২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হলদিবাড়ি-চিলাহাটি চেকপোস্ট চালুর আশ্বাস মিলল না

  • স্থলবন্দর ও রেল যোগাযোগ স্থাপন বিষয়ে সাড়া নেই মমতা ব্যানার্জীর

তাহমিন হক ববি, নীলফামারী থেকে ॥ নীলফামারীর চিলাহাটির সঙ্গে একীভূত ওপারের ভারতের হলদিবাড়ি পরিদর্শনে এসে হলদিবাড়ির ব্যাপক উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও বন্ধ থাকা হলদিবাড়ি-চিলাহাটি আন্তর্জাতিক চেকপোস্টটি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি কথাও বলেননি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। অথচ এ নিয়ে হলদিবাড়ি ও চিলাহাটিবাসী বড়ই আশা নিয়ে বুক বেধেছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হলদিবাড়ি পরিদর্শন করেন।

সূত্র মতে, ১৯৫৩ সালে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি ও ভারতের পশ্চিবঙ্গের কোচবিহার জেলার হলদিবাড়িতে স্থাপন করা হয় একটি আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট। পাশাপাশি ১৯৬০ সালে চালু হয় সরাসরি রেলপথের সঙ্গে স্থলবন্দর কার্যক্রম । এই পথে বাংলাদেশের দর্শনা হয়ে দার্জিলিং মেল ট্রেন কলকাতা পর্যন্ত এবং চিলাহাটি-জলপাইগুড়ি চলাচল করত পাসপোর্ট ট্রেন। এ জন্য নীলফামারীর সৈয়দপুরে গড়ে তোলা হয়েছিল অসম-বেঙ্গল রেলওয়ে কারখানা। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় শুধু চেকপোস্টটি চালু রেখে স্থলবন্দর ও এপার-ওপার বাংলার সরাসরি ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। চেকপোস্টটি চালু থাকলেও ২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ভারত সরকার ২৬ জুন অজ্ঞাত কারণে হলদিবাড়ি চেকপোস্টটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে বাংলাদেশের পক্ষে চিলাহাটির এই আন্তর্জাতিক চেকপোস্টটি চালু থাকলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের একতরফা সিদ্ধান্তে সেটি বন্ধ আছে ১৩ বছর ধরে।

এ ছাড়া ২০১৩ সালে চিলাহাটি স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর গ্যাজেট আকারে প্রকাশিতও হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাড়া না পাওয়ায় সেটি চালু হচ্ছে না। এ ছাড়া বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৯৭ সালের শেষদিকে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য বাংলাদেশ অংশে ৮.১০ কিলোমিটার এবং ভারতের অংশে ৩.২৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এ জন্য অর্থ বরাদ্দও দেয়া হয়। কিন্তু ১৭ বছরেও এটি আলোর মুখ দেখেনি। এলাকাবাসী বলছেন হলদিবাড়ি-চিলাহাটি চেকপোস্ট, স্থলবন্দর ও রেল যোগাযোগ সরাসরি স্থাপন হওয়া জরুরী। রেলপথ চালু হলে এই পথে ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। বাংলাদেশ অংশে চিলাহাটি থেকে খুলনা ও ঢাকা পর্যন্ত রেলপথ চালু রয়েছে। শুধু চালু নেই ভারতের হলদিবাড়ি পর্যন্ত।

নীলফামারীর ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চিলাহাটির বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাক বসুনিয়া বলেন, আমাদের পক্ষে সকল সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা থাকলেও বিষয়টি নির্ভর করছে ভারত সরকারের সদিচ্ছার ওপর। ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে আর চেকপোস্ট, স্থলবন্দর ও রেলপথ চালুর বিষয়টি অজ্ঞাত কারণে বন্ধ রেখেছে ভারত। সেটিও চালু হওয়া জরুরী। এ জন্য দরকার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য ভূমিকা। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে হলদিবাড়ি পরিদর্শন করেছেন। আশা ছিল, তিনি হলদিবাড়ির সঙ্গে বাংলাদেশের চিলাহাটির আন্তর্জাতিক চেকপোস্টটি চালুর বিষয়টি হলদিবাড়িতে ঘোষণা দেবেন। কিন্তু তিনি আমাদের নিরাশ করেছেন।