২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রহস্যঘেরা রেলস্টেশন!

মাঝরাতে গোটা প্ল্যাটফর্মে আপনি একা। শেষ ট্রেন অনেকক্ষণ আগেই স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। পরের ট্রেন সেই ভোরে। ভাবছেন, বাকি রাতটা কোনক্রমে স্টেশনের ওয়েটিং রুমেই কাটিয়ে দেবেন। তা সে আপনি করতেই পারেন, তবে এড়িয়ে চলতে হবে ১১টি স্টেশন। সেখানে রাত কাটানো হতে পারে বিপজ্জনক। কারণ? ওই স্টেশনে ভূতের বসবাস! আষাঢ়ে গপ্পো মনে হলেও বিশ্বে এমন ১১টি রেলস্টেশন রয়েছে যেগুলো ভূতুড়ে নামেই খ্যাত।

বেগুনকুদুর রেলস্টেশন, পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ ॥ পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বেগুনকুদুর রেলস্টেশন। ১৯৬৭ সালে এক রেলকর্মী ওই স্টেশনে এক সাদা শাড়ি পড়া মহিলার ভূত দেখেছিলেন। তারপরই ওই কর্মীর মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই ওই রেলস্টেশনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। গত ২০০৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় ওই রেলস্টেশন নতুন করে চালু করা হয়। মমতা বলেছিলেন, ‘আমি ভূতে বিশ্বাস করি না। এগুলো সব মানুষের তৈরি।’

রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন, কলকাতা ॥ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনটিও ভূতুড়ে। জানা গেছে, রাতের শেষ মেট্রোর চালক ও যাত্রীরা প্রায়ই স্টেশনে কোন আবছা ছায়া দেখতে পান, যা আবার সঙ্গে সঙ্গেই মিলিয়ে যায়।

কাওবাও রোড সাবওয়ে স্টেশন, চীন ॥ চিনের কাওবাও মেট্রো স্টেশন নাকি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ার্ত মেট্রো স্টেশন। এই মেট্রো স্টেশনে এলেই ট্রেনের ব্রেকে সমস্যা দেখা যায়। রাতের দিতে যাত্রীরা অদৃশ্য কোন ব্যক্তির উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন। এছাড়াও শোনা যায়, ভূতে নাকি যাত্রীদের ধাক্কা দিয়ে রেলওয়ে ট্র্যাকে ফেলে দেয়। এমনভাবেই এই স্টেশনে মৃত্যু হয়েছে অনেকের।

এ্যাডিসকম্বি রেলওয়ে স্টেশন, ইংল্যান্ড ॥ ইংল্যান্ডে এ্যাডিসকম্বি রেলস্টেশনের এখন আর কোন অস্বিত্ব নেই। ২০০১ সালে এই স্টেশনটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত এই স্টেশনে অদ্ভুতুরে ঘটনা ঘটত। জানা গেছে, লোকো ট্রেনের এক চালক বহু বছর আগে ওই স্টেশনে আত্মহত্যা করেছিলেন। তার পর থেকেই নাকি তার আত্মা স্টেশনের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়।

ওয়াটারফ্রন্ট স্টেশন, কানাডা ॥ কানাডার ওয়াটারফ্রন্ট স্টেশনটিও ভূতুড়ে। স্টেশনের বহু নিরাপত্তা রক্ষী অভিযোগ করেছেন, রাতের দিকে স্টেশনে অদ্ভুত সব কাণ্ড-কারখানা হয়। এমনকি স্টেশনে রাতের যে নিরাপত্তা রক্ষীরা থাকতেন, তারা মাঝে মধ্যেই স্টেশনে ভূত দেখতে পেতেন। জানা গেছে, কোন এক রেলকর্মীর ভূতই নাকি স্টেশনে ঘুরে বেড়ায়।

প্যান্টিওনেস মেট্রো স্টেশন, মেক্সিকো ॥ মেক্সিকোর সবচেয়ে কুখ্যাত মেট্রো স্টেশন হলো প্যান্টিওনেস মেট্রো স্টেশন। মেট্রো স্টেশন হওয়ার আগে ওই এলাকায় দুটি সমাধি ছিল। রাতের দিকে স্টেশন চত্বরে চিৎকার শোনা যায়। এমনকি মেট্রো চ্যানেলের মাঝেও ছায়ামূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও স্টেশনেও কোন অন্ধকার কোণায় ভূত দাঁড়িয়ে থাকতেই পারে।

বিশান এমটিআর স্টেশন, সিঙ্গাপুর ॥ সিঙ্গাপুরের বিশান এমটিআর (মাস র‌্যাপিড ট্রান্সপোর্ট) স্টেশন তৈরি করা হয় বিশান তেঙ্গ কবরস্থানের ওপর। ১৯৮৭ সালে এই স্টেশনটি চালু করা হয়। তার পর থেকেই সেখানে ভূতের উপদ্রব শুরু হয়। মুন্ডহীন আবছায়া মূর্তি প্রায়ই দেখা যায় এ স্টেশনে। এছাড়াও ট্রেনের যাত্রীরা শুনতে পান ট্রেনের ওপর দিয়ে কেউ হেঁটে যাচ্ছে।

ম্যাককোয়ারি ফিল্ডস ট্রেন স্টেশন, অস্ট্রেলিয়া ॥ অস্ট্রেলিয়ার এই স্টেশনে নাকি এক নাবালিকাকে হেঁটে বেড়াতে দেখা যায়। ওই নাবালিকার শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। সে নাকি ক্রমাগত কাঁদে এবং সেই কান্নার চিৎকার ধীরে ধীরে প্রবল হয়। মাঝে মাঝে তাকে রেললাইনের দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেও দেখা যায়।

ইউনিয়ন স্টেশন, ফোনেক্স, আমেরিকা ॥ আমেরিকার এই স্টেশনটি ১৯৯৫ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়। এই রেলওয়ে স্টেশনে এক রেল কর্মীর অতৃপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায়। ওই ব্যক্তিকে সকলে ভালবেসে ফ্রেড নামে ডাকত। রেলওয়ে স্টেশনের অফিসে তাকে মাঝে মধ্যে দেখা যায়। কথিত আছে স্টেশনের নির্দিষ্ট একটি ঘরে সে নাকি এখনও থাকে এবং ওই ঘরে অন্য কোন কর্মীরা ঢোকে না। তাকে মাঝে মধ্যে স্টেশনে দৌড়ে বেড়াতেও দেখা যায়।

কনোলি স্টেশন, আয়ারল্যান্ড ॥ ডাবলিন রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হলো এটি। এটিও বিশ্বের ভূতুড়ে স্টেশনগুলোর মধ্যে একটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই এলাকায় বোমা বিস্ফোরণে প্রচুর মানুষ মারা যায়। তাদেরই আত্মা নাকি ঘুরে বেড়ায় এই স্টেশন চত্বরে।

গ্লেন ইডেন রেলওয়ে স্টেশন, নিউজিল্যান্ড ॥ মৃতদেহ আনা নেয়া করার জন্য প্রাথমিকভাবে এই স্টেশনটি তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্টেশনটিকে উন্নত করা হয় ২০০১ সালে এবং সেখানে একটি ক্যাফে তৈরি করা হয়। ওই ক্যাফেতেই নাকি এক ভূত ঘুরে বেড়ায়। ১৯২৪ সালে এক রেলকর্মী এক দুর্ঘটনায় মারা যান। এছাড়াও ওই স্টেশনে অনেক যাত্রীই ভূত দেখেছেন বলে দাবি করেন।

সাত-সতেরো প্রতিবেদক