১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাহায্য করা অপরাধ হলে সাজা পেতেও রাজি আছি ॥ সুষমা

  • মানবিকতা এত গোপনে কেন ॥ কংগ্রেস

বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণের মুখে নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়েও ব্যর্থ হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সংসদ বিরোধীশূন্য হলেও রাজনীতির মাঠে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে কোন সুযোগ রাখেনি প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতারা কটাক্ষের সুরেই বলছেন, সুষমা গোল করবেন কী? উনি নিজেই তো ‘লাল কার্ড’ দেখে বসে রয়েছেন! বৃহস্পতিবার সংসদের বাইরে নাগা চুক্তি নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী নরেন্দু মোদি সরকারের ‘ঔদ্ধত্য’ নিয়ে কথা বলেছেন। লোকসভায় তাদের ২৫ সাংসদের সাসপেনশনের মেয়াদ শেষ হল শুক্রবার। সোমবার থেকে লোকসভায় ফের ঝড় তুলতে তৈরি হচ্ছে কংগ্রেস। খবর আনন্দবাজর অনলাইনের।

শুক্রবার রাজ্যসভার প্রস্তুতি সেরে ফেলছে কংগ্রেস। তৈরি হয়ে থাকে বিজেপিও। কংগ্রেসের বক্তব্য, শুক্রবার সাধারণত ‘প্রাইভেট মেম্বার বিল’ নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু বিরোধীদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সরকার পক্ষ শুক্রবার কিছু বিল পাস করানোর চেষ্টা করতে পারে। অন্যদিকে বিজেপি সূত্রের খবর, বিতর্কিত নয় এমন কিছু বিল পাস করাতে চাইছে সরকার। তাতে সফল হলে জিএসটি বিল নিয়ে ফের আসরে নামা হবে। এ দিন লোকসভায় এসে ‘গ্রহের দশা’র কথা বলে, ‘রামচরিতমানস’ আউড়ে, ‘অসুস্থকে সাহায্য করা যদি অপরাধ, তা হলে আমি অপরাধ করেছি, তার জন্য সাজা ভুগতেও রাজি’ জাতীয় সংলাপের আশ্রয় নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাননি সুষমা। বিশ মিনিটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আবেগঘন বক্তৃতায় একইসঙ্গে ছিল সোনিয়াকেও আক্রমণ। সুষমার কথায়, ‘ললিত মোদির স্ত্রী নির্দোষ, কোন আইন ভাঙেননি। আমি সোনিয়াকে প্রশ্ন করতে চাই, আমার জায়গায় থাকলে উনি কী করতেন?’ সুষমার এ দিনের বক্তব্যের সারমর্ম হলো, তিনি ললিত মোদিকে ছাড়পত্র দেয়ার কোন অনুরোধ বা সুপারিশ ব্রিটিশ সরকারকে করেননি। যেটি বলেছেন, এর জন্য দু’দেশের সম্পর্কে ফারাক পড়বে না। আইন মেনেই ললিত মোদিকে ছাড় দিয়েছে ব্রিটেন। সুষমার বক্তব্য নিয়েই আলোচনা করতে পারে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা। কিন্তু তা যে হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে কংগ্রেস। তাছাড়া এই মুহূর্তে সড়কে নেমে হট্টগোল করা ও বিজেপিবিরোধী আন্দোলনেই বেশি লাভ। তাই নেতারা টিভির পর্দায় দেখে সুষমার বক্তব্যের ফাঁকগুলো নিমেষে জরিপ করে ফেলেছেন। আনন্দ শর্মা বলছেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি শুধু খারিজ করছি না, ছিঁড়ে কুটি কুটি করে ফেলতে চাইছি!’ কেন? ‘মানবিকতার যুক্তি খাটছে কোথায়? মন্ত্রীর কীসের এত স্বার্থ?’ লিবিয়ায় আটকেপড়া ভারতীয়কে সাহায্য করলে যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী টুইট করে জানাতে খামতি রাখেন না, তিনি কেন লন্ডনে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্রসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর থেকে ললিত মোদির বিষয়টি গোপন করেছিলেন? মানবিকতা এত গোপনে কেন? এদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, সুষমার সুপারিশের ভিত্তিতেই ললিত মোদিকে ভিসা দেয় ব্রিটিশ সরকার।