২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজব হলেও গুজব নয়

মাটির নিচে গড়া শহর

মাটির নিচে মানবরাজ্য, কথাটা ভাবতেই রহস্যময় অনুভূতি হয়, তাই না! বছরের পর বছর মাটির নিচেই বসবাস, থাকা, খাওয়া সবই। আচ্ছা কেমন এই মাটির নিচের শহর, কী রয়েছে এখানে?

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার এ্যাডিলেড শহরের আট শ’ ছেচল্লিশ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কোবার পেডি শহরটি। মরুময় এ শহরটি একনজরে জনমানবশূন্য মনে হলেও অন্য শহরের তুলনায় এটি কম কর্মব্যস্ত নয়। পার্থক্য একটাই, এখানকার প্রায় সবার বসবাসই মাটির নিচে।

কোবার পেডির মোট জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। তবে তাদের ৬০ শতাংশই বাস করে মাটির নিচের গুহাস্বরূপ বাড়িতে। মরুর ধুলো ওড়া এ শহরের ওপরে রয়েছে গুটিকতক হোটেল আর গলফ খেলার মাঠ। আর মূল চমক পুরোটাই মাটির নিচে! ১৯১৫ সালে এখানে ওপাল আবিষ্কারের পরই কোবার পেডি বিশ্বের কাছে প্রথম পরিচিত হয়। পৃথিবীর ৯৫ শতাংশ ওপাল রয়েছে এই এলাকায়।

কোবার পেডির জনগণের মাটির নিচে থাকার রহস্য হলো, গ্রীষ্মকালে এ এলাকার তাপমাত্রা থাকে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের ওপরে। প্রচণ্ড উত্তাপে এখানে মাটির ওপরে টিকে থাকাই কঠিন। তাই বসবাসের সুব্যবস্থা করতে মাটির নিচেই ঠাঁই নিয়েছেন স্থানীয় জনগণ। সুন্দর এই গুহাকৃতির বাড়িগুলোতে রয়েছে নেটের পর্দা দিয়ে ঢাকা কৃত্রিম জানালা ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা। মাটির নিচে গড়ে ওঠা এ শহরটি এক শ’ বছরে কম উন্নত হয়নি। আধুনিক জীবনযাপনের কোন উপাদানটি নেই এখানে? ভূগর্ভস্থ গির্জা, উপহারের দোকান, কয়েকটি জাদুঘর, নাচঘর, স্থানীয় বার, আন্ডারগ্রাউন্ড হোটেল ও বুলেটিন বোর্ড সিস্টেম।

গত বছর কোবার পেডির আন্ডাগ্রাউন্ড বুলেটিন বোর্ড সিস্টেম অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভাল বি এ্যান্ড বি হিসেবে খেতাব পেয়েছে।

সানজিদা সামরিন

দড়িতে হেঁটে বিয়ে

নিজের ভালবাসাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রত্যেক প্রেমিকেরই থাকে। মনে মনে সে চেষ্টাও করেন অনেকে। তবে এ উচ্চতার কথা নেহাত ভাবগত। কেউ যে সেটাকে আক্ষরিক অর্থে কাজে লাগাবে, তা কি কেউ ভেবেছে!

কিন্তু নিজেদের বিয়েতে এমনই পরিকল্পনা করছেন ব্রিটেনের ক্রিস বুল এবং ফোয়েবি বেকার। তাদের বিয়েতে দাওয়াত খেতে আসা শ’খানেক অতিথির চেয়ে ৮০ ফুট উঁচুতে থেকে বিয়ে করার পরিকল্পনা তাদের। ব্রিস্টলের হ্যানহ্যামের বাসিন্দা এ যুগল বিশেষ দিনটিতে ২৬০ ফুট উঁচুতে হাঁটার জন্য দড়ি টাঙানোর যন্ত্রপাতিও সংগ্রহ করছেন। আর বিয়ে পড়ানোর দায়িত্ব পেয়েছেন একজন রিংমাস্টার। মেগাফোনে মন্ত্র উচ্চারণ করবেন তিনি। ঝুলন্ত অবস্থায় আংটিও বদল করবেন তারা। অবশ্য আগেভাগেই ছোট্ট একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ের যাবতীয় কাজ সেরে রেখেছেন ক্রিস-ফোয়েবি।

বিয়ের ‘এ্যাক্রোবেটিক’ আনুষ্ঠানিকতাকে ঐতিহাসিক বানাতে রিহার্সালও করছেন তারা। কনে ফোয়েবি বেকার পেশায় একজন দর্জি। তিনি বলেন, কিসের সঙ্গে পরিচয়ের পর আমরা প্রায়ই দড়ির ওপর হাঁটতাম। তখনই এ পরিকল্পনা করি। ব্রিটেনে এভাবে বিয়ে এটাই প্রথম। আর বিয়ের ভেন্যুর মালিক গ্যারি কোটলে একজন সাবেক সার্কাস মালিক হওয়ায় তিনিও ব্যাপক খুশি।

কারণ তার খামারে আগেও বিয়ের আয়োজন হয়েছে বটে, তবে এমন উদ্ভট নয়। মূলত গ্যারির আত্মজীবনী পড়েই এমন বিয়ের ব্যাপারটি তাদের মাথায় আসে। দড়ির ওপর হাঁটার জন্য বিয়ের গাউনটিও বিশেষভাবে বানিয়েছেন রোমাঞ্চপ্রিয় ফোয়েবি।

ছাগলের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা

সৌন্দর্য নিয়ে কোন প্রতিযোগিতার কথা বললেই আমরা সাধারণত সুন্দরী প্রতিযোগিতার কথাই বুঝি। এর বাইরে বড়জোর আকর্ষণীয় তরুণ প্রতিযোগিতার কথা বুঝে থাকি। তবে লিথুনিয়ার একটি গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিবছর যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, তা শুনলে নিশ্চিত আপনার চোখ কপালে উঠবে। দেশটির ছোট্ট গ্রাম রামিগালায় প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় ছাগলের রূপ-মাধুর্যের প্রতিযোগিতা!

রাজধানী ভিলনিয়াস থেকে ৯৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামিগালায় শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ৬৪৫তম ছাগলের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা। ছাগলদের ভিড়ে পুরো শহর ওই দিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

প্রতিযোগিতার আয়োজক লরেতা কুবিলুউনিনি বলেন, ‘এ বছর রামিগালায় আমরা ষষ্ঠ ঐতিহাসিক ছাগল সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি, যাকে ছাগল প্রদর্শনী বলা হয়। প্রতিযোগিতায় আমরা সবচেয়ে সুন্দর ছাগলটিকে নির্বাচিত করি এবং তার মাথায় বিজয়ীর মুকুট পরিয়ে দেই।’

এবারের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে মার্স নামের রাম ছাগল। তবে বিজয়ী মার্সের মাথায় কোনভাবেই পড়ানো যায়নি বিজয়ী মুকুট। শেষ পর্যন্ত সেরা ছাগলের মুকুটটি হাসিমুখেই মাথায় পরলেন মার্সের মনিব।

সাত-সতেরো প্রতিবেদক