২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর ভাইল ফার্মিয়ন আবিষ্কার

  • ঁঁজুবায়ের আব্দুল বারি

গ্রহ-নক্ষত্র, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, গাছপালা, ফুল কিংবা মানুষ সবই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার পিণ্ড বা সমষ্টি। দুনিয়ার এসব বস্তুকণাকে বিজ্ঞানীরা দুই দলে ভাগ করেছেন। এসব কণার একটি ফার্মিয়ন, যার একটি উপদল হলো ভাইল ফার্মিয়ন। ১৯২৯ সালে হারম্যান ভাইল এই কণার অস্তিত্বের কথা প্রথম জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি তারই পরীক্ষামূলক প্রমাণ হাজির করলেন জাহিদ হাসান। আরেক জাতের কণা হলো ‘বোসন’, যার নামের সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন বাঙালী পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। তাঁর আবিষ্কারের ৯১ বছর পর ভাইল ফার্মিয়নের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়ে পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে যুক্ত হলেন আরেক বাঙালী জাহিদ হাসান। মোট তিন ধরনের ফার্মিয়নের মধ্যে ডিরাক ও মায়োরানা নামের বাকি দুই উপদলের ফার্মিয়ন বেশ আগেই আবিষ্কৃত হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ভেবেছেন, নিউট্রিনোই সম্ভবত ভাইল ফার্মিয়ন। কিন্তু ১৯৯৮ সালে নিউট্রিনোর ভরের ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে আবার ভাইল ফার্মিয়নের খোঁজ শুরু হয়। অবশেষে জাহিদ হাসানের গবেষক দল ওই কণাকে খুঁজে পেয়েছেন একটি যৌগিক কেলাসের (ক্রিস্টাল) মধ্যে। কেলাসেই কেবল পাওয়া যায় এটি।

জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে গবেষক দলের অন্য সদ্যসরা হলেনÑ ইলিয়া বেলোপোলস্কি, ড্যানিয়েল সানচেজ, গুয়াং বিয়ান ও হাও শ্যাং। ইতোমধ্যে নতুন যুগের ইলেকট্রনিক্সের অন্যতম উপকরণ হিসেবে গ্রাফিন পরিচিতি পেয়েছে। বেশ কিছুদিন হলো এই গ্রাফিন দিয়ে ট্রানজিস্টর, অপটিক্যাল ফটো সেন্সর, ন্যানো সেন্সর বানানোর কাজ চলছে। কিন্তু গ্রাফিন তৈরির কাজটি বেশ কঠিন ও ব্যয়বহুল। অবশ্য গ্রাফিন আবিষ্কারের জন্য ২০১০ সালে বিজ্ঞানী আন্দ্রে জেইম ও কনস্টানটিন নভোসেলভ পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।

এই আবিষ্কারের মাধ্যমে এখনকার মুঠোফোন, কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক সামগ্রীর বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। বাড়বে গতি। হবে শক্তিসাশ্রয়ী। এই আবিষ্কারের ফলে নতুন প্রযুক্তির মোবাইল আসবে বাজারে। যে মোবাইল কখনও গরম হবে না। কারণ, এই কণার ভর নেই। এটি ইলেকট্রনের মতো পথ চলতে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে না। এমন আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে এ কণার।

জাহিদ হাসান বর্তমানে আইনস্টাইনের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খ্যাত প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে শিক্ষকতা করছেন। জাহিদ হাসানের এমন অসামান্য আবিষ্কারে তার নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। আর এটা সম্ভব হলে তিনিই হবেন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পাওয়া প্রথম বাঙালী।