২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুকুর কি সব মানুষের পোষ মানে

  • এনামুল হক

কুকুরের মতো প্রভুভক্ত ও অনুগত প্রাণী কমই আছে। শুধু প্রভুভক্তই বা কেন, তারা সামাজিকভাবেও বেশ বুদ্ধিমান। কুকুরের প্রভুভক্তি ও বুদ্ধিমান আচরণ নিয়ে ভূরি ভূরি গল্প-কাহিনী আছে। ইদানীং কুকুরের আরেকটা বৈশিষ্ট্যও জানতে পারা গেছে। তা হলো মনিবের প্রতি আচরণ সম্পর্কেও বিশেষ রকমের স্পর্শকাতর। মনিবকে কেউ সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানালে কুকুর এক ধরনের গর্জনের মাধ্যমে সেই মানুষটির প্রতি তার বিরাগভাব প্রকাশ ঘটায়। তারা এই শ্রেণীর মানুষকে এড়িয়ে চলে। সম্প্রতি জাপানের বিজ্ঞানীরা এক বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে কুকুরের এই স্বভাবটা জানতে পেরেছেন। কোনকিছু নিয়ে মানুষের পরস্পরের মধ্যে ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়ার মূল্যায়ন কুকুররা করতে পাবে কিনা, তা দেখার জন্য এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তাতে দেখা যায়, কাউকে তার মনিবের প্রতি নেতিবাচক আচরণ করতে দেখলে- যেমন তাকে উপেক্ষা বা অগ্রাহ্য করলে কুকুর তার কাছ থেকে খাবার নেয়া পরিহার করে। পরীক্ষা চলার সময় কুকুররা লক্ষ্য করে যে, তাদের মনিবরা মুখ আটকানো স্বচ্ছ কনটেইনার থেকে একটা গোটানো টেপ উদ্ধারের টেষ্টা করছে। তারপর না পেরে পাশে বসা অভিনয়কারী এক ব্যক্তির দিকে ফিরে সাহায্যের অনুরোধ জানাচ্ছে।

প্রথম দৃশ্যে পাশে বসা লোকটি সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চলে গেল। দ্বিতীয় পরীক্ষায় পাশে বসা লোকটি সাহায্যের অনুরোধ পেয়ে কন্টেইনারটা স্থির হয়ে ধরে থাকেন এবং কুকুরের মনিব ঢাকনাটা খুলে টেপটি বের করে আনে। তৃতীয় পরীক্ষায় পাশে বসা লোকটি চলে গেল, তবে মনিব তার কাছে সাহায্য চাইল না।

তিনটি দৃশ্যপটেই নিরপেক্ষ এক ব্যক্তি মনিবের অপর পাশে বসা ছিল এবং গোটা ঘটনায় কোন রকম ভূমিকা রাখেনি বা কিছু বলেনি। এর ঠিক পরপরই মনিবের দুই পাশে বসা দুই ব্যক্তি কুকুরকে খাবার দিল। কুকুর সেই ব্যক্তিটির খাবার পরিহার করল যে মনিবের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিল বা সাহায্য করতে চায়নি এবং ঘন ঘন গ্রহণ করল সেই খাবার, যা দিয়েছিল সাহায্যকারী ব্যক্তি অথবা নিরপেক্ষ ব্যক্তিটি। বিভিন্ন জাতের ৫৪টি কুকুর ও তাদের মালিক গবেষণায় অংশ নিয়েছিল। গবেষণার এই বিবরণ ও ফলাফলে এ বছরের জুন মাসে ‘এনিমেল বিহেভিয়ার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

মনিবের প্রতি নেতিবাচক আচরণকারী কোন মানুষকে কুকুরের পরিহার করার ঘটনা থেকে বোঝা যায যে, কুকুর তৃতীয়পক্ষের মিথষ্ক্রিয়া বুঝতে পারে। এমন ক্ষমতা প্রাইমেট শ্রেণী বহির্ভূত গুটিকয়েক প্রাণীর আছে। মানুষের ক্ষেত্রে অন্যদের মধ্যকার পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার প্রতি এই সংবেদনশীলতা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ছয় মাসের শিশুও অন্যদের সামাজিক আচরণের ভিত্তিতে মানুষকে মূল্যায়ন করতে পারে এবং তারই ভিত্তিতে তারা বাজে চরিত্রের লোকদের তুলনায় সাহায্যকারী বা উপকারী লোকদের বেশি পছন্দ করে।

কুকুররা তাদের লক্ষ্য করে মানুষের যেসব ক্রিয়াকলাপ চলে, তার প্রতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তবে তারা তৃতীয়পক্ষের মিথষ্ক্রিয়ার মূল্যায়ন করতে পারে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক চলে আসছিল। এ অবস্থায় নতুন সমীক্ষাটি যে তথ্য প্রমাণ তুলে ধরেছে, তা থেকে এই দাঁড়ায় যে তারা সেটা পারে।