১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেপাল ও ভারতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে

  • আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা গবেষকদের

নেপালে এ বছরের এপ্রিলে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার লোক নিহত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নেপালের পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের মধ্যবর্তী এলাকায় আরও ব্যাপক ভূমিকম্পের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমেই। নেচার জিওসায়েন্স এ্যান্ড সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন উপাত্তে এক তথ্যের উল্লেখ করা হয়। খবর বিবিসি অন লাইনের।

প্রকাশিত এ নতুন উপাত্তে বলা হয়, এপ্রিলের ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের চাপ ভূগর্ভে পুরোটা এখনও মিলিয়ে যায়নি এবং তা পশ্চিম দিকে সরে গেছে কিছুটা। গবেষকরা বলেছেন, এ এলাকায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনফিলিপ্পি এভুয়েক বলেছেন, এখন কোন ভূকম্পনের সৃষ্টি হলে জনসংখ্যা ঘনত্বের কারণে তা হবে বিপর্যয়পূর্ণ। তিনি বিবিসিকে বলেন, বিষয়টার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আজ ভূমিকম্প ঘটলে তা এক বিপর্যয় ডেকে আনবে। কারণ জনসংখ্যার ঘনত্ব কেবল নেপালের পশ্চিমাঞ্চলেই নয়, ভারতের উত্তরাঞ্চলে গঙ্গা-সমতল এলাকাও। নেপালে এ বছরের প্রথমদিকে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পে নিহত হয়েছে প্রায় ৯ হাজার মানুষ এবং আহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজার হাজার লোক। এ ভূকম্পনটি ঘটে ভূতত্ত্ববিষয়ক সাংঘর্ষিক জোনে যেখানে টেকটোনিক প্লেট উত্তরে ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লেটকে ধাক্কা দিচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ মাটি বছরে গড়ে দু’সেন্টিমিটার সরে যাচ্ছে। ভারতীয় প্লেট উত্তরে ইউরোপীয় প্লেটের দিকে সরে যাচ্ছে। ফল্ট লাইন বরাবর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে কয়েক দশক ধরে। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর কাছে এ ফল্ট লাইনকে মেইন হিমালয়ান থ্রাস্ট ফল্ট বলে অভিহিত করা হয়। এ এলাকায় দুটি প্লেটের মধ্যে সীমারেখার অবলুপ্তি ঘটেছে এবং এগুলোর ভগ্নাংশের মধ্যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে বড় ধরনের ভূমিকম্পের। অধ্যাপক জিনফিলিপ্পি বলেন, এ আশঙ্কা এড়াবার সর্বনিম্ন সাবধানতা অবলম্বন হচ্ছে, এলাকায় ছোটছোট ভবন নির্মাণ করা যেগুলো উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পকে রোধ করতে সমর্থ হবে। তারপরও ২৫ এপ্রিলের ভূমিকম্প এ অদমিত চাপের অংশবিশেষই প্রকাশ করছে কেবল।

অধ্যাপক বলেন, পুরো লেকড জোনে ভূকম্পন হলে তা হবে অত্যন্ত বড় ধরনের ভূমিকম্প। যদিও গবেষকরা মনে করেন, ভূগর্ভে কোন কোন চাপ নেপালে পোখারার পশ্চিমাঞ্চল থেকে ভারতে দিল্লীর উত্তরাঞ্চলের দিকে সরে যাবে। এর আগে সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্প ঘটেছে ১৫০৫-এ এবং যে ভূমিকম্পে ৮০ লাখ ৫০ হাজরের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গবেষকরা বলেন, নতুন করে যে চাপের সৃষ্টি হয়েছে তা এর মধ্যেই উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।