২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাসযোগ্য নতুন পৃথিবী!

বিশাল মহাবিশ্বে আমাদের পৃথিবীর মতো আর কোন বসবাস উপযোগী গ্রহ কী আছে? বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছেন এর উত্তর। খোঁজ করছেন ছায়াপথের কোণায় কোণায়।

পৃথিবী থেকে ১৬ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবী-সদৃশ একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আলো শূন্যস্থানে এক বছর সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলে। সম্ভাব্য আবাসযোগ্য এই গ্রহটির পৃথিবীর সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের দাবি।

এখন পর্যন্ত পৃথিবী-সদৃশ যতগুলো গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে তার মধ্যে শীর্ষ তিনটি গ্রহের মধ্যে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। জিজে ৮৩২সি নামের এই ‘সুপার আর্থ’ গ্রহটি আবিষ্কার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার গবেষক রবার্ট উইটেনমেয়ার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল। তাঁদের দাবি, জিজে৮৩২ নামের একটি লাল-বামন নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে গ্রহটি। মাত্র ১৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত হওয়ার এই গ্রহটি বিজ্ঞানীদের আশাবাদী করে তুলছে। আর গ্রহটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর ভর। পৃথিবীর চেয়ে পাঁচগুণ বেশি ভর নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটির। এটি গড়পড়তা হিসেবে পৃথিবীর মতোই নাক্ষত্রিক শক্তি গ্রহণ করে থাকে কারণ যাকে কেন্দ্র করে এটি ঘুরছে সেই লাল-বামন নক্ষত্রটি আমাদের সূর্যের চেয়ে অনুজ্জ্বল। গবেষকরা তাই আশা করছেন, গ্রহটির তাপমাত্রা পৃথিবীর তাপমাত্রার মতোই হবে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত জিজে ৮৩২সি গ্রহটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে এটি পৃথিবী-সদৃশ গ্রহগুলোর মধ্যে শীর্ষ তিনটির মধ্যে পড়ে। পুয়ের্তোরিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ‘আর্থ সিমিলারিটি ইনডেক্স’ বা ইএসআই তৈরি করেছেন, যা পৃথিবী-সদৃশ গ্রহগুলোর মধ্যে তুলনা ও বিশ্লেষণ করতে ব্যবহার করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস স্কুল অব ফিজিক্সের গবেষক ড. রবার্ট উইটেনমেয়ার গবেষক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘এ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’ নামের সাময়িকীতে।

এই প্রকল্পের গবেষক ক্রিস টিনি জানিয়েছেন, জিজে৮৩২সি গ্রহটির পরিবেশ যদি পৃথিবীর মতো হয়, তবে সেখানে টিকে থাকা কোন প্রাণীর পক্ষে সম্ভব হবে। তবে সেখানে ঋতু পরিবর্তের বিষয়টি হয়ত অনেক প্রতিকূল হতে পারে। গ্রহটির ভর বিবেচনায় ধরলে সেখানকার বায়ুমণ্ডলের ভরও বিশাল হওয়া স্বাভাবিক। সেই হিসেবে সেখানে বসবাস করার বিষয়টি অনুকূল নাও হতে পারে। ঘন বায়ুমণ্ডল বেশি করে তাপ ধরে রাখার ফলে পরিবেশ অত্যন্ত গরম হয়ে উঠতে পারে, যা জীবন ধারনের জন্য অনুকূল নয়।

ইএসআই বিবেচনায় এক্সোপ্লানেট বা পৃথিবী-সদৃশ গ্রহের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে গ্লিজ ৬৬৭সিসি। গ্রহটি ২০১২ সালে আবিষ্কৃত হয়। পৃথিবী থেকে ২৩ আলোকবর্ষ দূরের এই গ্রহটি ইএসআই মাপে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ১.০ স্কোরের মধ্যে ০.৮৪ স্কোর করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কেপলার ৬২ই নামের একটি গ্রহ যার ইএসআই ০.৮৩। এই গ্রহটি অবশ্য পৃথিবী থেকে এক হাজার ২০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। ০.৮১ ইএসআই স্কোর করে তৃতীয় অবস্থান দখল করেছে জিজে৮৩২সি।

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক