২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গরু বিপ্লব প্রয়োজন পরিকল্পনা

এক সময় বাংলাদেশ ছিল পশু সম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রবাদ বাক্য ছিল- গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গরু। বাংলাদেশ নদীমাতৃক নাতিশীতোষ্ণ সমতল তটভূমি। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরত, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত এই ৬ ঋতুর প্রভাবে বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে সবুজবেষ্টিত। আবহমানকাল থেকে সবুজবেষ্টিত বাংলাদেশের ভূমিতে জন্মায় হাজার প্রজাতির ঘাস। নদী, খাল, বিল, ডোবায় বিদ্যমান মহামূল্যবান কচুরিপনা ও জলজ উদ্ভিদ। এসব ঘাস ও কচুরিপনা সহজলভ্য ও পশুর প্রধান খাদ্য। এ কারণে সমগ্র দেশ পরিণত হয়েছিল একটি পশু খামারে। বর্তমানেও বাংলাদেশের চট্টগ্রামের ‘লালগরু’, কিশোরগঞ্জ এলাকার ‘সাদাগরু’, সিলেট এলাকার ‘কালোগরু’, পঞ্চগড় এলাকার ছোট পা-বিশিষ্ট নেপালী বা ‘হিমালয়ান গরু’ প্রজাতিগুলোর জন্য বিখ্যাত। এছাড়া সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে গয়াল ও বনগরু এখনও টিকে আছে। তা ছাড়া বাংলাদেশের ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট’ বিশ্বসেরা। এই প্রজাতিগুলোর মাংস ও চামড়া বিশ্বব্যাপী প্রসিদ্ধ। এরপরও অত্যন্ত আফসোসের বিষয় পাকিস্তান আমলের কথা বাদ দিলেও স্বাধীন বাংলাদেশে বিগত ৪৪-৪৫ বছরে আমরা গরুতে স্বাবলম্বী হতে ব্যর্থ হয়েছি। প্রযুক্তিবিহীন কর্মসূচীর শ্রমঘন শিল্প ‘গরু’ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তা আবার সংখ্যায় শত বা হাজার নয়, বছরে ২৫ লাখ। আমাদের ঐতিহ্যবাহী গরুর প্রজাতি শঙ্করায়ণ থেকে রক্ষা করে এই জাতগুলোকে বিশ্বের উন্নত প্রজাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে মাংস, চামড়া, হাড়, শিং রফতানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লাগবে না। এতে করে আমাদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যেমন কর্মসংস্থান হবে, তেমনি বায়োগ্যাস উৎপাদন করে বিদ্যুত ও প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় করতে সক্ষম হবে। রাসায়নিক সার আমদানি বাবদ ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা ও সাশ্রয় করা যাবে।

বাংলাদেশের সৃজনশীল ও পরিশ্রমী মানুষ যদি একবার বোঝে গরু উৎপাদনটা লাভজনক, তাহলে আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশে গরু-বিপ্লব সম্পন্ন হয়ে যাবে। আমরা সেই বিপ্লবকে ‘শিং বিপ্লব’ নাম দিতে পারি। জাতি হিসেবে আমরা স্বাধীনচেতা, ভারতীয় গরুর মাংস অপমানজনকভাবে না খেয়ে নিজস্ব উদ্যোগে উৎপাদন করে মাংসের চাহিদা পূরণ করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। এখন থেকে আমরা প্রতিটি খামারে একটি করে গরু পালার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি।

মোঃ আবুল হাসান

খন রঞ্জন রায়

চকবাজার, চট্টগ্রাম