২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মহাসড়কে আন্দোলনে সমর্থন নেই সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে তিন চাকার ধীরগতির যানবাহন বা থ্রি-হুইলার চলতে না দেয়ার সরকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ২০-২৫ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। তারা বলছেন, সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে মহাসড়ক থেকে ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধের বিকল্প নেই। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতি পরিষদের পক্ষ থেকে সমর্থন জানানো হয়। পাশাপাশি এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারকে পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ আশ্বাস দেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ, জাতীয় মহাসড়কে অটোরিক্সা বন্ধে সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনকেও অযৌক্তিক দাবি করেন। তারা বলেন, এই আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত অর্থে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের কোন সম্পর্ক নেই।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, সারাদেশে জাতীয় মহাসড়ক ৩ হাজার ৫৭০ কিলোমিটার। এছাড়া দেশে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার সড়কে থ্রি-হুইলার যানবাহন চলাচলে কোন বাধা নেই। যা মোট সড়কের এক দশমিক চার দুই শতাংশ।

বিভিন্ন দেশের মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারাদেশে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স জব্দসহ ভুয়া লাইসেন্সধারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন, তার সঙ্গে একমত পোষণ করছি। আমরা চাই, সবাই দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলুক। পাশাপাশি পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। এতে সড়ক দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার এনায়েতউল্ল্যাহ বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে এটি করতে হবে। আগে দেখতে হবে, জীবনের ক্ষয়ক্ষতি লাঘবে কোনটি বেশি প্রয়োজন। যারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া যানবাহনের মালিকদের কী হবে, তাদের আগে ভাবতে হবে, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় কত মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই সবার আগে মানুষ বাঁচাতে হবে। এরপর বিকল্প জীবিকার সন্ধান করতে হবে।

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের প্রেক্ষাপটে ধীরগতির যানবাহন বা থ্রি-হুইলারের জন্য আলাদা লেন তৈরি সম্ভব নয়। কারণ আমাদের দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা সবার বোঝা উচিত। হঠাৎ করেই দাবি করলে সব জাতীয় মহাসড়কে পৃথক লেন করা যাবে না। উল্লেখ্য, এক আগস্ট থেকে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় মহাসড়কে অটোরিক্সাসহ সকল প্রকার তিন চাকার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব ওসমান আলীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।