২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এক বর্ষাতেই শেষ ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা

  • যশোর-বেনাপোল সড়ক

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোর-বেনাপোল সড়কে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ২০০ গাড়ি চলাচল করে। বছর দুয়েক আগে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এক বর্ষাতেই সব শেষ! নির্মাণ কাজে ত্রুটি আর ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি ভারি ট্রাক যাতায়াতের কারণে ইতোমধ্যে মহাসড়কটি বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আর এই গর্তের মধ্য দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজারো বাস-ট্রাক চলাচল করছে।

যশোর সড়ক ও জনপদ সূত্রে জানা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পণ্য লেনদেন হয়। এসব পণ্য যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক দিয়ে প্রবেশ করে। আর এই মহাসড়কটির দূরত্ব ৩৮ কিলোমিটার। যার ২৩ কিলোমিটার ২০১৩ সালের জুন মাসে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এজন্য ব্যয় হয় ১৬ কোটি টাকা। যশোরের পদ্মা কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ করে।

সরেজমিন দেখা যায়, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে বছর দুয়েক আগে পুনর্নির্মাণ করা অংশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। আর ২৩ কিলোমিটারের সব অংশের পাথর উঠে গেছে। ওই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করেন লাউজানী গ্রামের ভ্যান চালক আবু সিদ্দিক ও নিমতলা গ্রামের মুস্তাফিজুর রহমান। তারা জানান, সর্বশেষ বর্ষার মধ্যে মহাসড়কটিতে বড় বড় গর্ত তৈরি হলেও নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস যেতে না যেতেই পাথর ওঠা শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বর্ষা মৌসুমের পর পরই রাস্তাটি নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সেই হিসেবে এবারই শুধু রাস্তাটি বর্ষার কবলে পড়ে। আর সেই এক বর্ষাতেই ১৬ কোটি টাকার রাস্তা শেষ। পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার না করায় কাজ শেষ হতে না হতে পাথর ওঠা শুরু করে বলে তারা অভিযোগ করেন।

যশোর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবাল জানান, যশোর বেনাপোল মহাসড়ককে যে পরিমাণ গাড়ি চলাচল করে সেই হিসেবে এটি পুনর্নির্মাণের জন্য বড় বরাদ্দ দরকার। তারপরেও যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তাতে যথেষ্ট ভাল মান বজায় রেখে কাজ করা সম্ভব। তারা আশা করেছিলেন তিন বছরের মধ্যে কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু সেটা হয়নি।

দুই বছরের মধ্যেই মহাসড়কটিতে বড় বড় গর্ত দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, শুরু নির্মাণ ত্রুটি নয়, মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত ওভারলোডের ট্রাক যাতায়াত করে। এটাও দ্রুত রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।