১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে বিমসটেক

  • আজ থাইল্যান্ডে তিন দিনের বৈঠক শুরু

এম শাহজাহান ॥ জোটভুক্ত সাত দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট বিমসটেক। এই জোটের আওতায় গড়ে তোলা হবে বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল। শুল্ক-অশুল্কজনিতসহ বাণিজ্য বিষয়ক যেসব বাধা রয়েছে তা দূর করা হবে। শক্ত অবস্থান নেয়া হবে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে। আর এজন্য প্রয়োজন উৎপাদনমুখী শিল্পে আরও বিনিয়োগ। সেই বিনিয়োগ হতে পারে বাংলাদেশে। ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেক দেশ। থাইল্যান্ডে বিমসটেকের ট্রেড নেগোসিয়েশন কমিটির (টিএনসি) বৈঠকে এবার এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। আজ থেকে শুরু হয়ে আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী চলবে এই বৈঠক। এই বৈঠকে যোগ দিতে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন।

জানা গেছে, প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানবসম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ১৯৯৭ সালের ৬ জুন বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিসটেক) নামে উপ-আঞ্চলিক জোট গঠন করা হয়। তবে ২০০৪ সালে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান এতে যোগ দিলে নতুন নাম হয় ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল এ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ বা বিমসটেক। জোটভুক্ত এই সাতটি দেশ মোট ১৪টি বিষয়ে একত্রে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরমধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি, বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে সহায়তা, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, পর্যটনশিল্পের বিকাশ, কৃষি ও মৎস্য খাতের সম্প্রসারণ ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহায়তা অন্যতম। এছাড়া শুরু থেকেই সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মোকাবেলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এজন্য সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মনোজ কুমার রায় জনকণ্ঠকে বলেন, আঞ্চলিক জোট বিমসটেক কার্যকর দেখতে চায় বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক দিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট। এই জোটের সচিবালয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে এবার ট্রেড বিষয়ক নেগোসিয়েশন বৈঠক শুরু হচ্ছে। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও কতগুলো বিষয় তুলে ধরা হবে। রুলস অব অরিজিন, রফতানিতে শুল্ক-অশুল্কজনিক সমস্যা দূরীকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোর ওপর এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্প্রসারণ হওয়া প্রয়োজন। তবেই বিমসটেক অর্থবহ হবে।

জানা গেছে, বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে পরিচালিত হচ্ছে বিমসটেক ট্রান্সপোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার এ্যান্ড লজিস্টিক স্টাডি (বিটিআইএলএস)। বিদ্যুত ও জ্বালানি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তার লক্ষ্যে বিমসটেক এনার্জি সেন্টার নিয়ে কাজ চলছে। তাছাড়া বিমসটেক দেশগুলোয় বিদ্যুতলাইনের আন্তঃসংযোগ নিয়েও কাজ চলছে। এ বিষয়ে ২০০৫ সালের অক্টোবরে নয়াদিল্লীতে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানিমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহায়তার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কায় একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এ বিষয়ে সর্বশেষ আলোচনা হয়েছে নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিমসটেক সম্মেলনে। বাংলাদেশে বিষয়টি দেখভাল করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে থাইল্যান্ড শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল কাঠামো চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ওই বছরের ২৫ জুন। এই চুক্তি কার্যকর করতে সব দেশের অংশগ্রহণে ট্রেড নেগোসিয়েশন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা। এই চুক্তির আওতায় গত ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে বিনা শুল্কে পণ্য বাণিজ্য চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু নানা ধরনের জটিলতার কারণে এটি বাস্তবায়ন হতে পারেনি।