১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একি করলেন মেসি?

একি করলেন মেসি?

জিনেদিন জিদানের মতো কা- ঘটিয়ে সমালোচিত বার্সিলোনা তারকা, আলোচিত কলঙ্কিত ঘটনাগুলোর সাক্ষী ইতালিয়ান ফুটবলাররা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মেজাজ হারিয়ে একি করলেন লিওনেল মেসি। তাই বলে প্রতিপক্ষের ফুটবলারকে মাথা দিয়ে ঢুস মারবেন! শুধু কি তাই, সেই ফুটবলারের গলাও চেপে ধরেন সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার!! মেসির দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সেই ফুটবলারটি হলেন ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমার ফরাসী ডিফেন্ডার এমাপো ইয়াঙ্গা-এমবিয়া। বুধবার রাতে ন্যুক্যাম্পে জোয়ান গ্যাম্পার ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে অনাকাক্সিক্ষত এই কা- ঘটান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

অবশ্য মেসির সৌভাগ্য, এই অযাচিত ঘটনার দরুণ লালকার্ড দেখতে হয়নি তাকে। এরপরও তার সমালোচনায় মুখর এখন ফুটবলবিশ্ব। মেজাজ হারালেও ম্যাচে এক গোল করেন মেসি। নেইমার ও ইভান রাকিটিচের করা আরও দুই গোলের সুবাদে অতিথি রোমাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ৫০তম গ্যাম্পার ট্রফি শোকেছে ভরেছে বার্সিলোনা। মাঠে ফুটবলারদের মেজাজ হারিয়ে কলঙ্কিত ঘটনার জন্ম দেয়া নতুন কিছু নয়। তবে ঘটনাটির সঙ্গে যখন মেসির নাম জড়িয়ে পড়ে তখন তা অবিশ্বাস্যই লাগে। কেননা শান্ত ব্যবহার, মুখে সব সময়ই হাসি, প্রতিপক্ষকে সব সময়ই সম্মান দেখানোর জন্য সর্বদাই প্রশংসিত মেসি। সেই তিনিই পরশু রাতে যা করেছেন তা অবিশ্বাস্যের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ফুটবল মাঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কামড়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটে কয়েকবার। গলা ধাক্কা দিয়ে লালকার্ড দেখার ঘটনাও কম নয়। কিন্তু মেসির দ্বারা এমন কা- ঘটবে তা কেউ ভাবতেও পারেননি। জোয়ান গ্যাম্পার ট্রফির ম্যাচে ইয়াঙ্গা এমবিয়ার গলা চেপে ধরে ফুটবল বিশ্বকেই চমকে দিয়েছেন মেসি। প্রীতি ম্যাচ আর তার নামের প্রতি সম্মান দেখিয়ে রেফারি কেবল তাকে হলুদ কার্ড দেখান। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হলে লালকার্ডের পাশাপাশি কমপক্ষে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারতেন। ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জিনেদিন জিদান এমন কা- ঘটিয়ে ফুটবলবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জির বুকে ঢুস মেরেছিলেন ফরাসী কিংবদন্তি। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইতালির জিওর্জিও চিয়েল্লিনিকে কামড় দিয়ে নিষিদ্ধ হন উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ। এবার মেসির দ্বারা আক্রান্ত ফুটবলারটি ফ্রান্সের হলেও তার ক্লাব ইতালির। কোপা আমেরিকায় চিলির কাছে ফাইনালে হারের পর থেকেই সমালোচনায় জেরবার মেসি। বার্সিলোনার প্রাক-মৌসুম সফরে ছিলেন বিশ্রামে। নেইমারের সঙ্গে এই ম্যাচে তিনিও ফেরেন কাতালানদের হয়ে। মেসি-নেইমার যুগলবন্দীতে দুর্দান্ত খেলতে থাকে বার্সা। ২৬ মিনিটে নেইমারের গোলে এগিয়েও যায় গত মৌসুমের ট্রেবলজয়ীরা। কোপা আমেরিকার হতাশা মুছে মেসি খেলছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু ম্যাচের ৩৩ মিনিটে সেই ঘটনা, মেসির ক্যারিয়ারেই যা কালো দাগ এঁকে দিয়েছে। এ সময় ফরাসী ডিফেন্ডার এমবিয়ার সঙ্গে ঝামেলা বাঁধিয়ে বসেন মেসি। শুরুটা করেছিলেন অবশ্য এমবিয়া। রোমার অর্ধে বল নিয়ে এগোচ্ছিলেন মেসি, তাকে পাহারা দিয়ে রাখার দায়িত্বে ছিলেন এমবিয়া। নেইমারকে পাস দিয়ে মেসি এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় এমবিয়া যেভাবে মেসিকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন, সেটা হয় তো পছন্দ হয়নি তার। নেইমারের কাছ থেকে ফিরতি পাস পেয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন। সামনে কেবল গোলরক্ষক। এ সময়ই রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজান। কিন্তু মেসি না থেমে বল নিয়ে এগোতে থাকেন। এ সময় এমবিয়া মেসিকে কিছু বললে তাদের মাঝে তর্ক শুরু হয়। এরপর এমবিয়া ঝামেলা শুরু করেন কপাল দিয়ে মেসিকে ধাক্কা দিয়ে। এর জবাব মেসি দেন মাথা দিয়ে গুঁতো মেরে। গুঁতো মারার পর ফরাসী ডিফেন্ডারের গলা ধরে ধাক্কাও দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।