২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গার্মেন্ট শিল্প খাতের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এগিয়ে

  • বিজিএমইএ এক্সপো সেমিনারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ গার্মেন্ট শিল্প খাতে বাংলাদেশের সাফল্য দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিচ্ছে। বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের মৌলিক উৎপাদনে বাধা অনেক কম। বাংলাদেশের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে কম উন্নত দেশগুলো বিষয়টি লক্ষ্যও করছে। দেশের গার্মেন্ট শিল্প খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরতে গিয়ে এমন মন্তব্য করলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে হোটেল র‌্যাডিসনে বিজিএমইএ এক্সপো আয়োজিত ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এ আশার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তার মতে, আন্তর্জাতিক মানদ-ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিনিয়োগ, নিরাপত্তার ইস্যুগুলো ঠিক রাখা এবং শ্রমিকদের কথা বলার সুযোগ রাখা গেলে এ খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়বে। আর প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আমি দ্রুতই মূল্যায়ন করতে পেরেছি যে বাংলাদেশ এবং এর জনগণের অসাধারণ গুণের মধ্যে একটি হলো ইতিহাসের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা। এ জাতি ইতিহাস জানেন, এটি নিয়ে কথা বলেন এবং এর দ্বারা পরিচালিত হন। তাই ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ সম্পর্কে এই দিনে যে বার্তাটি আমি আপনাদের দিতে চাই তা হলো, আমরা যেমনটি জানি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আজ চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এটি কোন হুমকি নয় বা কোন ষড়যন্ত্রের ফলও নয়, এটি হলো পোশাক শিল্পের ইতিহাসে বারবার পুনারাবৃত্তি হওয়া ঘটনার পরিষ্কার স্বীকৃতি। পোশাক এবং বস্ত্রশিল্প অনেক দেশের শিল্প উন্নয়নে প্রাথমিক ভূমিকা রেখেছে। তবে এই উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে এবং শ্রমিকদের সামর্থ্য এবং বেতন বাড়তে থাকলে এই পোশাক এবং বস্ত্রশিল্প পরিণত হয়ে উন্নততর পণ্য উৎপাদন করে অথবা অন্যত্র প্রতিযোগীদের কাছে হেরে যায়। যুক্তরাষ্ট্রেও এমনটি ঘটেছিল যেখানে উৎপাদন বিদেশে হাতছাড়া হওয়ার পূর্বে দেশটির উত্তরের রাজ্যগুলো থেকে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। সম্প্রতি এই প্রবণতা আমরা চীনেও শুরু হতে দেখেছি। ভুল করবেন নাঃ এটি বাংলাদেশেও ঘটবে এবং ঘটছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, মূল কথা, এই সম্ভাব্য পরিবর্তন হলো একটি সাফল্যের গল্পঃ বাংলাদেশ অর্থনীতি বড় হচ্ছে, নাগরিকদের সম্পত্তি ও আশা-আকাক্সক্ষা বাড়ছে। বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি অর্জন করায় আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং আশা করছি নিকট ভবিষ্যতে পূর্ণ মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি অর্জন করবে। কিন্তু এটি করার পথে যে তুলনামূলক সস্তা শ্রমের সাহায্যে আপনারা প্রতিযোগিতামূলক আছেন তা টেকসই হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাফল্য ইতোমধ্যেই বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিয়েছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের মৌলিক উৎপাদনে বাধা অনেক কম, এই ব্যাপারটি অন্য দেশগুলোও লক্ষ্য করেছে- যারা বাংলাদেশের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে কম উন্নত। এই বিষয়টিতে ক্রেতারাও অবগত। গত মাসে ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল একটি প্রতিবেদনে প্রধান ব্র্যান্ডগুলোর পূর্ব আফ্রিকায় সাপ্লাই নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারটি উল্লেখ করা হয়, যেখানে খরচ উন্নয়নশীল বাংলাদেশের চেয়ে কম। আমি বুঝতে পারছি বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের মধ্যে অনেকেই সেখানে কারখানা তৈরি করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আপনাদের দেশ এবং প্রতিযোগীদের পাশাপাশি ক্রেতারও পরিবর্তন হচ্ছে। রানা প্লাজা এবং তাজরিন ফ্যাশনের দুর্ঘটনা ক্রেতা এবং ভোক্তাদের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা এবং কর্মীদের অধিকার নিয়ে সচেতন হতে শিখিয়েছে যা আগে কখনও হয়নি। যার অর্থ হচ্ছে ক্রেতাদের নিশ্চিত করা তারা যে শিল্প থেকে ক্রয় করছে তা আন্তর্জাতিক মানদ- মেনে চলে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক মানদ-ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আপনারা বিনিয়োগ করতে পারেন নতুন যন্ত্রপাতি, কৌশল ও নিরাপত্তার ইস্যুগুলো ঠিক করতে পারেন এবং পাশাপাশি আপনাদের শ্রমিকদের কথা বলার সুযোগ দিতে পারেন। এতে আপনাদের ব্যবসার উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং আপনারা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প পুনরায় উদ্ভাবনের জন্য বিকল্প খোঁজা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। নিচে নামার জন্য আপনাদের কোন প্রতিযোগিতার দরকার নেই। কম প্রতিযোগিতামূলক ও অনিরাপদ শিল্প কারখানাগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। বাংলাদেশের পথটি হওয়া উচিত একটি দেশ হিসাবে যেটি বিশ্বকে দেখিয়ে যাচ্ছে যে কিভাবে গণতান্ত্রিক সমাজে সুষম উন্নয়ন লালন করা যায়। ওই অগ্রগতিতে অবদান রেখে চলার সক্ষমতা তৈরি পোশাক খাতের থাকা উচিত। সংস্কারের যে রূপরেখা নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করেছি এবং কাজ করেছি সেই লক্ষ্যে একত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে সফলতা সম্ভব।

নির্বাচিত সংবাদ