২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যৌবনের রক্তে বার্ধক্য দূর ॥ গবেষণায় দাবি

কথায় বলে যৌবনে নাকি রক্তের তেজ বেশি থাকে। বিজ্ঞানীরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন, কথাটা উল্টো দিক থেকেও সত্যি। অর্থাৎ রক্তের তেজ যদি ধরে রাখা যায়, তাহলে যৌবনকেও হাতের মুঠোয় রাখা যেতে পারে। সম্প্রতি নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোলজির অধ্যাপক টনি ওয়াসি-কোরে গবেষণায় দেখেছেন, রক্তের মাধ্যমেই কৈশোর যৌবনে এবং যৌবন জরায় রূপান্তরিত হয়। সেই সূত্রেই তার দাবি, নবীন রক্তই পারে প্রবীণের জরা বিলম্বিত করতে। টনি এমনিতে দীর্ঘদিনই বার্ধক্য নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তার আগ্রহের বিষয় ছিল আলঝেইমার্স। টনি খুঁজে দেখার চেষ্টা করছিলেন, কে এই রোগে আক্রান্ত হবেন সেটা তার যৌবনকালে আগাম বলে দেয়া যায় কি না! শেষ অবধি তিনি বুঝলেন, উত্তরটা লুকিয়ে আছে রক্তে। ৭০০ রকম উপাদান নিয়ে ধমনী-শিরা-জালিকার ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রায় ৯৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় রক্ত। বয়স যত বাড়ে রক্তে কয়েকটি প্রোটিনের পরিমাণ তত কমে। আবার কয়েকটি প্রোটিনের পরিমাণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রবীণদের রক্তে কয়েকটি প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় তিনগুণ হয়ে যায়। এই প্রোটিনের বাড়া-কমার সঙ্গে আলঝেইমার্সের সম্পর্ক খুঁজে পান টনি আর তার দল। অন্য দিকে স্টেম কোষ নিয়ে কাজ করছিলেন বিজ্ঞানী টমাস রান্ডো।

শরীরের কোষগুলোকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে ওই কোষের প্রয়োজন। কিন্তু প্রবীণদের দেহে স্টেম কোষ ঠিক মতো কাজ করে না। টমাসের মাথাতেও প্রশ্ন এল, কোন সঙ্কেত পেয়েই কি স্টেম কোষ তার কাজ বন্ধ করে দেয়? উত্তর খুঁজতে একসঙ্গে কাজ শুরু করেন টনি-টমাস। তরুণ ইঁদুরের রক্ত দেয়া হয় বয়স্ক ইঁদুরের শরীরে। রক্তে বেশ কিছু প্রোটিন আছে যারা কোষকে সতেজ রাখে। আবার কিছু প্রোটিন কোষকে বুড়োটে করে দেয়। কম বয়সীদের রক্তে এই সতেজ করার প্রোটিন বেশি মাত্রায় থাকে। -গার্ডিয়ান ও আনন্দবাজার পত্রিকা