২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রমাণ ধ্বংস করছে ইরান!

  • পরমাণু স্থাপনার সর্বশেষ স্যাটেলাইট ছবিতে আভাস

ইরানের এক বিতর্কিত সামরিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের অনুসন্ধান চালাতে দেয়ার আগেই দেশটি সম্ভবত এর অতীত পরমাণু পরীক্ষার আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। স্যাটেলাইট ছবিতে এটা দেখা যায়। খবর টেলিগ্রাফ ও ওয়েবসাইটের।

ওই পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সের সাম্প্রতিক ছবিগুলোতে ভিয়েনায় পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর পর কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থাপনাটিতে তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। সেই কমপ্লেক্সে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিল বলে পাশ্চাত্য সন্দেহ করছে।

ছবিগুলোতে পারচিন সামরিক স্থাপনায় কতকগুলো নতুন ঝুড়ি, যানবাহন ও ছড়িয়ে থাকা তেলের দৃশ্য ধরা পড়ে। এটি সেখানে ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হওয়ার আলামত হতে পারে। এতে ইরান আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের আগমনের আগেই স্থানটি পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে বলে আভাস পাওয়া যেতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক মর্যাদাশীল গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স এ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআইএস) ২৬ জুলাই ছবিগুলো তুলেছিল ও বিশ্লেষণ করেছিল।

গবেষণা সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ নতুন তৎপরতা স্পষ্টত এ উদ্বেগের জন্ম দেয় যে, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) দেশটির অতীত পরমাণু কর্মকা- যাচাইয়ের কাজটি নিষ্ফল করে দিতে ঘটনাস্থল আরও ধোয়া-মোছার চেষ্টা করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, যদিও পারচিনে ইরানের সাম্প্রতিক তৎপরতার লক্ষ্য উদ্ঘাটন করা কঠিন, কিন্তু এ নতুন তৎপরতায় কোন দোষারোপমূলক প্রমাণ যাতে না পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করার সর্বশেষ চেষ্টা হতে পারে। আইএসআইএসের বিশ্লেষক সেরিনা কেলেহার-ভার-গ্যান্টনি বলেন, সেটি সুনির্দিষ্টভাবে কি তৎপরতা তা জানা নেই। কিন্তু উদ্বেগের কথা হলো ইরান সম্ভবত অতীত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোন প্রমাণ বিলুপ্ত করে দেয়ার চেষ্টা করছে। ইরান পারচিন স্থাপনা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আবিষ্কার করেছেনÑ বুধবার প্রচারিত এমন খবরের সঙ্গে ছবিগুলো প্রকাশের ঘটনা মিল খায়। ইরান সেখানে কোন পরমাণু বোমা সম্পর্কিত উপকরণাদি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হয়। ইরান ওই অভিযোগকে ‘উদ্ভট’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটি দাবি করেছে যে, সামরিক কমপ্লেক্সে দেখতে পাওয়া তৎপরতা আশপাশের একটি রাস্তার ওপর চালু থাকা এ ব্যাপক নির্মাণ প্রকল্পের অংশবিশেষ। রাস্তাটি গত সপ্তাহে দেবে যেতে শুরু করে। পারচিনে প্রবেশ করার অনুমতিই সমগ্র পরমাণু চুক্তির অন্যতম বিতর্কিত দিক। এ বিশাল সামরিক ঘাঁটির এক ক্ষুদ্র প্রান্তে পরমাণু গবেষণা চালানো হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হয়। যেসব শর্তে আইএইএর পরিদর্শকরা সেই স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারবেন, সেগুলো আইএইএ ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক গোপন দলিলে (দ্বিপক্ষীয় চুক্তি) লিপিবদ্ধ রয়েছে।

ইরান চুক্তি সম্পর্কিত আলোচনায় জড়িত যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য পাঁচটি বিশ্ব শক্তির ওই গোপন দলিলটি দেখার কোন সুযোগ নেই। সেজন্যই কংগ্রেসের সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে, ইরানের সঙ্গে আইএইএর সই করা দলিলটি কেবল ওই দুই পক্ষের জন্যই সুবিধাপ্রদ এবং সেটি দেখার অধিকার পাশ্চাত্যের নেই। পারচিনের নতুন ছবিগুলো কংগ্রেসে কেবল এ আশঙ্কারই সৃষ্টি করবে যে, ইরান সরকার আইএইএ পরিদর্শকদের ফাঁকি দিতে এবং এটি যে কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেছিল এমন প্রমাণ লুকিয়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর। আইএইএর ডিরেক্টর ইয়ুকিয়া আমানো সিনেটরদের নতুন করে আশ্বস্ত করতে কংগ্রেসে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি জানান যে, তার সংস্থা তাদের দলিলের বিস্তারিত দিক দেখাতে পারে না। আগামী মাসে কংগ্রেসে ইরান চুক্তি নিয়ে ভোটাভুটি হবে। সেখানে রিপাবলিকানরা সম্ভবত এটি প্রত্যাখ্যান করে একটি প্রস্তাব করবেন।