২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর করা হচ্ছে

  • কম বয়সীদের জন্য ৫

তপন বিশ্বাস ॥ পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর হচ্ছে। তবে ১৫ বছর বা তার কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এর মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এছাড়া অফিসিয়াল পাসপোর্টের ব্যাপ্তি কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জনগণের ভোগান্তি হ্রাস এবং পাসপোর্ট অফিসের ওপর থেকে চাপ কমাতে সরকার পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একবার পাসপোর্ট নিলে তা চলবে ১০ বছর। কোন রিনিউ করারও প্রয়োজন পড়বে না। তবে ১৫ বছর বা তার কম বয়সীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। পাঁচ বছর মেয়াদের পাসপোর্টের জন্য ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে সাধারণ তিন হাজার টাকা। এর সঙ্গে ৪৫০ টাকা ভ্যাট যুক্ত হয়ে মোট জমা দিতে হবে তিন হাজার ৪৫০ টাকা। আর জরুরীর ক্ষেত্রে জমা দিতে হবে ছয় হাজার টাকা এবং ভ্যাট ৯০০ টাকা। সব মিলিয়ে মোট জমা দিতে হবে ৬ হাজার ৯০০ টাকা।

১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে সাধারণ চার হাজার টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভ্যাট ৬০০ টাকা। আর জরুরীর ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণ হচ্ছে আট হাজার টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট যোগ হবে এক হাজার ২০০ টাকা। সব মিলিয়ে জরুরী পাসপোর্ট পেতে ব্যাংকে মোট জমা দিতে হবে নয় হাজার ২০০ টাকা। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

অতীতে একটি পাসপোর্টের মাধ্যমে গ্রাহক ১০ বছর যাবত বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পেতেন। সেক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর ফি প্রদান করে পাসপোর্ট নবায়ন করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে ১০ বছর মেয়াদে সরকার যে এমআরপি প্রদান করতে যাচ্ছে, এতে নবায়নের কোন প্রয়োজন পড়বে না। ১০ বছর পর নতুন করে পাসপোর্ট গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া অফিসিয়াল পাসপোর্টের ব্যাপ্তি কমানোর চিন্তাভবনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই রকমের পাসপোর্ট প্রদান করার চিন্তাভাবনা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যারা অফিসিয়াল কাজে বিদেশ সফর করবেন তাদের দেয়া হবে অফিসিয়াল পাসপোর্ট। এক্ষেত্রে পাসপোর্টের ওপর লেখা থাকবে ওসি (অফিসিয়াল)। আর সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা ব্যক্তিগত সফরে যাবেন তাদের পাসপোর্টে লেখা থাকবে পিজি (পাসপোর্ট গবর্নমেন্ট)।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত অফিসিয়াল পাসপোর্টের অপব্যবহারের কারণে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে দুই রকমের পাসপোর্ট প্রদানের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। কিন্তু দুই রকমের পাসপোর্ট প্রদান করলে অধিকাংশ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসিয়াল পাসপোর্ট থেকে বঞ্চিত হবেন। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। সে লক্ষ্যে অন্য উপায়ও খুঁজে রেখেছে মন্ত্রণালয়। অনেকে মিথ্যা অনাপত্তি প্রদানের মাধ্যমে সরকারী পাসপোর্ট গ্রহণ করছেন। এমনকি তারা মিথ্যা জিও (সরকারী আদেশ) তৈরি করে নিয়েও বিদেশ যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে কোথাও কোথাও দেশে ফেরত না আসার মতো ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে বর্তমানে অফিসিয়াল পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অধিদফতর অধিক যাচাই-বাছাই করছে। পাশাপাশি এখন থেকে অফিসিয়াল পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ যেতে জিও (সরকারী আদেশ) অনলাইনে প্রদান করা হবে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সকল মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিচ্ছে। এতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট নিয়ে কেউ বিদেশে যেতে চাইলে ওই জিও ইমিগ্রেশন থেকে যাচাই করা হবে। জিও অনলাইনে না দিলে ইমিগ্রেশন ওই পাসপোর্টধারীকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেবে না। এতে অফিসিয়াল পাসপোর্টের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় সুফল মিললে এটিই বহাল থাকবে। সেক্ষেত্রে পিজি পাসপোর্ট প্রদান না করলেও চলবে।