্রথম ঋণ সহায়তা (লাইন অব ক্রেডিট) ৮০০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৮৬২ মিলিয়ন ডলার হচ্ছে।

দুই দেশ সংশোধিত এই ঋণের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও ভারতের এক্সিম ব্যাংক এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এর আগে ভারতের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত রবিবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসে ইআরডির কর্মকর্তারা। সভায় ভারতের দেয়া ২০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে আরও বেশ কিছু বৈঠকে বা সিরিজ বৈঠকের মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে ভারত বাংলাদেশের রেলওয়ে, যোগাযোগ, অবকাঠামোসহ অন্যান্য উন্নয়নে মোট এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ মুদ্রার আর্থিক সহায়তা দেয়। যার মধ্যে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা এবং বাকি ২০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান হিসেবে দেয়া হয়।

চলতি বছরের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে এই ঋণের সমঝোতা চুক্তি হয়, যা দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) নামে পরিচিত। ভারতের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক বা এক্সিম ব্যাংক এ ঋণ দেবে। বুধবার দেয়া এই ঘোষণার মাধ্যমে অনুদানের অঙ্ক ঠিক থাকছে, তবে ঋণের পরিমাণ বাড়ছে ৬২ মিলিয়ন ডলার। এর আগেও ভারতের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে যার ২০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।