১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবশেষে হেফাজত নেতা মুফতি ইজহার গ্রেফতার

  • মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত লালখানবাজার জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। মাদ্রাসায় বিস্ফোরণে তিন ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনার ২২ মাস পর তাকে গ্রেফতার করা হলো তারই মাদ্রাসা থেকে। হেফাজতের এই নেতার ছেলে মুফতি হারুন ইজহারও গ্রেফতার রয়েছেন ওই একই মামলায়।

চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার এসএম তানভীর আরাফাত জানান, শুক্রবার দুপুরের পর মুফতি ইজহারকে তার পরিচালিত মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আলোচিত লালখানবাজার মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি মামলার আসামি তিনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মুফতি ইজহারুল ইসলাম দেশে মৌলবাদী রাজনীতিতে আলোচিত একটি নাম। তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বাসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে ইতোপূর্বেই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অভিযোগ আছে দেশে উগ্রবাদী আন্দোলনের নেপথ্যে তার ইন্ধন ও সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতার। কবি শামসুর রাহমান হত্যা প্রচেষ্টায় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকেও বেরিয়ে এসেছিল মুফতি ইজহার এবং তার ছেলে হারুন ইজহারের নাম। তার পরিচালিত লালখানবাজার মাদ্রাসাটি জঙ্গী প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হতো। সর্বশেষ এ মাদ্রাসা দেশজুড়ে আলোচিত হয় সেখানে বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায়।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুফতি ইজহার পরিচালিত লালখানবাজার মাদ্রাসার ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ছাত্রাবাসের দায়িত্বে ছিলেন তারই ছেলে হেফাজতের নেতা মুফতি হারুন ইজহার। কক্ষটিতে বোমা তৈরির কাজ চলছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ল্যাপটপের ব্যাটারি বিস্ফোরণ হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় তিন ছাত্র প্রাণ হারায়। সেদিন বিকেলে পুলিশ মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে চারটি তাজা গ্রেনেড এবং গ্রেনেড তৈরির বিপুল সরঞ্জাম। মুফতি ইজহারের কক্ষে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় এক বোতল পিকরিক এ্যাসিড, যা ব্যবহার করা যায় শক্তিশালী বোমা তৈরির কাজে।

লালখানবাজার মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যা, বিস্ফোরক ও এ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার কদিন পর ছেলে মুফতি হারুন ইজহারকে গ্রেফতার করা হলেও প্রায় ২২ মাস ধরে পলাতক ছিলেন পিতা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী। পুলিশ তাকে খুঁজে না পেলেও ক’মাস ধরে তিনি তার মাদ্রাসাতেই অবস্থান করছিলেন বলে চাউর হয়। সর্বশেষ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্ট ওয়ান্টেড এই জঙ্গী নেতাকে গ্রেফতারে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য, মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ছাড়াও ২০ দলীয় জোটের শরিক দল স্বাধীনতাবিরোধী ‘নেজামে ইসলাম পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোট একাংশের চেয়ারম্যান’।