২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে একাদশ শ্রেণীর ভর্তিতে হয়রানি

  • রিলিজ স্লিপে

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীর রিলিজ সিøপে ভর্তিতে চরম অনিয়ম চলছে। সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা পছন্দসই কলেজে এবং মেধার বিবেচনায় ভর্তি হতে পারেনি। ফলে এখনও দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছে পছন্দনীয় কলেজে ভর্তির জন্য। রিলিজ সিøপের মাধ্যমে সরকারী বেসরকারী শহরকেন্দ্রিক কলেজে ভর্তি হওয়ার চেষ্টায় ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ড ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্না দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষা বোর্ডে এক হাজার টাকা ফি জমা দিয়ে ভর্তিচ্ছুরা পছন্দসই কলেজে ভর্তির আবেদনের সুযোগ পাচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন কলেজে আসন শূন্য থাকায় বোর্ডের পক্ষ থেকে এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও নির্দেশনা দিয়েছে রিলিজ সিøপের মাধ্যমে পছন্দনীয় কলেজে ভর্তি পরিবর্তনযোগ্য।

প্রশ্ন উঠেছে, অফেরতযোগ্য এক হাজার টাকা ফির বিনিময়ে পছন্দসই কলেজে ভর্তি হওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে কিনা? বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় প্রদত্ত ফি সমন্বয়যোগ্য কিনা। এছাড়াও বোর্ড কর্তৃপক্ষ কলেজ কর্তৃপক্ষের ওপর কোন ধরনের হস্তক্ষেপ না করে অভিভাবকদের পরামর্শ দিচ্ছে কলেজের সঙ্গে সমাধা করে রিলিজ সিøপ নিয়ে অন্যত্র ভর্তি হওয়ার সুযোগ নিতে। নানা প্রশ্নের বেড়াজালে পড়ে অভিভাবকরা এবং মেধাবী ও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা চরম বেকায়দায় পড়েছে। ভর্তির বিষয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ দোহাই দিচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষের। আবার উল্টোভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বোর্ড কর্তৃপক্ষের ওপর দায়সারা সিদ্ধান্তের কথা বলে এড়িয়ে যাচ্ছে ভর্তি ফির বিষয়টি।

অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে ভর্তিচ্ছু প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা (অফেরতযোগ্য) হিসাবে জমা প্রদানপূর্বক আবেদনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের বিজ্ঞপ্তি প্রচার মাধ্যমে প্রকাশ না করে নিজেদের দাফতরিক ঘোষণায় রেখে দেয়ায় এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ভর্তির বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদানও বন্ধ রেখেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ফলে বেকায়দায় পড়েছে অভিভাবক ও ভর্তিচ্ছুরা।

চট্টগ্রামে ২৩০টি কলেজে অনলাইনে ভর্তির নির্দেশিকা দেয়া হয়েছিল গত ৬ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত। প্রত্যেক আবেদনকারী সর্বোচ্চ ৫টি কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। অনলাইনে আবেদন করলে ৫টি কলেজের জন্য দেড়শ টাকা ফি জমা দিতে হবে। কিন্তু মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে প্রতিটি কলেজের জন্য ১২০ টাকা করে টেলিটক মোবাইল থেকে আবেদন করার সুযোগ ছিল। এ নির্দেশনায় মোবাইল কিংবা অনলাইনে ভর্তির জন্য আবেদন করে শিক্ষার্থীরা। তবে নির্দিষ্ট সময়ে ভর্তি তালিকা দিতে না পারায় কয়েক দফা পেছানো হয়েছে রেজাল্ট। পরবর্তীতে মেধাতালিকা অনুযায়ী রেজাল্ট ঘোষণার পর দেখা গেছে চরম বিড়ম্বনার শিকার শিক্ষার্থীরা। কারণ, মেধাবী শিক্ষার্থীর মানদ- অনুযায়ী ফল প্রকাশ করা হয়নি।

নগরীর সরকারী কলেজগুলো যেমন বোর্ডের নিয়মতান্ত্রিকতা বাদ দিয়ে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন ইস্যু দেখিয়ে ভর্তি ফি আদায় করেছে, তেমনি বেসরকারী কলেজগুলো বোর্ডের ত্রুটিজনিত ফলের কারণে সুযোগ হাতিয়ে নিয়েছে। অভিভাবকদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের বেতনসহ ভর্তি ফি। নিরুপায় হয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩শ আবেদন জমা পড়েছে। ভর্তি বাতিলের জন্য জমা পড়েছে আরও অর্ধশত। কিন্তু কলেজের সঙ্গে সমাধার বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নিচ্ছে না। কারণ, ভর্তি হওয়ার পর তা বাতিলের ক্ষমতা বোর্ড কর্তৃপক্ষের নেই। ফলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ।