১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিজ্ঞান ও বাণিজ্যে শিক্ষার্থী সঙ্কট

  • যশোরে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীর ভর্তিতে যশোরের অধিকাংশ কলেজে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থী সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শহরের হাতে গোনা দু-একটি কলেজ ছাড়া বেশিরভাগ কলেজে এ দুটি শাখায় খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত কলেজের আসন সংখ্যা ও শিক্ষার্থী ভর্তি সংখ্যা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র মতে, এবারই প্রথম দেশের সব কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য অনলাইনে ভর্তির আবেদন আহ্বান করা হয়। চারবার ভর্তির ফলাফল প্রকাশ শেষে বিলম্ব ফি ছাড়া ভর্তি ছিল ২৬ জুলাই পর্যন্ত। এ পর্যন্ত ভর্তি শেষে দেখা গেছে যশোর জেলার ৮টি উপজেলার ১১৪টি কলেজের মধ্যে জেলা শহরের ৭ থেকে ৮টি এবং উপজেলা শহরের ২০ থেকে ২২টি সব মিলিয়ে ৩০টির মতো কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি মোটামুটি ভাল। অন্য কলেজগুলেতে শিক্ষার্থী সঙ্কট রয়েই গেছে। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষায় এ সঙ্কট সবচেয়ে বেশি।

যশোর শহরের এমএসটিপি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের শুধুমাত্র বাণিজ্য শাখায় ছাত্রী ভর্তি করা হয়। এখানে ১৫০ আসনের বিপরীতে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৭ জন। যশোর সদরের তালবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজে বিজ্ঞানে ১৫০ আসনের বিপরীতে মাত্র ৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১৫০ আসনের বিপরীতে মাত্র ১১ জন ভর্তি হয়েছে। নিউ মডেল কলেজে বিজ্ঞানে ১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১ জন। উপশহর মহিলা কলেজে বিজ্ঞানে ১৫০ আসনের মধ্যে ২৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২৫০ আসনের বিপরীতে মাত্র ৪৬ জন, উপশহর ডিগ্রী কলেজে বিজ্ঞানে ২৯ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১৪ জন। যশোর কলেজে বিজ্ঞানে ২৪ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১৩ জন। ভাতুড়িয়া কলেজে বিজ্ঞানে ৭ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১০ জন। মুক্তিযোদ্ধা কলেজে বিজ্ঞানে ১৬ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২৪ জন ভর্তি হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ের এবং উপজেলার বাইরের কলেজে ভর্তি আরও খারাপ। অভয়নগরের ধোপাধী এসএস কলেজে বিজ্ঞানে ১, এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২ জন। মহাকাল কলেজিয়েট স্কুলে বিজ্ঞানে ২, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৭ জন। মনিরামপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এ আর মহিলা কলেজে বিজ্ঞানে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হয়েছে মাত্র ১ জন। এছাড়া নেংগুড়িয়াহাট স্কুল এ্যান্ড কলেজে বিজ্ঞানে ১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। শার্শা উপজেলা কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হয়েছে মাত্র ১৮ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১৬, ইউনাইটেড আদর্শ কলেজে বিজ্ঞানে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এখানে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হয়েছে মাত্র ১৩ জন। কেশবপুর সম্মিলনী কলেজে বিজ্ঞানে ৬ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৭, হিজলডাঙ্গা মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজে বিজ্ঞানে ৫ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২ জন ভর্তি হয়েছে। ঝিকরগাছা মহিলা কলেজে বিজ্ঞানে ৭ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৩৫ জন ভর্তি হয়েছে। এছাড়া নির্বাসখোলা স্কুল এ্যান্ড কলেজে বিজ্ঞানে ২ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৩ জন ভর্তি হয়েছে। চৌগাছার তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজে বিজ্ঞানে ১৯ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১৮ জন, সলুয়া আদর্শ কলেজে বিজ্ঞানে ১৪ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১২ জন ভর্তি হয়েছে। বাঘারপাড়া বীরপ্রতীক ইসহাক কলেজে বিজ্ঞানে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এখানে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হয়েছে মাত্র ২৩ জন। এ উপজেলার রায়পুর স্কুল এ্যান্ড কলেজে বিজ্ঞানে ৬ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় মাত্র ১০ জন ভর্তি হয়েছে।

এ দুটি শাখায় শিক্ষার্থী কম ভর্তি হওয়া প্রসঙ্গে উপশহর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শাহিন ইকবাল জানান, শহরের কিছু কলেজে বেশি আসনের অনুমতি দেয়ায় বাকি কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী সঙ্কট থেকেই যাচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের উচিত শহরের কিছু কলেজের আসন সংখ্যা কমিয়ে দেয়া। অনুরুপ মন্তব্য করেন ভাতুড়িয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শচীন্দ্র নাথ গাইন। তিনি মনে করেন গ্রামের কলেজগুলোর শিক্ষার্থী সঙ্কট কাটাতে শহরের কলেজগুলোর আসন সীমিত করা উচিত।