২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংখ্যালঘু সেল গঠনের দাবী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি জবরদখলের দখলের উন্মত্ততা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। অভিযোগ করে তারা বলেন, সরকারী দলের পরিচয়ে সংখ্যালঘুদের বাড়ী-ঘর, দোকানপাট, জায়গা-জমি, দেবোত্তর, গির্জা ও বিহারের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল জলছে। এ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী নির্বাচনে এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও হুমকী দিয়েছেন তারা। সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলে ‘সংখ্যালঘু সেল গঠন’ করে দ্রুততার সাথে বিশেষ বিবেচনায় সংখ্যলঘু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে দেশের সর্বশেষ সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি বছরের ৯৬ দিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে আপামর বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর উপর রাজনৈতিক সহিংসতার রেশ কাটাতে না কাটাতেই সরকারী দলের নাম ভাঙিয়ে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলের উন্মততা চলছে। সরকারী দলের সাংসদ, মন্ত্রী পরিষদের প্রভাবশালী সদস্যের নামও নানাভাবে বেরিয়ে আসছে। যা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফরিদপুরে মানস মুখার্জী নামক একজন অবসর প্রাপ্ত শিক্ষককে মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলায় জড়িত করে প্রভাবশালী মহল তাদের সর্বস্বান্ত করা উদ্যোগ নিয়েছে। দুটি পত্রিকার অঞ্চলিক প্রতিনিধির নাম উল্লেখ করে বলা হয়, সাংবাদিক সমাজও প্রভাবশালীদের অন্যায় অবিচার থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। এটি পুরো দেশের চিত্র নয়, আংশিক নির্যাতনের চিত্র বটে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, কক্সবাজার সদর উপজেলার পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের বৌদ্ধপল্লী বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমল থেকে আজ পর্যন্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাবেদ কায়সার নোবেল, সালাহউদ্দিন সেতু, মনির আহমেদ-র অমানুষিক নির্যাতনের শিকার। বর্তমানে এরা আওয়ামী লীগের পরিচয় নিয়েছে এবয় জনগোষ্ঠীকে প্রকাশ্যে হুমকী দিচ্ছে।

সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র তুলে সংগঠনের পক্ষে রানা দাশগুপ্ত দাবী করেন, মার্কিন কংগ্রেসের সর্বসম্মত আহ্বানের আলোকে দেশের অরক্ষিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষায় এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অভিপ্রায়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলে সংখ্যালঘু সেল গঠন করে দ্রুততার সাথে বিশেষ বিবেচনায় সংখ্যলঘু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রানা বলেন, সংখ্যালঘুরা কারও ভোটব্যাংক নয়। আমরা ভোট দিয়ে কারও গাড়িতে যেমন পতাকা তুলে দিতে পারি, তেমনি আবার ভোট না দিয়ে সে পতাকা নামিয়েও নিতে পারি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, হিউবার্ট গোমেজ, কাজল দেবনাথ, সঞ্জিব দ্রং, ড. জিনবোধি ভিক্ষু, মিলন দত্ত, দ্বীপেন চ্যাটার্জী, ক্যাপ্টেন (অব.) শচীন কর্মকার, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ভদন্ত সুনন্দপ্রিয় ভিক্ষু, জে এল ভৌমিক প্রমুখ।