২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিন ॥ প্রধানমন্ত্রী

তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিন ॥ প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রযুক্তি কখনও থেমে থাকার জন্য আসে না। এ জন্য বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় টিকে থাকতে হলে প্রত্যেককে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

পল্লী অঞ্চলসহ সাধারণ মানুষ যাতে সহজে প্রযুক্তি সুবিধা লাভ করতে পারে এ জন্য সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বৃহস্পতিবার ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় বৈঠকে এ নির্দেশ দেন। খবর বাসসর।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রযুক্তি কখনও থেমে থাকার জন্য আসে না। সব সময় এর রূপান্তর ঘটছে। প্রযুক্তির এই অগ্রগতির সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে।’

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফকালে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশকে এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণকে সব ধরনের সরকারী সেবার সুফল পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছর আগে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মূল লক্ষ্য নিয়ে টাস্কফোর্স গঠিত হয়। এ লক্ষ্যে সরকার অনেক দূর এগিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেইন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শ্যামসুন্দর শিকদার অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতে তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির কার্যক্রম তুলে ধরেন।

প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে দেশের ব্যাপক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি দুর্নীতি অনেক কমিয়েছে এবং জনগণের জীবনযাত্রা সহজ করতে ব্যয় ও সময়ের সাশ্রয় করেছে।

বৈঠকের শুরুতে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, এই মহান নেতা ১৯৭৫ সালের এ মাসে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে সারাজীবন অতিবাহিত করেছেন।

এমন এক সময় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, যখন তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেছিলেনÑ এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসি। এ লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা ॥ শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স গঠনের সময় অনেকে তাঁকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে দৃঢ়সঙ্কল্পবদ্ধ ছিলেন।

ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতির প্রাথমিক দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, কম্পিউটার সম্পর্কে তাঁকে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় হাতেখড়ি দিয়েছেন।

তিনি এ কথাও উল্লেখ করেন যে, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে জনগণের কাছে তা সহজলভ্য করতে ১৯৯৬ সালে তাঁর সরকার প্রথম কম্পিউটারের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেয়।

তিনি বলেন, নব্বই দশকের প্রথম দিকে ক্ষমতাসীনরা বিনা খরচে সাবমেরিন কেবল স্থাপনে সুযোগ পেয়েও তা না করার কারণে দেশে আইটিসি সার্ভিস স্থাপনের কাজ পিছিয়ে যায়।

তথ্যপ্রযুক্তির সেবার বিভিন্ন ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামের মানুষ এখন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সজাগ হয়ে উঠেছেন। কারণ এই সুবিধা তারা এখন স্বাস্থ্যসেবা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিভিন্ন বিল পরিশোধ এবং টাকা প্রেরণ ও উত্তোলনে ব্যবহার করছেন।

তিনি বলেন, দেশের ৮ হাজার ডাকঘর পর্যায়ক্রমে ডিজিটাইজ করার প্রক্রিয়া চলছে।

বৈঠকে টাস্কফোর্সের প্রথম সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের জন্য নেয়া সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি আলোচনা হয়। এতে বলা হয়, বিগত বৈঠকের ১৬টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৭টি বাস্তবায়িত ও ৮টি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত উদ্যোগ নেয়ার পরও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।