২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইকারাস

  • মাহবুব রেজা

‘জৌরালির মতো ছোট পাখি কোথাও না থেমে দশ হাজার কিলোমিটার উড়ে যায়। এক চামচ চিনির চেয়ে কম ওজনের হামিংবার্ড বছরে দুবার ক্যারিবিয়ান সাগর পাড়ি দেয়।’

বলে কী! বড় অদ্ভুত আর কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য তো! পাখির উড়তে পারা এক বিস্ময়কর ব্যাপার বটে।

কবে থেকে পাখিরা এভাবে শিখল উড়তে? ওড়াউড়িতে পাখিরা ওস্তাদ। এ জটিল ওস্তাদি পেল কোথা থেকে! পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘পেয়েছে নিজেরই উদ্ভাবনী শক্তি থেকে, সুদীর্ঘ সাধনায়। কোটি বছরের বির্বতনের পরই পাখি প্রভুত্ব পেয়েছে আকাশের। দেহের ভার কমানোর জন্য পাখির হাড় ফাঁকা হয়েছে, চোয়াল ও দাঁত সংক্ষিপ্ত হয়ে চঞ্চু বনে গেছে। পালক-মোড়া শরীর এমন ‘স্ট্রিম-লাইন’ হয়েছে যেন বায়ুপ্রবাহে বাধা না পায়। হাত হয়েছে ডানা। ডানা নাড়ানোর বিশাল পেশী বসানোর জন্য বুকের পাঁজর হয়েছে পিরামিডের মতো। পেশীতে শক্তি জোগান দিতে হৃৎপি- আর ফুসফুসের কুঠরি বেড়েছে, বেড়েছে পাম্প করার হাড়। এসব জরুরী অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাঘ, সিংহ অথবা মানুষের তুলনায় পাখির কয়েকগুণ বেশি।’

সবচেয়ে উঁচুতে ওঠার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের দাগি-রাজহাঁসের। এ পাখি শীতে বাংলাদেশের জলাশয়ে থাকে। গ্রীষ্মে এ দেশ ছেড়ে ‘এভারেস্ট’ শিখরের ওপর দিয়ে এরা নির্বিঘেœ উড়ে যায়। তিব্বতে গিয়ে এরা বাসা বাঁধে। পৃথিবীর আর কোন প্রাণী আপন শক্তিতে এত ওপরে উঠতে পারেনি।

ইকারাসকে নিয়ে রয়েছে এক অদ্ভুত আখ্যানভাগ। প্রাচীন রোমের পৌরাণিক কাহিনী থেকে ইকারাসের কথা জানা যায়। রাজরোষে জনহীন দ্বীপে বন্দী পিতা ডেডালাস, সঙ্গে পুত্র ইকারাস। পিতা ডেডালাস ভাবতে লাগলেন, দ্বীপ থেকে কিভাবে পালিয়ে যাওয়া যায়। যেই ভাবা সেই কাজ। নকল ডানা বানানো হলো। সেই ডানায় ভর করে পিতা-পুত্র উড়ে জনহীন দ্বীপ থেকে পালিয়ে যাবে- এমনই পরিকল্পনা। তারপর ডানা বানানো হয়ে গেলে ইকারাস উড়ে উড়ে অনেক ওপরে উঠে গেল। পিতা ডেডালাস পুত্রের দেখা পেল না। ওদিকে ইকারাস নকল ডানায় ভর করে আকাশে উঠে গেলে রোদে ডানার মোম গলে গিয়ে খসে পড়ল ডানা। আকাশ থেকে ইকারাস সাগরে পড়ে গেল- পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে মরে গেল।