১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিনামূল্যের বই নিম্নমানের কাগজে ছাপা হয়েছে

  • সংসদীয় কমিটির তথ্য

সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রকাশকদের ব্রাজিল থেকে আমদানি করে ভর্তুকিমূল্যে কাগজ দেয়া হলেও তারা প্রাথমিক স্তরের বিনামূল্যের বই নিম্নমানের সাদা কাগজে ছাপিয়েছে। এমনকি বই পরিবহনেও করেছে অনিয়ম। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রকাশকদের এ অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিটির মতে, বিষয়টি যথাযথ তদারকিতে ব্যর্থ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় কমিটি। কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, সামশুল হক চৌধুরী, নজরুল ইসলাম বাবু, আলী আজম, মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও উম্মে রাজিয়া কাজল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, আগের বৈঠকের আলোচনার সূত্র ধরে এই বৈঠকেও এনসিটিবির কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্ত কাজে সংসদীয় সাব কমিটিকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে। সাব কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এনসিটিবির অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত চলছে। দ্রুতই প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। এর আগে ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে কমিটির সদস্য সামশুল হক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের সাব কমিটি গঠন করা হয়।

সংসদীয় কমিটির কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, ওই বৈঠকে কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন বলেন, আগে ৫৩ টাকায় বই কেনা হতো, কিন্তু আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর মূল্য ৩৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তা খুবই নিম্নমানের। বই ছাপানোর জন্য ব্রাজিল থেকে আমদানি করে প্রকাশকদের কাগজ দেয়া হয়েছিল। প্রকাশকরা তা খোলা বাজারে বিক্রি করে কর্ণফুলী কাগজে বই ছাপিয়েছে। বই পরিবহনেও তারা ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে।

এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রকাশকরা নমুনা অনুযায়ী সাদা কাগজে বই না ছাপিয়ে, সাদা মতো কাগজে ছাপিয়ে তা চালিয়ে দেয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে।

বৈঠকে এনসিটিবি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাসেম মিয়া বলেন, প্রাথমিক স্তরে পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর জন্য প্রাক্কলিত মূল্য ২৯২ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। কিন্তু দরপত্রে উল্লেখিত মূল্য ১৯৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রাক্কলিত মূল্যের থেকে ৯৪ কোটি টাকা কমমূল্যে বই ছাপানো হয়েছে।