২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশিষ্ট নাগরিকদের হুমকিদাতারা ধরা পড়ছে না

  • তদন্ত চলে যাচ্ছে হিমাগারে

শংকর কুমার দে ॥ চলতি বছরের বিগত ৭ মাসে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে ৪৭ বিশিষ্ট নাগরিককে। হুমকিপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, অধ্যাপক, ডাক্তার, ইনঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী প্রমুখ। ফেসবুক, ই-মেল, চিঠিতে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে এসব বিশিষ্ট নাগরিককে। হত্যার হুমকি দেয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানায় জেনারেল ডায়েরি করা হয়েছে। জিডির তদন্ত করছে র‌্যাব, পুলিশ, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু রহস্য উদঘাটিত হচ্ছে না। দিনে দিনে জিডির তদন্ত চলে যাচ্ছে হিমাগারে। হত্যার হুমকিদাতারা ধরা পড়ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সর্বশেষ হত্যার হুমকি দেয়া হয় ঢাকা (উত্তর) সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হককে। গত ১৪ জুলাই মেয়র আনিসুল হককে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। গত ৩ আগস্ট মেয়র বাদী হয়ে গুলশান থানায় এ সংক্রান্ত একটি জিডি করেন। তেজগাঁও এফডিসির গেট এলাকা থেকে হত্যার হুমকির অভিযোগে ১২১ টি ইয়াবাসহ এস এম নাহিদ হ্যাপি নামের এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-২। র‌্যাব জানিয়েছে, সে আসলে ইয়াবাসক্ত। মানুষকে হুমকি দিয়ে টাকা আদায় ও চাঁদাবাজি করাই তার কাজ। প্রশ্ন উঠেছে, এত শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, ধনকুবের থাকতে এই যুবক ঢাকার উত্তরের মেয়রকে টাকা ও চাঁদার জন্য হুমকি দিলেন কেন? আসলে হত্যার হুমকি দেয়ার কারণ কি? তার পেছনে কেউ আছে কিনা ? ভয়ভীতি, আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য পর্দার অন্তরাল থেকে কোন মহল কলকাঠি নাড়ছে কি ? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও রহস্যাবৃত।

গত ২ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি একে আজাদ চৌধুরী, অভিনেত্রী শমী কায়সারকে নাস্তিক আখ্যায়িত করে লেখা চিঠিতে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

গত ১৬ জুন হত্যার হুমকি দেয়া হয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিকীসহ ২৫ বিশিষ্ট নাগরিককে। হত্যার হুমকি দেয়া চিঠিটি আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ১৩-এর প্যাডে লেখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিকীকে চিঠিটি তার কার্যালয়ে পাঠানোর পর একটি জিডি করা হয় শাহবাগ থানায়।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তকে হত্যার হুমকি দেয়া হয় গত ৮ এপ্রিল। ১৩ এপ্রিলের মধ্যে যে কোনভাবে তাকে হত্যা করা হবে বলে মোবাইল ফোনের এসএমএসে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় একটি জিডি করেছেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। জিডি নম্বর ২৯৯।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে রাজধানীর রমনা থানায় জিডি করা হয়েছে। জিডি নম্বর ৮১৭।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে গত ১৪ এপ্রিল। তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ছাত্রশিবিরের এক প্রবাসী নেতা পরিচয়ে। হত্যার হুমকির পর আইন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

গত ২১ মে ইসলাম বিরোধী আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামসহ ১০জনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয় চিঠিতে। চিঠির নিচে প্রেরকের ঠিকানায় উল্লেখ করা হয় আল কায়েদা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-১৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিকী, শাহজালার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা কাবেরী গায়েন, জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট, অসীম সরকার, সংসদ সদস্য(বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী) তারানা হালিম, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবালুর রহিম।

আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-১৩ প্যাডে লেখা চিঠিতে গত ১৬ জুন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিকীসহ ২৫ বিশিষ্ট নাগরিককে হত্যার হুমকি দেয়ার পর শাহবাগ থানাসহ বিভিন্ন সময়ে থানায় জিডি করা হয়। হত্যার হুমকিপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর, সাংবাদিক আবেদ খান, মুন্নী সাহা, অঞ্জন রায়, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, নাট্যব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, রামেন্দু মজুমদার, সৈয়দ হাসান ইমাম, টেলিভিশন উপস্থাপিকা নবনীতা, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফত এবং সঙ্গিতা ইমাম।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে বিভিন্ন সময়ে হত্যার হুমকি দেয়া ছাড়াও সোমবার রাতে ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর ফজলুল রহমান বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের(জাসাস) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ কয়েকজনকে আসামি করে দায়ের করা মামলাটি এখন তদন্তাধীন।